সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের রিট খারিজ
Posted by: News Desk
March 5, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা সংস্কার চেয়ে করা রিট আবেদন বাতিল করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার দুপুরে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো.আতাউর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আবেদনটি খারিজ করে দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী এখলাছ উদ্দিন ভূইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।
এখলাস উদ্দিন ভুইয়া জানান, রিট আবেদনে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনি, প্রতিবন্ধী, নারী, জেলা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটাসহ সব ধরনের কোটা পদ্ধতি বাতিল চাওয়া হয়েছিল।
একই সঙ্গে কোটা পদ্ধতি প্রবর্তন করে ১৯৭২ সালের ৫ নভেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপন পুনর্মূল্যায়ন চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আবেদনে ভুল আছে বলে তা বাতিল করে দেয়া হয়।
গত ৩১ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আনিসুর রহমান মীর, ঢাকার কুমিল্লা সাংবাদিক সমিতির সদস্য সচিব ও বাসসের সিনিয়র রিপোর্টার দিদারুল আলম এবং দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সিনিয়র সাব-এডিটর আবদুল ওয়াদুদ রিট আবেদনটি করেছিলেন।
রিট আবেদনে বলা হয়েছিল, ১৯৭২ সালের ৫ নভেম্বর এক নির্বাহী আদেশে সরকারি, আধাসরকারি, প্রতিরক্ষা এবং জাতীয়করণকৃত প্রতিষ্ঠানে জেলা ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা এবং ১০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের জন্য কোটা পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়।
পরে বিভিন্ন সময়ে এই কোটা পদ্ধতির সংস্কার, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনি ৩০ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ কোটা পদ্ধতি চালু আছে।
বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সব মিলিয়ে শতকরা ৫৬ ভাগ কোটা পদ্ধতি রয়েছে। আর বাকি ৪৪ ভাগ মেধা অনুসারে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ৩০ লাখ। এর মধ্যে ৪৭ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী। কোটার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা টানা আন্দোলন করছেন। অবশ্য কোটার পক্ষেও কিছু সংগঠন আন্দোলন করছেন।
এ ছাড়া ১৯৭২ সালে যখন কোটা পদ্ধতি চালু হয় তখন দেশে জেলার সংখ্যা ছিল ১৭টি, এখন জেলা ৬৪টি। এ অবস্থায় কোটা পদ্ধতি চালু রাখা বৈষম্যমূলক ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের রিট খারিজ 2018-03-05