Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / ভারতের লোকসভায় বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল পাস

ভারতের লোকসভায় বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল পাস

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : বিরোধীরা অসাংবিধানিক বললেও সাত ঘণ্টা বিতর্ক শেষে গতকাল সোমবার মধ্যরাতে ভারতের লোকসভায় বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল-২০১৯ (সিএবি) পাস হয়েছে ।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, এই আইনের সংশোধনের ফলে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে শরণার্থী হিসেবে যাওয়া অমুসলিমদের ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকবে। কিন্তু এ আইনের সঙ্গে ভারতীয় মুসলিমদের কোনো সম্পর্ক নেই, তাদের কোনো সমস্যা হবে না। এখন দ্রুত সারা দেশে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) করা হবে বলেও জানিয়ে দেন এ বিজেপি নেতা। খবর এনডিটিভি।

পরে ভোটাভুটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিলটি পাস হয়। বিলটির পক্ষে ভোট পড়ে ৩১১টি। অপর দিকে বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৮০ জন। লোকসভার পর এবার রাজ্যসভায় বিলটি পাস হলে তা আইনে পরিণত হবে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল-২০১৯’এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তবে সেখানে মুসলিমদের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

এ নাগরিকত্ব বিলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে ভারতের লোকসভায় প্রায় সবকটি বিরোধী দল। এর মধ্যে রয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, এনসিপি, সিপিএম, সিপিআই, মুসলিম লিগ, এমআইএম, তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি।

আর বিজেপির সঙ্গে বিলের পক্ষে রয়েছে অকালি, বিজেডি, ওয়াইএসআর কংগ্রেস, জেডি-ইউ। কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত সমর্থন দিয়েছে শিবসেনা। সম্প্রতি তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকার গঠন নিয়ে বিজেপির সঙ্গে এ দলটির তিক্ততা বেড়েছে।

গতকাল সোমবার সংসদে বিলটি উপস্থাপন করতেই সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের অধীররঞ্জন চৌধুরী, শশী তারুর, গৌরব গগৈ, তৃণমূলের সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, এমআইএম-এর আসাদুদ্দিন ওয়াইসি, মুসলিম লিগের পি কে কুনহালিকুট্টিরা তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য রাখেন। অমিত শাহও বারবার দাঁড়িয়ে সেসব আপত্তির জবাব দেয়ার চেষ্টা করেন।

এ বিল সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ করে নয়, এতে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন তৈরি হবে না বলে বারবার দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত অমিত শাহ বলেছেন, ধর্মের ভিত্তিতে দেশ বিভাজন হয়েছে। সেই কারণে এখন ধর্মের ভিত্তিতে সেই বিভাজনের রাজনীতি করতে হচ্ছে তাদের। গোটা বিলের পেছনে মহম্মদ আলি জিন্নার দ্বিজাতিতত্ত্ব মেনে কংগ্রেসের দেশ ভাগে রাজি হওয়াকেই দায়ী করেছেন তিনি। শাহ বলেন, ‘১৯৫০ সালের নেহরু-লিয়াকত চুক্তি যদি সফল ভাবে বাস্তবায়িত হত, তা হলে ওই বিল আনার প্রয়োজন হত না।’

লোকসভায় সিএবি পাসের পরে সমস্ত বিরোধী দল ও অমিত শাহকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আগামী বুধবার রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব বিল উপস্থাপন করা হতে পারে।

এদিকে ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় সদ্য পাস হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধন বিলকে ‘ভুল পথের বিপজ্জনক মোড়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। বিলটি ভারতের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে পাস হলে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিও জানিয়েছে কমিশন।

এর আগে ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনে উল্লেখ ছিল, কমপক্ষে ১১ বছর ভারতে থাকলেই কেবল কোনো ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। নতুন বিলে ওই সময় কমিয়ে ছয় বছর করা হয়েছে।

এদিকে বিলটি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, সেটি ভারতের সংবিধানের ধর্ম নিরপেক্ষতাকে লঙ্ঘন করে। এছাড়া সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে শুধু অমুসলিমদের নাগরিকত্বের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, এর মাধ্যমে সংবিধানের কোনো অবমাননা হবে না, বরং শরণার্থীদের মুক্তি দেওয়ার একমাত্র রাস্তা হলো এই বিল।

গতকাল সোমবার সকাল থেকেই বিলটির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ সংলগ্ন ভারতীয় রাজ্য আসাম ও ত্রিপুরা। এ বিল আগেও একবার পার্লামেন্টে পেশ করা হয়। তবে সে সময় আসামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে বিক্ষোভের মুখে সেটি পাস করানো যায়নি।

x

Check Also

জীবন বিমা খাতে বকেয়া দাবির পাহাড়, আস্থার সংকটে পুরো সেক্টর

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক বিমাকে বলা হয় বিপদের বন্ধু—দুর্যোগ, অনিশ্চয়তা কিংবা জীবনের কঠিন সময়ে আর্থিক সুরক্ষার এক ...