Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / রশি ছিঁড়ে হাতিটি আবার জলাশয়ে

রশি ছিঁড়ে হাতিটি আবার জলাশয়ে

জামালপুর প্রতিনিধি : পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে উদ্ধারকারী দলের সতর্ক অবস্থানের পরও রশি ছিঁড়ে জলাশয়ে আবারও নেমেছে বুনোহাতিটি। এ নিয়ে অত্র এলাকায় টান টান অবস্থা বিরাজ করছে।

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় চার টন ওজনের হাতিটিকে অজ্ঞান করা হয়।

Elephant-2এরপর একটি আমগাছের সঙ্গে চার পায়ে রশি ও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় ভারতের আসাম থেকে বানের পানিতে আসা বুনোহাতিটি।

কিন্তু সতর্ক অবস্থানের পরও আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাঁধনমুক্ত হয়ে হাতিটি কাছের একটি জলাশয়ে নেমে পড়েছে। পানির বাইরে কেবল শুঁড় বের করে রয়েছে।

তারা জানান, এই মুহুর্তে হাতিটি জলাশয়ে অবস্থান করছে। জনতার ভিড়ে অন্যত্র যেতে পারছে না এটি।

ঢাকার বন অধিদফতরের সাবেক উপপ্রধান বন সংরক্ষক তপন কুমার দে বলেন, হাতিটিকে ডান্ডা বেড়ি পরানোর চেষ্টা চলছে। ডাঙায় তোলা গেলেই তাকে বেড়ি পরানো হবে।

হাতিটিকে দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় অনেক। এলাকায় পুলিশ ও র‍্যাব অবস্থান করছে।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, পুকুরে ঝাঁপ দেওয়ার আগ পর্যন্ত হাতিটি ডাঙায় একটি আমগাছের সঙ্গে বাঁধা ছিল। গত বৃহস্পতিবার হাতিটিকে উদ্ধার করে ওই আমগাছে বাঁধা হয়। গতকাল তার হুঁশ ফেরে। চিকিৎসা চলছিল তার। পুরোপুরি সুস্থ হলে এবং স্বাভাবিক আচরণ করলে বন্যহাতিটিকে গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান উদ্ধারকারীরা।

Elephant

৪৫ দিন আগে হাতিটি বানের পানিতে আসাম থেকে ভেসে কুড়িগ্রাম হয়ে সরিষাবাড়ী আসে। গত ১৬ দিন ধরে এটি উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নে অবস্থান করছে।

কয়েক দফা উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে এটিকে ক্যাপসুল পাউডার প্রজেক্টর গান দিয়ে মেটাল ডার্ট ছুড়ে অজ্ঞান করা সম্ভব হয়।

এর আগে গত বুধবার প্রথমে পল্গাস্টিক ডার্ট ছুড়লে তা হাতির গায়ে লেগে বেঁকে যায়।

গত বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে মেটাল ডার্টটি হাতির ডান পাঁজরে বিদ্ধ হলে এটি জামালপুরের সরিষাবাড়ির কয়ড়া গ্রামের সালামের বাড়ির পাশে ডোবায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। পরে পাঁচ টনের বেশি ওজনের পুরুষ হাতিটিকে কয়েকশ’ জনতা জলাশয় থেকে লোকালয়ে টেনে তোলেন।

তারপর হাতির দুটি করে পা একসঙ্গে রশি ও শিকল দিয়ে বেঁধে একটি আমগাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। বিকেলেই হাতিটির জ্ঞান ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তারপরও জ্ঞান না ফেরায় কক্সবাজার সাফারি পার্কের সহকারী ভেটেরিনারি সার্জন এটিকে নিউ হামবেল ইনজেকশন দেন। সেই সঙ্গে প্রচুর স্যালাইন ও গ্গ্নুকোজ খাওয়ানো হয়।

এতে গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে এটির জ্ঞান ফিরে আসে। সামনের পায়ের শিকল খুলে দেওয়ায় হাতিটি উঠে দাঁড়ায়।

Elephant-3ভেটেরিনারি সার্জন সৈয়দ হোসেন জানান, হাতিটিকে বশে আনতে ৫-৭ দিন সময় লাগতে পারে। বশ মানানো গেলে মাহুতের সাহায্যে হাতিটিকে রাস্তার কাছাকাছি নেয়া হবে। তারপর পরিবহনে করে ঢাকার সাফারি পার্ক কিংবা শেরপুরের গজনিতে ছেড়ে দেয়া হবে।

গত ২৬ জুন বন্যার পানিতে ভেসে ভারতের আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্তে আসে বুনো হাতিটি। ৯ জুলাই পর্যন্ত সেটি কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ছিল। ১০ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত ছিল গাইবান্ধায়। ১৪ থেকে ১৬ জুলাই জামালপুরে, ১৭ থেকে ১৮ জুলাই বগুড়ায়, ১৯ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে ছিল।

৩১ জুলাই থেকে আবার জামালপুরে সরিষাবাড়ীর কামরাবাদ ইউনিয়নে চলে আসে হাতিটি। তখন থেকে এখানেই অবস্থান করছে হাতিটি। এরই মধ্যে গত ৩ আগস্ট ভারতীয় একটি দল হাতিটি উদ্ধার করতে আসলেও ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়। এরপর দেশীয় ব্যবস্থায় শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। হাতি উদ্ধার নিয়ে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গত কয়েক দিন ধরে ছিল টান টান উত্তেজনা। চেতনানাশক ছোড়ার পর হাতিটির জলাশয়ে পড়ে যাওয়া, জনতার তৎপরতায় সেখান থেকে উদ্ধার পাওয়া, এসব ঘটনা নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

প্রায় দেড় মাস দেশের পাঁচ জেলায় ঘুরে বেড়ানো ভারতীয় বুনো হাতিটির নাম দেয়া হয়েছে ‘বঙ্গবাহাদুর’।

x

Check Also

আমদানির কারণে আমনের দরপতনে বোরো নিয়েও শঙ্কা, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কায় কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি বিদেশ থেকে চাল আমদানির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুম শেষে আমন ধানের দামে ...