Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

এমএনএ প্রতিবেদক

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর আগে রাত ১১টা ৫৪ মিনিটে তিনি শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান। ‘অমর একুশে’র ঐতিহাসিক গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি… আমি কি ভুলিতে পারি’ বাজতে থাকলে তিনি ধীর পদক্ষেপে বেদির দিকে এগিয়ে যান এবং শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাত ১২টা ৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীসহ উপস্থিত সবাই দুই হাত তুলে ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের শহীদ এবং ভাষা শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। একই সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর জন্যও দোয়া করা হয়। দেশ ও জনগণের কল্যাণ এবং শান্তি কামনা করা হয় বিশেষ প্রার্থনায়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি পুনরায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।

রাত ১২টা ২২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনার ত্যাগ করেন। তাঁকে বিদায় জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান এবং আয়োজন কমিটির সমন্বয়ক মো. মোর্শেদ হাসান খান।

পরে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।

এ ছাড়া জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ খালি পায়ে, হাতে ফুল নিয়ে এবং ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের আবহে শহীদ মিনারে সমবেত হন। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে তারা গভীর শ্রদ্ধা জানান।

x

Check Also

দীর্ঘ ২৫ বছরেও শেষ হয়নি রমনা বটমূলের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হামলা মামলার বিচার

বিশেষ প্রতিবেদন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে যখন সারাদেশে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে, তখনও অনেকের মনে ফিরে ...