ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদ সর্বদাই উৎসবে মেতে ওঠে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) আবার এই উৎসবের উপলক্ষ তৈরি করেছে। ২২ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ৪ জুন পর্যন্ত মোট ছয় ধাপে নির্বাচন হবে ৪ হাজার ২৭৫টি ইউনিয়ন পরিষদে। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করাটাই এখন ইসির নতুন চ্যালেঞ্জ।
স্থানীয় সরকার (ইউপি) নির্বাচন আইন অনুযায়ী এই প্রথম চেয়ারম্যান পদে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের পরিচয় ও প্রতীকে নির্বাচন হবে। সদস্য পদে আগের মতোই নির্দলীয় নির্বাচন ব্যবস্থা চালু থাকবে। নির্বাচনী এলাকার যে কোনো নারী-পুরুষ ভোটারও নির্দলীয়ভাবে প্রার্থী হতে পারবেন। গত ডিসেম্বরে ২৩৪টি পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রথমবারের মতো দলীয় পরিচয় ও প্রতীকে নির্বাচন হয়েছিল। স্থানীয় সরকারের নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠান যথাযথ কি-না, এটা নিয়ে মতের ভিন্নতা থাকলেও ছোট-বড় প্রায় সব দলই ওই নির্বাচনে অংশ নেয়। এখন বলা যায়, দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও অনিবার্য বাস্তবতা হিসেবে গণ্য হবে। এর মধ্য দিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তৃণমূল পর্যায়ে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত করার সুযোগ পাচ্ছে। জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি নিয়ে গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগও কিন্তু সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের সিঁড়িতে- এটা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। গ্রামীণ অর্থনীতি সবল হচ্ছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কৃষির পাশাপাশি অকৃষি খাত চলছে সমানতালে। প্রশাসনিক কার্যক্রম এখন যথেষ্ট বিকেন্দ্রীকৃত- অনেক ধরনের সরকারি অফিসের কর্মীর দেখা মিলবে প্রত্যন্ত এলাকাতে। শিক্ষার প্রসার ঘটছে। স্বাস্থ্যসেবাও মিলছে গ্রামে গ্রামে। এসব কিছুই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দৈনন্দিন কাজের আওতাধীন। তারা খবরদারি করবেন না, কিন্তু দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের বসবাস যে পল্লী অঞ্চলে সেখানে যাতে সরকারি সেবা এবং আর্থসামাজিক বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা যায় সেজন্য তাদের ভূমিকা রাখা চাই। প্রকৃত অর্থেই এখন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-সদস্যদের হয়ে উঠতে হবে নতুন যুগের জনপ্রতিনিধি। রাজনৈতিক দলগুলো চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মনোনয়নে এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখবে, এটাই কাম্য।
সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ- এক. নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে সবাইকে বাধ্য করা। শাসক দলের ক্ষেত্রে এটা বিশেষভাবে প্রযোজ্য। দুই. আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা। এই দুই কাজেই সর্বাত্মক সহযোগিতা চাই স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের। বলা হয়ে থাকে- এ দুটি ক্ষেত্রেই এলাকার সংসদ সদস্যের প্রভাব-নিয়ন্ত্রণ বিপুল। নির্বাচন কমিশন কি তাদের সামাল দিতে পারবে?
-সম্পাদক
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক


