৭০ দিন পর ফিরে এলেন সাংবাদিক উৎপল দাস
Posted by: News Desk
December 20, 2017
এমএনএ রিপোর্ট : সাংবাদিক উৎপল দাস ৭০ দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ফিরেছেন। রাত পৌনে ১২ টার দিকে তাকে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকা থেকে পাওয়া গেছে বলে পুলিশ ও তার সহকর্মীরা নিশ্চিত করেছেন। তবে এই ৭০ দিন উৎপল কোথায় ছিলেন- এ ব্যাপারে কোন কিছু জানা যায়নি। তার ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে রাতে তার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে তাকে উদ্ধার করে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ। রাতেই নরসিংদী থেকে বাবা-মা এসে উৎপলকে বাড়ি নিয়ে যান। নরসিংদীর রায়পুরা থানা সংলগ্ন একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন তার মা-বাবা।
উৎপলের বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, কিছুক্ষণ আগে তার মায়ের সঙ্গে উৎপলের কথা হয়েছে। সে এখন বাসায় ফিরে আসছে।
ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, উৎপল তাকে জানিয়েছেন, ভুলতার আদুরিয়া এলাকার শাহজালাল ফিলিং স্টেশনের কাছে একটি মাইক্রোবাস থেকে কে বা কারা তাকে ফেলে যায়। তাকে ঢাকা থেকে এখানে নিয়ে আসা হয়। তিনি আর কিছু বলেননি। তিনি ভুলতা ফাঁড়িতে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
পূর্বপশ্চিমবিডি ডট নিউজ অনলাইনের প্রধান সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমের কাছে তার ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উৎপল ফিরে এসেছে। আমি তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছি। সে বলেছে, ‘আমি সুস্থ আছি। আমি মায়ের কাছে যাচ্ছি।’
পীর হাবিবুর আরো বলেন, কথা বলার সময় উৎপলকে বেশ উৎফুল্ল মনে হচ্ছিল। সে ২/১ দিনের মধ্যে পূর্বপশ্চিমবিডিতে যোগ দিবে বলে জানিয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, উৎপলকে পাওয়া গেছে। তিনি এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
নিখোঁজের বিষয়ে আজ বুধবার সকালে টেলিফোনে উৎপল দাস বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত ১০ অক্টোবর দুপুরে ধানমণ্ডির স্টার কাবাব রেস্তোরায় খাওয়া-দাওয়ার পর সেখান থেকে বের হলে একটি গাড়িতে করে আমাকে তুলে নিয়ে যায় একদল লোক। পেছন থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। আমার চোখ বাঁধা ছিল। কাউকে দেখতে পাইনি। এতদিন কোন এলাকায় ছিলাম সেটা নিজেও জানি না। একটা জঙ্গলের মধ্যে টিন-শেড ঘরে আমাকে আটকে রাখে। সেখানে কোনও খাট বা চৌকি ছিল না। ফলে মেঝেতেই ঘুমাতেই হতো। ওই ঘরে এটাচ বাথরুম ছিল। সেখানে গোসল করতাম। আমার ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। তাই দরজার নিচ দিয়ে খাবার দিয়ে যেতো। তিন বেলা নরমাল খাবার দেওয়া হতো।’

উৎপল দাশ বলেন, ‘আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর প্রথম দিকে কিছু চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছে। প্রথমদিকে মাঝে মাঝে বলে তোর কাছে এত টাকা আছে, তুই টাকা দে। টাকা দিলে তোকে ছেড়ে দেব। তারপর যেহেতু আমি টাকা দিতে পারি নাই- শেষদিকে তারা এসে আমাকে বলেছে তুই যেহেতু টাকা দিতে পারিস নাই তাই তোকে মেরে ফেলবো। ওরা আমার মোবাইল নিয়ে যায়। আজ আমাকে চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসে করে নামিয়ে দিয়ে যায়। চোখ খুলে দেওয়ার পর আমি বুঝতে পারি এটা ভুলতা, নারায়ণগঞ্জ। আমাকে তারা বলে, তোর ফোনে চার্জ আছে তুই বাড়ি চলে যা, পেছনে ফিরে তাকাবি না। আমি আর পেছনে ফিরে তাকাইনি। আর বললো যে, ৫০ গজ পেছনে একটা পেট্রোল পাম্প আছে, আমি সেই পেট্রোল পাম্পে চলে যাই এবং গিয়ে বাড়িতে ফোন করি। নামিয়ে দিয়ে যাওয়ার আগে আমাকে চোঁখ বাধা অবস্থায় তিন-চার ঘণ্টা গাড়িতে করে ঘোরানো হয়।
তবে এরা কারা বা কেন তাকে আটকে রেখেছিল সে সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি তিনি। অপহরণকারী কাউকে চিনতে পেরেছেন কি না জানতে চাইলে উৎপল দাস বলেন, কাউকেই চেনেন না তিনি।
রূপগঞ্জের ভুলতা ফাঁড়ির ইনচার্জ শহীদুল আলম বলেন, কে বা কারা মাইক্রোবাস থেকে আধুরিয়ায় একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে নামিয়ে দিয়ে গেছে। পরে ফিলিং স্টেশনের লোকজন ভুলতা ফাঁড়িতে ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাকে নিয়ে আসে।
উৎপল দাস বলেন, ‘বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার কথা ছিল এখান থেকে। তবে গাড়ির টিকিট পাইনি। এরপর রূপগঞ্জ পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ পরিদর্শক শহীদুল ইসলাম গিয়ে আমাকে সিএনজি স্টেশন থেকে নিয়ে গেছেন। এর মধ্যে রাতেই আমার মা-বাবা গিয়ে আমাকে বাড়ি নিয়ে আসেন।’
গত ১০ অক্টোবর রাজধানী থেকে নিখোঁজ হন পূর্বপশ্চিম ডট নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল। গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর মতিঝিল থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি করেন উৎপলের বাবা চিত্তরঞ্জন দাস এবং পূর্বপশ্চিমের সম্পাদক খুজিস্তা নূরে নাহরীন।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর বিকাল ৪ টায় রাজধানীর মতিঝিলের ২০৯, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনে পূর্বপশ্চিমবিডি ডট নিউজ অনলাইনের সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল দাস অফিস থেকে বের হয়ে আর ফিরেননি। তাকে খুঁজে না পেয়ে ১৫ অক্টোবর অনলাইনটির সম্পাদক খুজিস্তা নূর ই নাহরীন বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় একটি জিডি করেন। এর একদিন পর উৎপল দাসের বাবা চিত্তরঞ্জন দাস মতিঝিল থানায় আরো একটি জিডি করেন।
পুলিশের তথ্যনুযায়ী, তার সর্বশেষ অবস্থান ছিল ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর এলাকায়। ১০ অক্টোবর বেলা একটা ৪৭ মিনিট থেকে তার ফোন বন্ধ থাকে। এ ঘটনার পর উৎপলকে উদ্ধারের দাবিতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ তার সহকর্মীরা রাজপথে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করেন।
সাংবাদিক ফিরে ৭০ দিন পর এলেন উৎপল দাস 2017-12-20