এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলমানরা দেশে ফিরলে তাদেরকে ‘স্বাগত’ জানাব।
তবে রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ চালানোর অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।
শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাখাইন অঞ্চলের সমস্যা ও অশান্তির কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু সেখানে যা ঘটেছে, তাকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ বলতে তার আপত্তি।
বহু বছর ধরে গৃহবন্দি থাকার পর রাষ্ট্র ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছানো এই নেত্রী বিবিসির বিশেষ প্রতিনিধি ফারজেল কিয়েনকে বলেন, আমি মনে করি না সেখানে কোনো ধরনের জাতিগত নির্মূল অভিযান চলছে। সেখানে যা হচ্ছে তাকে ‘এথনিক ক্লিনজিং’ বললে অনেক বেশি বলা হবে।
গত শতকের চল্লিশের দশকের পর আরাকানে বৌদ্ধ মগ ও রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে বহুবার জাতিগত দাঙ্গা লেগেছে। সামরিক শাসনামলে মিয়ানমারে ওই রাজ্যে চলেছে দফায় দফায় দমন অভিযান। রোহিঙ্গাদের বিভিন্নসংগঠন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের পথেও হেঁটেছে।
মিয়ানমারে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে গত শতকের ৮০ এর দশক থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শিরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। তাদের ফিরিয়ে নিতে বার বার আহ্বান জানানো হলেও মিয়ানমারের সাড়া পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে গতবছর অক্টোবরে চেকপোস্টে হামলায় ৯ সীমান্ত পুলিশ নিহত হওয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনী এবং সীমান্তরক্ষী পুলিশ একযোগে রোহিঙ্গাদের দমনে অভিযানে নামে। এরপর আরও অন্তত ৭০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সু চি বলেন, তারা যদি ফিরে আসে, তবে তারা নিরাপত্তা পাবে। এখন সিদ্ধান্ত নেবে তারা। অনেকে এর মধ্যে ফিরেও এসেছে।
আমরা তাদের স্বাগত জানাই, তারা ফিরে এলে আমরা স্বাগত জানাব।
সু চি বলেন, সেখানে বহুমাত্রিক সংঘাত চলছে। এমনকি মুসলমানরাও অন্য মুসলিমানদের মারছে- যদি তারা মনে করে যে ওই মুসলমান কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করছে। আপনি যেভাবে বলছেন, সেভাবে সেখানে জাতিগত দমনাভিযান চলছে না; এ বিষয়টি আসলে দুই পক্ষের বিবাদ, আর আমরা সেই বিরোধ মেটাতে চাই।
বিবিসি লিখেছে, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চায় না। আর সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার পর তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ হতে হয়।
জাতিসংঘ গতমাসে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সামরিক বাহিনীর অভিযানের সময় হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিলেও মিয়ানমান সরকার শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এসব বিষয়ে ‘নীরব থাকা’য় অনেকেই সু চির সমালোচনা করেছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন সামরিক জান্তার হাতে বন্দি অবস্থাতেও গণতন্ত্রের প্রশ্নে অনমনীয় থাকায় যে খ্যাতি সু চি অর্জন করেছিলেন, তা ম্লান হয়ে পড়ছে ওই ‘নীরবতার’ কারণে।
এসব অভিযোগের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সুচিকে নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে, এমনকি নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

