এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভারত সফর নিয়ে বিএনপি নেতাদের সমালোচনার দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, যারা দেশ বিক্রির কথা বলে তারা অর্বাচীন।
চার দিনের নয়াদিল্লি সফরের চতুর্থ ও শেষ দিন আজ সোমবার দুপুরে ভারত-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। দিল্লির হোটেল তাজ প্যালেসের শাহজাহান হলে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে দুই দেশের চার শতাধিক ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে বাংলায় কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভারত সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপির দেশ বেচে দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, এখানে আসার আগে কত কথাই শুনলাম। দেশ বেচে দেওয়ার কথা শুনলাম। যারা দেশ বেচে দেওয়ার কথা বলেন, তাঁরা অর্বাচীন অথবা তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বলে গেছেন, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব। কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব করে যা সমাধান করা যায়, তা ঝগড়া করে সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী থাকলে একটু-আধটু সমস্যা থাকবে। কিন্তু আমরা আলোচনার মাধ্যমে সব সমাধান করছি। যেভাবে পদ্মার পানি বণ্টন আর স্থল সীমান্ত হাটে সমস্যার সমাধান হয়েছে।
বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৬৫ সালের আগে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগাগের যে পথগুলো খোলা ছিল তার সবগুলো চালু করার চেষ্টা চলছে।
তিনি দেশে দারিদ্র্যের হার হ্রাসের ব্যাপারে বলেন, আমাদের দেশের মানুষ লড়াই করতে জানে। পাঁচ কোটি মানুষ আজ দারিদ্র্যসীমা থেকে উঠে এসেছে।
তিনি তার সঙ্গে যাওয়া ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমার সঙ্গে বাংলাদেশি যতো ব্যবসায়ী আসতে চেয়েছিলেন সবাইকেই এনেছি। আশা করি আপনারা এ সফরের বাইরে গিয়ে কিছু বিনিয়োগ খুঁজবেন। শুধু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়লে হবে না, দেখতে হবে দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতাও যেন বাড়ে। আমাদের ব্যবসায়ী যারা সেটা নিশ্চয় তারা বুঝতে পারবেন। এখন আপনারাই ঠিক করুন। দেশ বেচে দিলাম, নাকি নিয়ে ফিরলাম, তা আপনারাই বলবেন।
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা অনেক ধনী ব্যবসায়ী। বিদেশিদের জন্য আমরা ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করছি। আমরা আপনাদের বিনিয়োগ সফল করতে সবরকম ব্যবস্থা নেবো, আপনারা আসুন।
ভারতের তিনটি ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীরা সম্মেলনে অংশ নেন।
মতবিনিময়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গোদরেজ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট আদি গোদরেজ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন অ্যাসোচ্যাম’র প্রেসিডেন্ট সন্দীপ জাযোদিয়া, এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট আবদুল মাতলুব আহমাদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন ভারতের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আর ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সাবেক এফআইসিসিআই প্রেসিডেন্ট হর্ষ মারিওয়ালা।
সম্মেলনের আগে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রধান উপদেষ্টা সুশান্ত সেন ইউএনবিকে বলেন, আমরা বাংলাদেশিদের খুব ঘনিষ্ঠ মনে করি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা সহজ করতে পারলে আমরা খুশি হব। তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক সফরের কোনো বিকল্প নেই। ভারতের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে যাওয়া প্রয়োজন। তাঁরা চান, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও ভারতে আসুক।
সুশান্ত সেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ভারতে বিনিয়োগ করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ভারসাম্য প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ প্রচুর পরিমাণে রপ্তানি করতে পারে। বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে চাই। কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই।
সিসিআইয়ের অর্থনৈতিক নীতি ও গবেষণা–বিষয়ক পরিচালক শোভা আহুজা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সিসিআইয়ের আঞ্চলিক পরিচালক মনীশ মোহন বলেন, সম্মেলনে দুই পক্ষের মধ্যে কিছু সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।
এর আগে গত শনিবার দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এক ব্রিফিংয়ে জানান, দু’দেশের মধ্যে ৩৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে ২২টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই সচিবের ব্রিফিং থেকে স্পষ্ট হয় ২২টি চুক্তি এবং ১৪টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক পাঁচটি, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা সম্পর্কিত চারটি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্যাটেলাইট ব্যবহার বিষয়ক তিনটি চুক্তি রয়েছে। এর বাইরে বাণিজ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি, সীমান্ত নিরাপত্তা প্রভৃতি বিষয়ে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
চার দিনের সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সোমবার বিকেলে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

