মুম্বাইয়ে ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জনের মৃত্যু
Posted by: News Desk
December 29, 2017
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের মুম্বাইয়ে একটি ভবনের টপ ফ্লোরে ‘ওয়ান এবাভ’ নামক একটি রেস্তোরায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অনেকে। নিহতদের মধ্যে ১২ জনই নারী। নিহতদের বয়স ২০ থেকে ৩০ এর মধ্যে।
গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে মুম্বাইয়ের লোয়ার প্যারেল এলাকার কমলা মিলস নামের একটি বাণিজ্যিক ভবনের ছাদের একটি রেস্তোরাঁয় জন্মদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আর সেখান থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
বন্ধুদের নিয়ে নিজের জন্মদিন উদযাপন করতে এসে লাশ হওয়া ২৮ বছরের তরুণী খুশবু মেহতার দাদা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “আমার নাতনি মারা গেছে। আজ তার জন্মদিন ছিল। কেউই রেস্তোরাঁটির সুরক্ষা ব্যবস্থা আছে কিনা তা দেখার প্রয়োজন অনুভব করেনি… সেখানে আগুন নেভানোর কোনো ধরনের যন্ত্রপাতি ছিল না। এমনকি দুর্ঘটনায় বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিকঠাক রাস্তাও ছিল না। প্রশাসন এবং পুলিশ কিছুই করেনি।”
এনডিটিভি জানায়, খুশবুর স্বামী তার মৃতদেহ সনাক্ত করেছে।
খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই রেস্তোরাঁয় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা পুরো চারতলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ভবনটির ছাদে প্রায় দেড়শ মানুষ ছিলেন।
আগুন ‘ওয়ান এবাভ’ রেস্তোরাঁ থেকে পাশের ‘মোজো বিস্ট্রো’ তে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টা আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ‘ওয়ান এবাভ’ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খুশবু মেহতা নামে ২৮ বছর বয়সী এক নারী তার জন্মদিন উদযাপন করতে বন্ধু-স্বজনদের নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। সুলভা অরোরা নামে আরেক চিকিৎসকও ছিলেন সেখানে।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, খুশবু মেহতা যে কেকটি কাটছেন সেখানে লেখা রয়েছে, ‘হ্যাপিয়েস্ট বার্থ ডে খুশি’।
এনডিটিভি জানায়, আগুন লাগার আগমুহূর্তে ওই রেস্তোরাঁয় জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় ছুটোছুটি করতে গিয়ে এবং ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে ১৫জনের প্রাণহানি ঘটে।
এরমধ্যে ১২জনই নারী। যাদের বয়স ২০ থেকে ৩০ এর মধ্যে বলে জানা গেছে। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
বেশিরভাগ মৃতদেহ রেস্তোরাঁটিতে নারীদের ওয়াশরুমের কাছে পাওয়া গেছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আগুন থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ডা. সুলভা কে জি আরোরা টুইটারে তার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন।
তিনি লেখেন, “আমরা কিছু বুঝে উঠার আগেই পুরো এলাকা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ধোঁয়ায় ভরে যায়। সবাই দৌড়াচ্ছিল, কেউ একজন আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। লোকজন আমাকে মাড়িয়ে দিয়ে দৌড়াচ্ছিল। এক পর্যায়ে জলন্ত সিলিং আমার উপর ভেঙ্গে পড়ে।
“কিভাবে আমি বেঁচে গেলাম তা এখনও জানি না। নিশ্চয়ই কোনো শক্তি আমাকে বাঁচিয়েছে।”
মুম্বাইয়ে হতাহতের ঘটনায় ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম কোবিন্দ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন তারা।
মৃত্যু অগ্নিকাণ্ডে ভবনে ১৫ জনের মুম্বাইয়ে 2017-12-29