যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন
Posted by: News Desk
July 23, 2019
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসন। ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টি তাদের নতুন নেতা হিসেবে তাকে বেছে নিয়েছে। এর মাধ্যমে থেরেসা মের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন বরিস জনসন।
লন্ডনের সাবেক মেয়র জনসন ৬৬ শতাংশ টরি সদস্যের সমর্থন পেয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরমি হান্টকে হারিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন। দলের প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার সদস্যের মধ্যে ৯২ হাজার ১৫৩ জন জনসনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আর জেরমি হান্ট পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৬ সদস্যের সমর্থন।
দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তার বিজয় নিয়ে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন থেরেসা মের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করা এই টরি নেতা। তিনি বলেন, ‘ব্রেক্সিট কার্যকর হবে, দেশ একত্রিত হবে এবং জেরমি করবিনকে হারানো হবে।’
তেরেসা মের পরবর্তী উত্তরসূরি হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদের জটিল অংক বরিস জনসনকেই মেলাতে হবে। সেজন্য তার হাতে সময় আছে তিন মাস।
দলে বিদ্রোহের মুখে তেরেসা মে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়ায় নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে ভোটের আয়োজন করে কনজারভেটিভ পার্টি। সেই দৌড়ে শেষ পর্যন্ত সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট।
তাদের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে গতকাল সোমবার বিকাল পর্যন্ত ভোট দেন কনজারভেটিভ পার্টির ১ লাখ ৬০ হাজার নিবন্ধিত সমর্থক। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সেই ভোটের ফলাফলে বিজয়ী হিসেবে বরিস জনসনের নাম ঘোষণা করা হলে তার ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যায়।
ব্রেক্সিট ব্যর্থতায় দলে বিদ্রোহের মুখে সরে যেতে বাধ্য হওয়া তেরেসা মে আগামীকালবুধবার বিকালে রানির সঙ্গে দেখা করে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র দেবেন। এর পর পরই তার উত্তরসূরি বাকিংহাম প্যালেস ঘুরে এসে অসীন হবেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদে।
ব্রেক্সিট নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। রাজনৈতিক এই অচলাবস্থায় নিজ দলের ভেতর গ্রহণযোগ্যতা না থাকায় তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। জনসন আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন, নেতা নির্বাচিত হলে আগামী অক্টোবরের বেধে দেয়া সময়সীমার মধ্যে যেকেনো মূল্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করবেন তিনি।
২০১৬ সালের গণভোটে ব্রিটিশরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসার পক্ষে রায় দিলে ব্রেক্সিট কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ব্রেক্সিট কার্যকরের বিষয়ে একটি চুক্তি করলেও তাতে সম্মতি দেয়নি দেশটির পার্লামেন্ট। চুক্তি পাসে ব্যর্থ থেরেসা মে গত ৭ জুন পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
এদিকে থেরেসা মের মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ডসহ আরও দুজন মন্ত্রী গতকাল বলেন, যদি জনসনের অধীনে কাজ করতে হয় তাহলে আগামী ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে তারা পদত্যাগ করবেন কারণ জনসন চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট কার্যকরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে মের পরিকল্পনার সঙ্গে একমত হতে না পারায় বছর খানেক আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন জনসন। এরপর নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত হন তিনি। দলের ভেতর বিরোধীতার মুখে পদত্যাগ করা থেরেসা মের সরকারের মেয়াদ ২০২২ সাল পর্যন্ত।
প্রধানমন্ত্রী নতুন যুক্তরাজ্যের বরিস জনসন 2019-07-23