Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / রফতানি নীতি রফতানিকারকদের নানা সুবিধা দিয়ে ঘেরা
অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা রফতানিকারকদের জন্

রফতানি নীতি রফতানিকারকদের নানা সুবিধা দিয়ে ঘেরা

এমএনএ শিল্প ও বাণিজ্য ডেস্ক : প্রস্তাবিত নতুন রফতানি নীতিতে সব খাতের জন্য কম বেশি সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা রফতানিকারকদের জন্য হতে পারে সহায়ক। এই ধরনের সুবিধা দেশের রফতানি খাতে পট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে একটি অনন্য অবদান রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। পাট থেকে শুরু করে প্রাথমিক কৃষিপণ্য, চা শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ভেষজসামগ্রী, দেশীয় উপাদানে তৈরি হস্তশিল্প, প্লাস্টিক খাত, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, ওষুধ শিল্প, হালকা প্রকৌশল পণ্য, মৃৎশিল্পসহ আরও অনেক খাত।

এ কথা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না এই পাট শিল্প নিয়ে দেশের স্বাধীনতার প্রশ্ন ওঠে। কারণ এই পাট ছিল প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একমাত্র অবলম্বন। অথচ তৎকালীন পাকিস্তান সরকার এই পাটের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সবটাই নিয়ে যেত সে দেশে। তবে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর এই পাটকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে সহায়তা দেওয়া হয়। নতুন প্রস্তাবিত রফতানি নীতিতে পাটের ক্ষেত্রে ৭টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে- বিদেশে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের বাজার সম্প্রসারণের জন্য বৈদেশিক মিশনগুলোকে গতিশীল করতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশে পাটের বাজার জাত থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মোংলা বন্দর থেকে বিভিন্ন রুটে ফিডার ভেসেল চালু করা থেকে শুরু করে পাটজাত রফতানিকারকদের বাণিজ্যিক ব্যাংকে অল্প সুদে বা সার্ভিস চার্জে ঋণ সুবিধার বিবেচনা করা, বহুমুখীকরণে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা, দেশের সব বিভাগে ডিজাইন সেন্টার স্থাপন করা ও আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে চাষ করার জন্য চাষিদের উৎসাহিত করা।

 

প্রস্তাবিত নতুন রফতানি নীতিতে প্রাথমিক কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে ১৫টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- রফতানিযোগ্য শাকসবজি, আলু, পান, আমসহ উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্যের মান রক্ষার জন্য উত্তম কৃষি পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হবে। রফতানিকারকদের জন্য খাস জমি বরাদ্দ দেওয়া থেকে শুরু করে রফতানি পল্লী গঠন করা বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর পাশাপাশি ফল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত প্যাকেজিং সামগ্রীর দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত করা হবে। রফতানিকারকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পান রফতানির ক্ষেত্রে স্যালমোনিলা মুক্ত পান পাওয়ার বিষয়টি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কৃষিভিত্তিক পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে সব ধরনের সংক্রমণমুক্ত পণ্য রফতানির জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রাথমিক সংগ্রহ সেন্টার ও উৎপাদন এলাকাভিত্তিক প্যাকিং হাউস গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে রফতানি নীতিতে।

চলতি বছর চায়ের উৎপাদন শীর্ষে পর্যায়ে পৌঁছায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই শিল্প এখনও অবহেলিত বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত রফতানি নীতিতে চা বাগানের আওতায় অনাবাদি জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগের বিষয়সহ ১৩টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- রুগণ চা বাগানের পুনর্বাসন, চা বাগানের গ্যাস সংযোগ, চা বাগানের ইজারা কার্যক্রমে সহযোগিতা, চায়ের গুণগত মান উন্নয়ন ও চায়ের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ক্ষুদ্রকার খামারে চা উৎপাদনকারীদের ঋণ সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে। এ ছাড়াও বিদেশে চায়ের বাজার সম্প্রসারণ, বিদেশে বিপণন মিশন পাঠানো, বিদেশে বিপণন মিশন পাঠানোর গুরুত্ব সহকারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চা থেকে বহুমুখী পণ্য উৎপাদন ও চা রফতানিতে উৎসাহ দেওয়া হবে। রফতানি নীতিতে যে বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, চা শিল্পের উন্নয়নের জন্য ‘উন্নয়নের পথ নকশা’ তৈরি করা হয়েছে। এই নকশা বাস্তবায়নের জন্য কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

 

প্লাস্টিক খাতে ১০টি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, মুন্সীগঞ্জে সিরাজদিখানে ও বিশেষ অর্থনেতিক অঞ্চলে প্লাস্টিক শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়াও রফতানিকারকদের জন্য ইডিএফ তহবিলে অর্থ সংস্থান করা হবে। পাশাপাশি পণ্য উৎপাদনে স্বল্প সুদে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। রফতানি উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণের সহযোগিতা করা হবে। প্লাস্টিক খাতে প্রদর্শিত রফতানি আয়ে প্রচ্ছন্ন ও সরাসরি দুটোরই রফতানি আয়কে অন্তর্ভুক্তকরণ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

জাহাজ নির্মাণ শিল্প শ্রমঘন ও সম্ভাবনা খাত হিসেবে পরিচিত। এই খাতের উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এই নীতিমালার আলোকে রফতানি নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক সহজ শর্তে স্বল্পসুদে ঋণ সরবরাহের জন্য পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবিত রফতানি নীতিতে।

হালকা প্রকৌশল পণ্য এখন সবার কাছে জনপ্রিয়। এই শিল্পের উন্নয়নের জন্য ঢাকার অদূরে ‘লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাস্টার ভিলেজ’ গড়ে তোলা হবে বলে নতুন রফতানি নীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পণ্যের মান পরীক্ষার জন্য অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি ও কমন ফ্যাসিলিটিজ সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ৭টি প্রস্তাবের বিষয় হলো- উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও পণ্য উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে হালকা প্রকৌশল পণ্যের রফতানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়াও শিল্পে উন্নত প্রযুক্তি স্থাপনে স্বল্পসুদে ও সহজ শর্তে ঋণগ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে।

 

কৃষিজাত প্রক্রিয়াজাত পণ্যের জন্য ৪টি বিষয় বেশ গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে রফতানি নীতিতে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ, রফতানি বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক মানের টেস্টিং, সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা ও মানসম্পন্ন প্যাকেজিং ব্যবস্থা প্রবর্তনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওষুধ শিল্পের জন্য ৫টি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেÑ এই শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে পাসবুক পদ্ধতি অথবা ভিন্নতর পদ্ধতি চালু করার বিষয়টি পরীক্ষা করা হবে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে প্রেক্ষাপটে ওষুধ শিল্পের কাঁচামালের জোগান প্রতিযোগিতামূলক ও নির্বিঘ্ন করার জন্য এপিআই খাতের টেকসই উন্নয়নের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সমন্বিত বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ভেষজসামগ্রী খাতের সার্বিক উন্নয়নের জন্য হারবাল প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এ ছাড়াও মানসম্পন্ন প্রয়োজনীয় এক্রিডেটেড সার্টিফিকেশন ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে রফতানি নীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশীয় উপাদানে হস্ত শিল্প ক্ষেত্রে ৭টির বেশি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে কারুপল্লী স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে রফতানিনীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। হস্তশিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনের বাণিজ্যিক উৎপাদন উৎসাহিত করা হবে।

 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শিল্পজাত পণ্যের ডিসপ্লে সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে হস্তজাত পণ্যের উৎকর্ষ সাধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৃৎশিল্প একটি দেশের অন্যতম খাত হিসেবে বিবেচিত না হলেও, প্রস্তাবিত রফতানি নীতিতে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যে কারণে ৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, এই শিল্প উৎপাদন ও রফতানিতে উৎসাহ দেওয়া হবে। এই শিল্পের উন্নয়নের জন্য ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।

অন্যান্য খাতের মধ্যে রয়েছে- স্বর্ণ, রৌপ্য, আমদানি করা অমসৃণ হীরা, খেলনা, ইমিটেশন, রফতানিমুখী সিরামিক, মানসম্মত অর্গানিক পণ্যসহ অর্গানিক পণ্যতে বেশ কিছু বিষয় রফতানি নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রফতানি নীতিতে উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা ক্ষেত্রে ১৪টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ ব্যাংক, কাস্টমস, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ও স্থলবন্দরগুলো গতিশীলতা আনা। শিল্পে ব্যবহার বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসে চার্জ ভর্তুকি সহকারে যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কৃষিপণ্য রফতানির জন্য বিমানে অতিরিক্ত স্পেস বরাদ্দসহ আলাদা কার্গো ব্যবস্থা ও ভাড়া যুক্তিসঙ্গত হারে কমিয়ে রাখা, মহিলা উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া, প্রতিবছর একটি পণ্যকে ‘প্রোডাক্ট অব দি ইয়ার’ ঘোষণা অব্যাহত রাখাসহ অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

x

Check Also

আমদানির কারণে আমনের দরপতনে বোরো নিয়েও শঙ্কা, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কায় কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি বিদেশ থেকে চাল আমদানির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুম শেষে আমন ধানের দামে ...