রাজশাহী ব্যুরো অফিস : মালদ্বীপের মডেল-ছাত্রী রাউদা আতিফকে (২০) রাজশাহীতেই দাফন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে তাদের এই সিদ্ধান্তর কথা জানান। পরে দুপুরে তাকে নগরীর হেতেম খা কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আজ শনিবার রাউদার মরদেহ মালদ্বীপে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ কী কারণে রাজশাহীতেই দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার তা তারা জানায়নি।
নগরীর শাহমখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীতেই তাকে দাফনের ব্যাপারে তাদের মতামত দেন। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লাশ দাফন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওসি জানান, মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে রাউদার পরিবারের সদস্যরা এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
পুলিশের সহযোগিতায় রাউদার পরিবারের সদস্যরা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে লাশ দাফন করেন।
এ সময় রাউদার বাবা, মা, ভাই ও বোনসহ পরিবারের ১১ সদস্য এবং রাজশাহীর সহপাঠীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। তিন সদস্যর বোর্ড গঠন করে তার ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আমীর জাফর বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আইশা শান শাকির ও রাউদার বাবা মোহাম্মাদ আতিফ। ওই বৈঠক শেষে রাউদার মরদেহর ময়নাতদন্তর অনুমতি দেন। বেলা ২টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ হাসপাতালের মর্গেই রাখা হয়। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের প্রতিনিধিদল ও রাতে রাউদার বাবা, মা ও ভাই রাজশাহী পৌঁছান।
গত বুধবার দুপুরে ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে মালদ্বীপের শিক্ষার্থী রাউদার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ জানিয়েছিল সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড় বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে রাউদা আত্মহত্যা করে। তবে পুলিশ পৌঁছার আগেই তার সহপাঠীরা ঝুলন্ত রাউদার লাশ নামিয়ে ফেলে।
রাউদা রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তিনি ছাত্রী হোস্টেলে বিদেশি ব্লকে ২০৯ নম্বর কক্ষে গত বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে থাকতেন। তিনি মালদ্বীপের মালে এলাকার মোহাম্মাদ আতিফ এর মেয়ে। গত বছরের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত ভারতের ভোগ সাময়িকীর প্রচ্ছদে কয়েকজন মডেল তারকার সঙ্গে রাউদার ছবি ছাপা হয়।
২০১৬ সালের অক্টোবরে বিখ্যাত ভোগ ইন্ডিয়া সাময়িকীর নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সংখ্যায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মডেলদের নিয়ে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বৈচিত্র্যে সৌন্দর্য উদযাপন (সেলিব্রটিং বিউটি ইন ডাইভার্সিটি) শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছিলেন মালদ্বীপের নীলনয়না এই মডেল। উঠতি মডেল হিসেবে রাউদার আন্তর্জাতিক খ্যাতি ছিল।
রাউদার লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছিল। এরপর ওই দিনই নগরীর শাহমখদুম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

