এমএনএ শিল্প ও বাণিজ্য ডেস্কঃ বগুড়ার আদমদীঘিতে বিক্রয় মূল্য অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধির কারণে ছোট, বড় হাট-বাজারে সবজি বিক্রি কমে গেছে।
এদিকে, শীতকালীন বিভিন্ন জাতের সবজি হাট-বাজারে উঠলেও দাম কমছে না কোনে পণ্যেরই। আমদানি সংকট দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা জাত ভেদে সবজি বিক্রি করছেন ১২০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।
একই কারণ দেখিয়ে বিক্রেতারা সরকারের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে কেজিতে ১০ টাকা বেশিতে আলু বিক্রি করছেন। আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৯০ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি হচ্ছে।
শনিবার আদমদীঘি, সান্তাহার হাটে ও নসরতপুর মুরইল বাজারে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোন সবজিই গত ১০ দিন ধরে ক্রেতারা ৬০ টাকার কমে কিনতে পারেননি। লাগামহীন সবজির মূল্যে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। ফলে আনেকই চাহিদামতো সবজি কিনতে পারছেন না।
আদমদীঘি সদরের বাসিন্দা ও সিএনজিচালক মিঠু জানান, দুই হাট ধরে ৬০ টাকার কমে কোন সবজি কিনতে পারছি না। যে মুলা এলাকার গরুও খায় না তাও ৬০ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে প্রয়োজনের অর্ধেক করে সকল সবজিই কিনতে হল।
একই কথা বললেন হাটে আসা কোমারপুর গ্রামের বেলাল, সুদিন গ্রামের রানা, শিয়াশন গ্রামের আকরামসহ অনেকে।
এদিন হাটে-বাজারে শিম ১২০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, কপি ৬০ টাকা, আলু ৪৫ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৯০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
খুচরা ব্যবসায়ী আকতার হোসেন জানান, সব ধরনের সবজিই বেশি দামে কিনে ২/৪ টাকা লাভে বিক্রি করছি। মূল্য বৃদ্ধিতে আমাদের হাত নেই। দাম বাড়ার কারণে বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে। ক্রেতারা কম পরিমাণে সবজি কিনছেন।
তিলেকপুর থেকে সান্তাহার হাটে আসা ব্যবসায়ী মাজেদ আলী জানান, গত দুই হাট ধরে অবিক্রিত মাল ফেরত নিয়ে যেতে হচ্ছে। অথচ দাম কমের সময় একই পরিমাণ সব মাল বিক্রি হয়ে যেত। বেশি দামে কেনা সবজি তো লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে পারি না।
তিনি আরও জানান, জিনিসপত্র বিক্রি কম হওয়ায় সব ব্যবসায়ীর একই অবস্থা।
এদিকে, শীতকালীন কিছু সবজি বাজারে উঠলেও এর দামে কোন প্রভাব পড়েনি। শীতের সবজি কপি, শিম, মুলা, বেগুন, পালং লাল শাক চরা দামে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির পাইকার আনোয়ার হোসেন জানান, অধিকাংশ দোকানদার নওগাঁ ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন পাইকারী বাজার থেকে মালপত্র ক্রয় করেন। এরপর পরিবহন খরচ দিয়ে এ বছর আমাদের পোষাচ্ছেনা।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি পণ্যের আমদানি কম, দাম বেশি। এ বছর অতি বৃষ্টিসহ বিভিন্ন দুর্যোগে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ। এ কারণে পাইকারী বাজারে সবজির আমদানি কম।
সবজির বাজার ঊর্ধ্বগতির কারণ হিসেবে উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক রানা জানান, ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে এসব জিনিসের দাম বাড়ছে। হাট-বাজারে প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় মূল্য লাগামহীন হয়ে পড়ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সীমা শারমিন জানান, উপজেলার হাট-বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশি দামে পণ্য বিক্রির অপরাধে কিছু ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

