এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : চট্টগ্রাম টেস্টে ৭২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই মারাত্মক বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। একে একে সৌম্য সরকার, তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সাকিব আল হাসান, নাসির হোসেন ও সাব্বির রহমান ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেলে টাইগারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে অস্ট্রেলিয়া। ফল আজ বৃহস্পতিবার টেস্টের চতুর্থ দিন কঠিন পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য।
চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিন এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১২৩ রান। টাইগারদের লিড এখন মাত্র ৫১ রান। মুশফিক ২৯ এবং মমিনুল ১৯ রান নিয়ে ব্যাট করছেন। সৌম্য ৯, তামিম ১২, ইমরুল ১৫, সাকিব ২, নাসির ৫ ও সাব্বির ২৪ রান করে।
অস্ট্রেলিয়ার লিডটা ৭২-এ আটকে রেখে যে মনস্তাত্ত্বিক সান্ত্বনা বাংলাদেশ কুড়িয়েছিল, তা মুহূর্তেই হাওয়া হয়ে যায় তামিম-সৌম্যদের ব্যাটিংয়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যস্ত বাংলাদেশ।
নাথান লিওন, স্টিভেন ও’কিফ এবং অ্যাস্টন অ্যাগার যেভাবে একের পর এক উইকেট তুলে নিতে শুরু করেছিলেন, তাতে শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল সবাই- অস্ট্রেলিয়ার ৭২ রানের লিড টপকাতে পারবে তো বাংলাদেশ! শেষ পর্যন্ত সেটা সম্ভব হয় কেবল মুশফিক আর সাব্বিরের দৃঢ়তায়। অস্ট্রেলিয়ার ৭২ রান টপকে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১ রানের লিড নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ।
স্টিভেন ও’কিফকে বাউন্ডারি মেরেই বাংলাদেশকে লিড এনে দেন সাব্বির। এখন পর্যন্ত ২৬ রানের জুটি গড়লেন মুশফিক আর মমিনুল। এ দু’জনের ব্যাটেই এখন স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
দলীয় ১১ রানের মাথায় অফ স্টাম্পের ওপর বলে খোঁচা দিয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার। প্যাট কামিন্সের বলে স্লিপে সৌম্যর ক্যাচ নেন ম্যাট রেনশ।
৯ রানে সৌম্য ফেরার পর ইমরুল আর তামিম কখনোই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে পারেনি। ৩২ রানের সময় নাথান লায়নের বলে অযথা বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন তামিম। ইমরুল ৩৯ রানের মাথায় সেই লায়নের বলেই গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে ক্যাচ দেন।
কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংয়ে ৪ নম্বরে নাসির হোসেনকে নামিয়ে দিয়ে একটা ‘ফাটকা’ খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর ফাটকা ব্যর্থ। স্টিভ ও’কিফির অফস্টাম্পের বাইরের একটি বলে খোঁচা দিয়ে আউট হন নাসির।
তবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা ছিল সাকিব আল হাসানের ফিরে যাওয়া। লায়নের বলেই ওয়ার্নারকে ক্যাচ দিয়েছেন সাকিব। বাংলাদেশের বিপক্ষে এবারের সফরে মোট ১৯ উইকেট পেলেন লায়ন।
৯৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা বাংলাদেশকে কিছুটা আলো দেখাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুুল হক। অধিনায়ক মুশফিক ২৯ আর মুমিনুল ১৯ রানে ব্যাট করছিলেন। ২৪ রানে আউট হন সাব্বির রহমান।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে এই ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়েছেন লায়ন। একটি করে উইকেট কামিন্স ও ও’কিফির।
রথম ইনিংসে ৩০৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার ৯ উইকেটে ৩৭৭ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে অস্ট্রেলিয়া। দিনের দ্বিতীয় ওভারে নাথান লায়নকে আউট করে বাংলাদেশের মুখে হাসি ফোটান মোস্তাফিজ। ৭২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ।
ডেভিড ওয়ার্নার, পিটার হ্যান্ডসকম্ব ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলরা বুধবার তৃতীয় দিন যেভাবে ব্যাটিং করছিলেন তাতে করে বাংলাদেশ শিবিরে হতাশা নেমে আসছিল। একসময় ৩ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার ২৯৮ রান করে ফেলেছিল। ক্রিজে সেঞ্চুরিয়ান ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে ছিলেন দারুণ খেলতে থাকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ১৫০ থেকে ২০০ রানের লিড অস্ট্রেলিয়ার নাগালের মধ্যেই ছিল। কিন্তু এরপরই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং নৈপুণ্যে অজিদের লিড লাগামের বাইরে যেতে দেয়নি টাইগাররা।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ার্নার ১২৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। ষষ্ঠ অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান হিসেবে এশিয়ার মাটিতে ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন এই বাঁহাতি ওপেনার। এছাড়া সফরকারীদের হয়ে পিটার হ্যান্ডসকম্ব ৮২, স্টিভেন স্মিথ ৫৮ এবং ম্যাক্সওয়েল করেন ৩৮ রান। অ্যাস্টন অ্যাগার ২২ এবং হিলটন কার্টরাইট করেন ১৮ রান।
বাংলাদেশের হয়ে মোস্তাফিজ সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন। মেহেদী হাসান মিরাজ পান তিনটি উইকেট। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন সাকিব ও তাইজুল ইসলাম।
বাংলাদেশ একাদশ : তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাসির হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ : ডেভিড ওয়ার্নার, ম্যাট রেনশ, স্টিভেন স্মিথ, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, হিলটন কার্টরাইট, ম্যাথু ওয়েড, অ্যাস্টন অ্যাগার, স্টিভ ও’কিফ, প্যাট কামিন্স ও নাথায় লায়ন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক





