এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : শেষ পর্যন্ত হেরেই গেল টাইগাররা । সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সিরিজ জেতা হলো না। শ্রীলংকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জয়ে ২৮১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৪ ওভার ৩ বলে ২১০ রানে গুটিয়ে গেল টাইগারের ইনিংস। সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে গেল প্রথমবারের মত বিদেশের মাটিতে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন সাকিব আল হাসান। এছাড়া অভিষেক হাফসেঞ্চুরির দেখা পান মেহেদি হাসান মিরাজ।
তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭০ রানে হেরে গেল বাংলাদেশ। তবে হারলেও ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করেছে টাইগাররা। কারণ প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয় পায় মাশরাফিরা। কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডেটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়।
যদিও এ ম্যাচে টাইগারদের হারানোর কিছু ছিলো না। ছিলো না প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে কোনো ভয়ও। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় সিরিজ জয়ের মিশন নিয়েই মাঠে নেমেছিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কিন্তু শেষটা এমন বিবর্ণ হবে কে জানতো! দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া এক হারে লঙ্কানদের বিপক্ষে ওয়ানডে মিশন শেষ করলো মাশরাফিবাহিনী।
এটা সত্যি যে সিরিজ খোয়াতে হয়নি টাইগারদের। ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। কিন্তু লঙ্কানদের কাছে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডের ৭০ রানের এই হার রাজ্যের হতাশাই উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ দলকে। সামনে ছিলো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো কোনো সিরিজ জয়ের হাতছানি। কিন্তু করুণ এক হারে সেটা শেষ করতে হলো টেস্টে সিরিজের মতেই ড্র দিয়ে।
আজ শনিবার কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে হলো না ইতিহাস গড়াও। এই ম্যাচটি জিততে পারলে শ্রীলঙ্কার ৩১ বছরের রাজত্বে অবসান ঘটতো। ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠের কোনো ওয়ানডে সিরিজে জয়হীন থাকতো লঙ্কানরা। বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার বদৌলতে আরো একবার ঘরের মাঠে নিজেদের রেকর্ড সমৃদ্ধ করলো লঙ্কানরা।
সিরিজ জয়ের স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশ এদিন ব্যাট হাতে উল্টো পথেই হেঁটেছে। সামান্য লড়াইটুকুও করতে পারেনি মাশরাফিবাহিনী। শ্রীলঙ্কার বোলিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্ণই করেছেন নিজেদের শততম টেস্টের পর প্রথম ওয়ানডেতেও ৯০ রানের দারুণ জয় তুলে নেয়া বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। শ্রীলঙ্কার করা ২৮০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২১০ রানেই ইনিংস শেষ বাংলাদেশের।
২৮১ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামেন দলের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। ব্যাট করতে নেমে দুঃস্বপ্নের শুরু হয় বাংলাদেশের। প্রথম ওভারেই দলীয় চার রানেই ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ওপেনার তামিম। তবে, নুয়ান কুলাসেকারা ফিরতি ক্যাচ নিয়ে উল্লাস করতে গিয়ে বল ছেড়ে দেন। মাঠের আম্পায়ার আউট না দিলেও টিভি আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত দেন। বিতর্ক ছড়িয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম (৪)।
ওপেনারকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই লঙ্কান পেসার নুয়ান কুলাসেকারার আরেকটি আঘাত। দলীয় ১০ রানের মাথায় তামিমকে কট অ্যান্ড বোল্ডে পরিণত করা কুলাসাকেরা ফিরিয়ে দেন সাব্বির রহমানকেও। কুলাসেকারার ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলটি লাফিয়ে ওঠে। তাতে সাব্বিরের ব্যাটের কাঁনায় বল লেগে উইকেটের পেছনে চান্দিমালের গ্লাভসবন্দি হন শূন্য রান করা সাব্বির।
১০ রানেই নেই দুই উইকেট। কুলাসেকারার দুই উইকেট নেয়ার দৃশ্য দেখে সুরঙ্গ লাকমলও জ্বলে উঠলেন। ডানহাতি এই পেসারের এলবির ফাঁদে পড়েন মুশফিকুর রহিম (০)। দলীয় ১১ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন মাঝ দরিয়ায়। ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুতই টপঅর্ডারের তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে লাল-সবুজরা। এমন সময় আলোক বর্তিকা হাতে হাজির হন সাকিব আল হাসান। সৌম্য সরকারকে সাথে নিয়ে লড়াই চালাতে থাকেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
এই দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাটে রানের চাকাও ঘুরছিলো দ্রুত। এই জুটিতে আসে ৭৭ রান। ১৫.১ ওভারেই বাংলাদেশকে ৮৮ রানে পৌঁছে দেন সৌম্য-সাকিব। কিন্তু এসময় দলীয় ৮৮ রানের মাথায় বিদায় নেন ব্যক্তিগত ৩৮ রান করা সৌম্য। এখান থেকেই বিবর্ণ হতে শুরু করে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের স্বপ্ন। তার ৪৪ বলের ইনিংসে ছিল তিনটি চার আর একটি ছক্কার মার। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চট্টগ্রামে ৯০ রানের ইনিংস খেলার পর এই প্রথম ওয়ানডেতে সৌম্যর ব্যাট থেকে ত্রিশোর্ধ্ব রান আসে। দিলরুয়ান পেরেরার বলে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন সৌম্য।
এরপর জুটি গড়ার চেষ্টা করেন সাকিব-মোসাদ্দেক। তবে, ইনিংসের ২৩তম ওভারের প্রথম বলে বোল্ড হন ৯ রান করা মোসাদ্দেক। সেকুজে প্রসন্নর বলে মোসাদ্দেকের বিদায়ে দলীয় ১১১ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান দলীয় ১১৮ রানের মাথায় দিলরুয়ান পেরেরার বলে ব্যক্তিগত ৫৪ রান করে ফেরেন। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চারের মার। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও উইকেটে থিতু হতে পারেননি। ইনিংসের ২৭তম ওভারে লাকমলের বলে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন ৭ রান করা মাহমুদুল্লাহ।
মেহেদী হাসান মিরাজকে সাথে নিয়ে লড়তে চাইলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ব্যক্তিগত ১৬ রান করা মাশরাফি বিন মর্তুজাকে ফেরান লেগ স্পিনার সেকেগু প্রসন্ন। নিজের বলেই ক্যাচ নিয়ে টাইগার অধিনায়ককে প্যাভিলিওনে ফেরান তিনি।
এরপর বাকিটা তাসকিন আহমেদকে সাথে নিয়ে একাই লড়াই চালিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেয়া মিরাজ। লঙ্কানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে নবম উইকেটে রেকর্ড ৫৪ রানের জুটি গড়েন মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ। কিন্তু তার ৫১ রান কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। হাফসেঞ্চুরির পর কুলাসেকেরার বলে বিদায় নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। একই ওভারে কুলাসেকেরার চতুর্থ শিকারে তাসকিন (১৪) মাঠ ছাড়লে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
এর আগে কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগারদের দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় মাঠে নামে দুই দল।
টাইগারদের বোলিং শুরু করেন মাশরাফি। তার সঙ্গে জুটি বাঁধেন মোস্তাফিজ। লঙ্কানদের ইনিংস শুরু করেন উপুল থারাঙ্গা এবং দানুসকা গুনাথিলাকা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ম্যাশের বলে ক্যাচ তুলে দেন গুনাথিলাকা। বল করে নিজেই ক্যাচটি মুঠোবন্দি করতে চেয়েছিলেন টাইগার দলপতি। হাত ফসকে মিডঅনে থাকা তামিমের দিকে বল চলে যায়। তামিমও বেশ খানিকটা দৌড়ে আসলেও ক্যাচটি নিতে পারেননি। চতুর্থ ওভারে থারাঙ্গাকে এলবির ফাঁদে ফেলে আবেদন করেন মোস্তাফিজ। তাতে আম্পায়ার কোনো সাড়া দেননি।
ইনিংসের ১১তম ওভারে প্রথম উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। টাইগারদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মেহেদি হাসান মিরাজ। আগের দুই ওভারে ১৬ রান দিলেও মাশরাফি মিরাজের ওপর আস্থা হারাননি। এই অফস্পিনার বিদায় করেন ওপেনার দানুসকা গুনাথিলাকাকে। ৩৮ বল মোকাবেলা করে তিনটি চার আর একটি ছক্কায় ব্যক্তিগত ৩৪ রান করে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। দলীয় ৭৬ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় লঙ্কানরা। মিরাজ পান মেডেন উইকেট।
অসাধারণ এক ডেলিভারিতে এরপর লঙ্কান শিবিরে আঘাত হানেন টাইগারদের গতির ঝড় তোলা তাসকিন আহমেদ। ওপেনার উপুল থারাঙ্গাকে সরাসরি বোল্ড করেন তাসকিন। সম্পূর্ণ পরাস্ত হয়ে বিদায়ের আগে থারাঙ্গার ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে তাসকিনের বল উড়িয়ে দেয় স্ট্যাম্পস। ৩৫ বলে পাঁচটি চার আর একটি ছক্কায় লঙ্কান দলপতি থারাঙ্গা তার ইনিংসটি সাজান। দলীয় ৮৭ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
দলীয় ২৬তম ওভারে আলস্যভঙ্গিতে রান নিতে গিয়ে রানআউট হন দিনেশ চান্দিমাল। ব্যক্তিগত ২১ রানে ফেরেন তিনি। ডিপপয়েন্ট থেকে তাসকিনের ফেরত পাঠানো বলে স্ট্যাম্পের বেলস তুলে দেন মুশফিক। দলীয় ১৩৬ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। চান্দিমাল-মেন্ডিস মিলে ৪৯ রান যোগ করেন। এরপর জুটি বড় করতে পারেননি মেন্ডিস আর মিলিন্দা সিরিবর্ধানে। উইকেটে থেকে ব্যক্তিগত ১২ রানে ফেরেন সিরিবর্ধানে। দুই ব্যাটসম্যানের বোঝাপড়ার ভুলের সুযোগ নিয়ে সিরিবর্ধানেকে রানআউট করে ফেরান মুশফিক। দলীয় ১৬১ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় লঙ্কানরা।
ইনিংসের ৩৭তম ওভারে মোস্তাফিজ ফেরান কুশল মেন্ডিসকে। ব্যক্তিগত ৫৪ রানে উইকেটের পেছনে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি হন ৭৬ বলে চারটি চারের সাহায্যে ইনিংস সাজানো মেন্ডিস। দলীয় ১৯৪ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেট
হারায় লঙ্কানরা। ষষ্ঠ উইকেটের দেখা পেতে টাইগারদের অপেক্ষা করতে হয় ইনিংস ৪৪তম ওভার পর্যন্ত। দলপতি মাশরাফির দারুণ এক ডেলিভারিতে তুলে মারার খেসারত দেন আসেলা গুনারত্নে। ব্যক্তিগত ৩৪ রানে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের তালুবন্দি হন তিনি। দলীয় ২১৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
ইনিংসের ৪৫তম ওভারে মোস্তাফিজ ফিরিয়ে দেন এবং সেকুজে প্রসন্নকে। মাহমুদুল্লাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন প্রসন্ন (১)। দলীয় ২৩০ রানের মাথায় সপ্তম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। থিসারা পেরেরা ব্যাট করেন বিগ শটের ওপর ভিত্তি করে। ৪০ বলে ৫২ রান করতে তিনি ৪টি চারের পাশাপাশি ১টি ছক্কা হাঁকান। শেষ দিকে তাকে সঙ্গ দেন দিলরুয়ান পেরেরা। মাশরাফির করা শেষ ওভারে বিদায় নেন দিলরুয়ান। ১৫ রানে তামিমের হাতে ধরা পড়েন। একই ওভারের পঞ্চম বলে মাশরাফির অফসাইডের বলে লেগে খোঁচা দিতে গিয়ে তাসকিনের সহজ ক্যাচে ফেরেন থিসারা পেরেরা।
তাসকিন-মেহেদি একটি করে উইকেট তুলে নেন। তিনটি উইকেট পান মাশরাফি, দুটি পান মোস্তাফিজ। উইকেট পাননি সাকিব, মোসাদ্দেক আর মাহমুদুল্লাহ।
শ্রীলঙ্কা একাদশ:
উপুল থারাঙ্গা (অধিনায়ক), দিনেশ চান্দিমাল, আসেলা গুনারত্নে, দানুসকা গুনাথিলাকা, নুয়ান কুলাসেকারার, সুরাঙ্গা লাকমল, কুশল মেন্ডিস, দিলরুয়ান পেরেরা, থিসারা পেরেরা, সেকুজে প্রসন্ন, মিলিন্দা সিরিবর্ধানে।
বাংলাদেশ একাদশ:
মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন, মুশফিকুর রহিম, মোস্তাফিজুর রহমান, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, তামিম ইকবাল, তাসকিন আহমেদ ও মেহেদি হাসান মিরাজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ২৮০/৯ (কুশল মেন্ডিস ৫৪, পেরেরা ৫২, থারাঙ্গা ৩৫, গুনাথিলাকা ৩৪, গুনারত্নে ৩৪; মাশরাফি ৩/৬৫, মোস্তাফিজ ২/৫৫, মিরাজ ১/৪৯, তাসকিন ১/৫০, সাকিব ০/৪১, মোসাদ্দেক ০/১৩, মাহমুদউল্লাহ ০/৫)
বাংলাদেশ: ৪৪.৩ ওভারে ২১০ (তামিম ৪, সৌম্য ৩৮, সাব্বির ০, মুশফিক ০, সাকিব ৫৪, মোসাদ্দেক ৯, মাহমুদউল্লাহ ৭, মিরাজ ৫১, মাশরাফি ১৬, তাসকিন ১৪, মোস্তাফিজ ১*; কুলাসেকেরা ৪/৩৭, প্রসন্ন ২/৩৩, লাকমল ২/৩৮, দিলরুয়ান ২/৩৮)
ফল: শ্রীলঙ্কা ৭০ রানে জয়ী।
সিরিজ: ১-১ সমতা।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

