ঢাকাকে বিশ্বমানের রাজধানী হিসাবে গড়ে তুলতে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রদ্বয় গত কয়েক মাসে এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা নগরবাসীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করছে- এবার বুঝি একটা কিছু হবে। এ মেগাসিটিকে উন্নত বিশ্বমানের রাজধানীতে পরিণত করার স্বপ্ন পূরণে চাই দৃঢ় সংকল্প।
জনসংখ্যার হিসাব বিবেচনায় মেগাসিটিতে পরিণত হওয়া এ মহানগরীর পদে পদে প্রকৃতই ‘এত্তা জঞ্জাল’। কেবল আবর্জনা ও যানজট নয়, আধুনিক ও প্রাণবন্ত সচল ঢাকা গড়ে তুলতে হলে অনেক ধরনের জঞ্জালই সরাতে হবে। কীভাবে তা করতে ইচ্ছুক, তারই একটি রূপরেখা গত শনিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সামনে। এ বিষয়ে তাদের পরামর্শ ও অভিমত শুনেছেন। অঙ্গীকার করেছেন কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রেখে চলার।
শিল্প-বাণিজ্যের অগ্রণী উদ্যোক্তা ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত আনিসুল হক নিজেও সক্রিয়ভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি কথার জাদুকর হিসেবে পরিচিত, যিনি নিজের স্বপ্ন ছড়িয়ে দিতে পারেন অনেকের মাঝে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে স্বপ্ন পূরণে সংবাদপত্র-বেতার-টেলিভিশনের যে অনন্য ভূমিকা, সেটা তিনি বিলক্ষণ উপলব্ধি করতে পারেন। মেয়রের কাজ যে সহজ নয়, বৈঠকে সেটা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি সুন্দর-দৃষ্টিনন্দন মহানগর গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের কাজে চাই সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব। এ উদ্দেশ্যে দুই দশকেরও বেশি আগে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্ট গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন। সে লক্ষ্য এখনও অধরা।
আমরা আশা করব, সরকার পুরনো এ প্রস্তাবটি বিবেচনায় নেবে এবং দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হবে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের সিঁড়িতে উঠে পড়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে মাথাপিছু আয়ের হিসাবে মধ্যম আয়ের দেশগুলোর সারিতে স্থান করে নেওয়া একরূপ নিশ্চিত। আর বছর পঁচিশের মধ্যে লক্ষ্য উন্নত বিশ্বে পরিণত হওয়া। এ লক্ষ্য অর্জনের পথে নির্বিঘ্নে চলতে হলে অবশ্যই চাই কর্মমুখর ও গতিশীল রাজধানী।
আমাদের স্বল্প, মধ্যম এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কর্মসূচি রয়েছে। বাস্তবতার নিরিখে তা পরিমার্জন ও সংশোধনও সম্ভব। কিন্তু মূল কথা হচ্ছে, কথাকে কাজে পরিণত করা। এ জন্য প্রত্যেককে তার নিজ নিজ অবস্থানে থেকে নিজের মতো করে এবং একই সঙ্গে সমন্বিতভাবে নিরলস কাজ করে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আর সব কাজ যেন সুচারুরূপে সম্পন্ন হয় সে জন্য সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে জনপ্রতিনিধিদের। তবেই তো ঢাকা হয়ে উঠতে পারবে প্রকৃত তিলোত্তমা এবং উন্নত একটি দেশের রাজধানী।
-সম্পাদক
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক


