Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস আর নেই

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস আর নেই

এমএনএ রিপোর্ট : সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস (৯১) আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বনানীর বাসভবন থেকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই রাত পৌনে ৯টার দিকে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি ৬ ছেলে, ২ মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সাবেক এই রাষ্ট্রপতির ছেলে মাহমুদ হাসান বিশ্বাসের বরাত দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।
বাংলাদেশের ১১তম রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমানের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
গত ১৭ জুন স্ত্রী হোসনে আরা রহমান ইন্তেকাল করার পর অনেকটা নিঃসঙ্গই ছিলেন সাবেক এ রাষ্ট্রপতি। মৃত্যুকালে হোসনে আরার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি ছিলেন বর্তমান পর্যটনমন্ত্রী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের ফুফাতো বোন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, আজ শনিবার (০৪ নভেম্বর) সকালে হেলিকপ্টারে করে মরহুমের মরদেহ বরিশালে নেয়া হবে। সেখানে সকাল সাড়ে ৯টায় বরিশাল জেলা স্কুল মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা, বাদ জোহর হাইকোর্টের সামনে তৃতীয় জানাজা এবং বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে চতুর্থ জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
আবদুর রহমান বিশ্বাস বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি। তিনি ১৯২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বরিশালের শায়েস্তাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে ওই সংসদ আবদুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন।
বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদে ১৯২৬ সালে পয়লা সেপ্টেম্বর আব্দুর রহমান বিশ্বাসের জন্ম। বরিশাল শহরেই তিনি স্কুল ও কলেজজীবন শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (সম্মান) ও ইতিহাস এবং আইনে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
প্রথমে তিনি স্থানীয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এই কাজের জন্য সরকার ১৯৫৮ সালে তাকে সেচ্ছাসেবী সমাজ কর্মী হিসেবে ‘ভেটেরান সোশ্যাল ওয়ার্কার’ স্বীকৃতি প্রদান করে।
ষাটের দশকে কিছুদিন বাবুগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৯৫০-এর দশকে বরিশালে আইন পেশায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি ১৯৬২ এবং ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন।
সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের সংসদীয় সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের ২২ তম অধিবেশনে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ কালে তিনি স্বাধীনতার বিরোধী ছিলেন। তাঁর আনুগত্য ছিল পাকিস্তান সরকারের প্রতি। তিনি ১৯৭৪ এবং ১৯৭৬ সালে দুবার বরিশাল বার সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৭৭ সালে তিনি বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯-৮০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় পাট মন্ত্রী এবং ১৯৮১-৮২ সালে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় দলে তার পদ ছিল ভাইস চেয়ারম্যান।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ৪ এপ্রিল ১৯৯১ তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান।
তিনি রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার আগেই তার নির্বাচনী আসনে বড় ছেলে এহতেশামুল হক নাসিম ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালের ১২ মার্চ ঢাকায় এক বিয়ের দাওয়াতে খাবারের বিষক্রিয়ায় মারা যান নাসিম। এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। আমৃত্যু তিনি নিভৃত জীবনযাপন করেন।
ঢাকার গুলশান-এর বাসায় কোরআন শরিফ তিলাওয়াত, আল্লাহর জিকির ও মর্নিং ওয়াক করে দিন কাটতো আবদুর রহমান বিশ্বাসের। বরিশাল শহরে তার পৈতৃক বাড়িতে কেয়ারটেকার ছাড়া আর কেউ থাকে না।
আবদুর রহমান বিশ্বাসের আট ছেলেমেয়ের মধ্যে এহতেশামুল হক নাসিম ছাড়া বাকিরা হলেন- শামসুদ্দোজা কালাম বিশ্বাস, এহসানুল কবির জামাল বিশ্বাস, মিজানুর রহমান এ হাসান মনু বিশ্বাস, আঁখি বিশ্বাস, জামিরুল রহমান শিবলী বিশ্বাস, রাখি বিশ্বাস ও রোমেন বিশ্বাস রুবেল।
x

Check Also

চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে ১৮ এপ্রিল, আজ রাতে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি সৌদি সরকারের নির্ধারিত হজ ব্যবস্থাপনা রোডম্যাপ অনুযায়ী চলতি বছরের হজ ফ্লাইট আগামী ১৮ ...