সমঝোতার ভিত্তিতে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন : জয়শঙ্কর
Posted by: News Desk
August 20, 2019
এমএনএ রিপোর্ট : ঢাকা সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, দুই দেশের জন্য লাভজনক হয়—এমনটা বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে ৫৪টি নদীর অভিন্ন পানিবণ্টনের বিষয়ে একটি ফর্মুলা বের করতে বাংলাদেশ-ভারত রাজি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড: একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন এস জয়শঙ্কর।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আজ মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
এর আগে সকালে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করবেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ঢাকায় সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর।
আজ মঙ্গলবার সকালে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি।
এ সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও এ অঞ্চলে বঙ্গবন্ধুর অবদান অপরিমেয় এবং তা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার স্মৃতি অক্ষয় হয়ে থাকবে।
জয়শঙ্কর বলেন, ‘দুই দেশের ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনে আমরা প্রস্তুত। তিস্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তিস্তার বিষয়ে আমাদের একটি অবস্থান আছে। এ বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর কোনও পরিবর্তন হয়নি।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব ধরনের উন্নয়নমূলক কাজে ভারতের সর্বাত্মক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
রোহিঙ্গাদের বিষয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘ আমরা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। এই মানুষদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ-ভারত ও মিয়ানমারের জাতীয় স্বার্থে দরকার।’ ভারতের আসামে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ নাগরিকত্ব সমস্যায় রয়েছে, এ নিয়ে বৈঠকে কোনও আলোচনা হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আসামে নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি নিয়ে কথা বলার কিছু নেই।’
তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কি না- জানতে চাইলে জয়শঙ্কর বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এর কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
সেইসঙ্গে ভারতের আসামে যে ৪০ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে আছে সেটি বাংলাদেশকে প্রভাবিত করবে কিনা- এমন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’
নিরাপত্তা ইস্যুতে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে আলোচনা করেছি এবং নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা বাড়লে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে দমনে সহযোগিতা বাড়বে।’ জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেক সরকারি ও বেসরকারি খাত নিয়ে আলোচনা চলছে। আমরা আরো আলোচনা করবো।’
গতকাল সোমবার রাত ৯টায় ঢাকায় পৌঁছান জয়শঙ্কর। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ঢাকায় আসতে পেরে আনন্দিত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এটিই আমার প্রথম সফর। আমি আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) অত্যন্ত ফলপ্রসূ দিন প্রত্যাশা করছি। আমাদের খুব ভালো ও খুব জোরালো সম্পর্ক আছে। এই সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে আমাদের অনেক বিষয় আলোচনার আছে।’
জানা গেছে, ভারতে বিজেপি সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটিই প্রথম ঢাকা সফর। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদারে কাজ করতেই ঢাকা সফর করছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। নয়াদিল্লি থেকে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় পৌঁছেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ সকালে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর সকাল ১১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নেতৃত্বে দুই দেশের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ বিকেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। রাতে তিনি ভারতীয় হাইকমিশনার আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরের আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ভারত সফরে যাচ্ছেন।
জয়শঙ্কর সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেবেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া শেখ হাসিনার সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি এ সফরে নির্ধারণ করা হতে পারে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর ইতিপূর্বে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব থাকাকালে বাংলাদেশ সফর করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আলোকে জয়শঙ্কর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সফর করেছেন ভুটান।
এবার বাংলাদেশ সফর করছেন। মোদির ঘনিষ্ঠ ও অনুগত হিসেবে পরিচিত জয়শঙ্কর দেশটির বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী একজন মন্ত্রী।
তার সফরকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিসহ অভিন্ন নদীর পানির ভাগাভাগি, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ভারতের সহযোগিতা, ভারতের ঋণের বিষয়সহ সার্বিক দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা হবে।
ভারতের বিজেপি সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটিই প্রথম ঢাকা সফর। আগামীকাল বুধবার সকালে কাঠমাণ্ডুর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি।
গত মে মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জয়শঙ্করের এটিই প্রথম বাংলাদেশ সফর। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এটি সৌজন্য সফর। এই সফরে বিদ্যমান জোরালো সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরো জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে। আগামী অক্টোবর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়েও আলোচনা হবে আজ।
এস জয়শঙ্কর ভিত্তিতে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন সমঝোতার 2019-08-20