Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / মালিবাগে বাসচাপায় ২ পোশাক শ্রমিক নিহত

মালিবাগে বাসচাপায় ২ পোশাক শ্রমিক নিহত

এমএনএ রিপোর্ট : রাজধানীর মালিবাগে বাসচাপায় দুই নারী পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতদের সহকর্মীরা মালিবাগ-রামপুরা সড়ক অবরোধ করে বেপরোয়াভাবে ভাঙচুর চালাচ্ছেন। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল বন্ধ।

এ সময় তারা রাস্তায় চলাচলকারী বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ব্যাপক ভাঙচুর করেন। তারা প্রচেষ্টা পরিবহনের একটি বাসে আগুন দিয়েছেন ও দশটির বেশি বাসে ভাঙচুর চালিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

শ্রমিকরা এ পর্যন্ত একটি স্বাধীন, দু’টি সুপ্রভাত, একটি তুরাগ ও একটি তরঙ্গ প্লাস, একটি নূরে মক্কা পরিবহন, একটি আকাশ সুপ্রভাত, দু’টি রাইদা ও প্রচেষ্টা পরিবহনের বাসে ভাঙচুর চালিয়েছে।

এসময় প্রচেষ্টা পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। বাসটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

পুলিশকে আবুল হোটেলের সামনে অবস্থান নিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

শ্রমিকরা এ এলাকার সড়কসহ আশেপাশের অলিগলিতে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দিচ্ছে না।

নিহতরা হলেন- নাহিদ পারভীন পলি ও মিম। তাদের বাসা মালিবাগ পদ্মা সিনেমা হলের বিপরীতে। তারা এমএইচ গার্মেন্টে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

আজ মঙ্গলবার বেলা দেড়টায় মালিবাগ রেলগেট থেকে আবুল হোটেলের মাঝামাঝি জায়গায় এ ঘটনাটি ঘটে। প্রথমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পলি মারা যায়। পরবর্তীতে মিমের মরদেহ নিয়ে আসা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি সদরঘাট থেকে গাজীপুর যাচ্ছিল।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, দুপুর দেড়টার দিকে মালিবাগের চৌধুরীপাড়ার রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন মিম ও পারভিন। এ সময় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস তাদের দুজনকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই মিম মারা যায়। পুলিশ সার্জেন্ট সুব্রত কুমার দে পারভিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুব্রত কুমার দে বলেন, তিনি পারভিনকে আহত অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তরুণী দুজনের লাশ মর্গে রাখা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যাচ্ছিল না। পরে তাদের সহকর্মীরা মর্গে এসে লাশ শনাক্ত করেন।

সুব্রত কুমার দে জানান, এ ঘটনায় সুপ্রভাত বাসের চালক ও বাসটি আটক করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

এদিকে মালিবাগ থেকে রামপুরাগামী যানবাহনকে ডাইভারশন দিয়ে মগবাজার থেকে হাতিরঝিলের ভেতর দিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ।

নিহত পলির বাড়ি নীলফামারী সৈয়দপুর উপজেলায়। সে মগবাজার পূর্ব নয়াটোলায় একটি রুমে ভাড়া থাকতো। তার সঙ্গেই থাকতো মিম।

সহকর্মী সুমি সাংবাদিকদের জানান, গার্মেন্টের কোয়ালিটি বিভাগে কাজ করতো পলি ও মিম। দুপুরে খাবার সময় কর্মস্থল থেকে বাসায় যাওয়ার পথে রাস্তা পারাপারের সময় সুপ্রভাত নামে বাসের ধাক্কায় মারা যায় তারা।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মোহাম্মদ ফজলুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, ঘাতক বাসটি জব্দ ও চালককে আটক করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

x

Check Also

জীবন বিমা খাতে বকেয়া দাবির পাহাড়, আস্থার সংকটে পুরো সেক্টর

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক বিমাকে বলা হয় বিপদের বন্ধু—দুর্যোগ, অনিশ্চয়তা কিংবা জীবনের কঠিন সময়ে আর্থিক সুরক্ষার এক ...