এমএনএ প্রতিবেদক
দেশের রাজনীতিতে ইসলামি দলগুলোর নারী অংশগ্রহণ ও সাংগঠনিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। মাঠের আন্দোলন, নির্বাচনি প্রস্তুতি এবং সাংগঠনিক বিস্তারের অংশ হিসেবে দলগুলো এখন নারী শাখা ও ছাত্রী সংগঠনকে সক্রিয় ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামি দলগুলোর জোটভিত্তিক সক্রিয়তা বাড়ায় নারী সংগঠনগুলোকেও নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
খেলাফত মজলিসের নারী শাখা পুনর্গঠনের উদ্যোগ
দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর নারী কার্যক্রমকে আবার সংগঠিত করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার ঢাকায় দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক–এর বাসায় এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
দলটির নেতারা জানান, আগে ‘মহিলা মজলিস’ নামে যে সাংগঠনিক কাঠামো ছিল, তা প্রায় দুই দশক ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এবার সেটিকে নতুনভাবে ‘নারী শাখা’ হিসেবে কেন্দ্রীয় কাঠামোর অধীনে সংগঠিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক হাসান জুনায়েদ বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় নারীদের ধর্মীয় ও তালিমভিত্তিক কার্যক্রম থাকলেও তা এতদিন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে ছিল না। এখন এসব কার্যক্রমকে দলীয় শৃঙ্খলার আওতায় এনে সমন্বিতভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হলেও কয়েকজন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলকে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিমের নেতৃত্বে নতুন কাঠামো গড়ে উঠতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।
জামায়াতের শক্তিশালী নারী ও ছাত্রী সংগঠন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম সংগঠিত নারী উইং পরিচালনা করছে। দলীয় তথ্য অনুযায়ী, তাদের মোট সাংগঠনিক শক্তির প্রায় ৪০ শতাংশই নারী সদস্য। নারী শাখার কাঠামো সহযোগী সদস্য, কর্মী ও রুকন—এই তিন স্তরে বিভক্ত। বর্তমানে প্রায় অর্ধলাখ নারী রুকন এবং চার লাখের বেশি কর্মী এই শাখার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
দলটির নারী বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রী সংগঠনেও বিপুলসংখ্যক কর্মী রয়েছে। দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও উপজেলা শহরে তাদের কমিটি রয়েছে।
জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দিকা বলেন, অতীতের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যেও নারী ও ছাত্রী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। বর্তমানে তারা আরও স্বাধীনভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
নির্বাচনি রাজনীতিতেও নারী অংশগ্রহণ বাড়ানোর দাবি করছে দলটি। তাদের তথ্যমতে, বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলের নারীরা প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
ইসলামী আন্দোলনের ছাত্রী উইং গঠনের প্রস্তুতি
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারী ভোটার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রভাব বাড়াতে আলাদা ছাত্রী সংগঠন গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ঈদুল আজহার পর নতুন এই সংগঠনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
দলটির নেতারা বলছেন, নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা, ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নারী নেতৃত্ব তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ইসলামী আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক ফজলুল করিম মারুফ বলেন, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে এবং তাদের উপযোগী কর্মসূচি পরিচালনার জন্য পৃথক ছাত্রী উইং প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।
অন্যান্য ইসলামি দলের কার্যক্রম
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন–এর নেতারাও জানিয়েছেন, তাদের নারী বিভাগ থাকলেও সেটি এখনো খুব শক্তিশালী নয়। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কিছু কমিটি ও কার্যক্রম থাকলেও তা সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে খেলাফত মজলিস জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তাদের অধীনে ইসলামী মহিলা মজলিস ও ইসলামী ছাত্রী মজলিস নামে আলাদা সংগঠন রয়েছে। এসব সংগঠন ধর্মীয় শিক্ষা, নারী অধিকার ও সামাজিক সচেতনতা নিয়ে কাজ করে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনীতিতে ইসলামি দলগুলোর সক্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী অংশগ্রহণও এখন কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচনি রাজনীতি ও সাংগঠনিক বিস্তারের বাস্তবতায় নারী ও তরুণীদের সম্পৃক্ত করতে দলগুলো নতুন পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

