আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৭ ডলার বা ১৫ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড অয়েল (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ১৩ ডলার বা ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়ায় তেলের বাজারে এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে “গভীর, বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা” শুরু হয়েছে। আলোচনার অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগকে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই স্থগিতাদেশ পুরোপুরি আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভরশীল।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলার পর থেকে প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল সীমিত করে তেহরান, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটেছে। একই সঙ্গে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, নতুন করে হামলা হলে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইন স্থাপন করা হবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হতে পারে।
ইরান ইতোমধ্যে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত করা যায়নি এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও তা এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। আলোচনায় অগ্রগতি না হলে বা নতুন করে সংঘাত শুরু হলে জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

