Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / আন্তর্জাতিক / এশিয়া / কোরীয় উপদ্বীপ ঘেঁষে মার্কিন রণতরী

কোরীয় উপদ্বীপ ঘেঁষে মার্কিন রণতরী

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : কোরীয় উপদ্বীপ ঘেঁষে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে একটি রণতরীসহ বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমে যাত্রা করা যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থাসম্পন্ন ওই নৌবহরে রণতরী ছাড়াও একঝাঁক যুদ্ধ জাহাজ রয়েছে। ওই নৌবহর সেখানে তাদের পূর্ণ যুদ্ধপ্রস্তুতির অংশ হিসেবেই যাচ্ছে।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী কার্ল ভিনসনের নেতৃত্বে বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজকে (এই কমান্ডকে ভিনসন স্ট্রাইক গ্রুপ বলে ডাকা হয়) পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে কোরীয় উপদ্বীপের কাছে পাঠানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্যাসিফিক কমান্ডের কমান্ডার অ্যামিরাল হ্যারি হ্যারিস সিঙ্গাপুরের কাছে অবস্থানরত ভিনসন স্ট্রাইক গ্রুপকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তরে এগোনোর নির্দেশ দেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হুমকি মোকাবেলায় একাই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। দু’দিন আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়টি প্রাধান্য প্রায়। এর পরই এই নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী, সিঙ্গাপুর থেকে উত্তর কোরিয়ার জলসীমার কাছাকাছি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর অভিমুখে রওনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী কার্ল ভিনসনসহ বেশ কয়েকটি জাহাজ। সম্প্রতি এ অঞ্চলে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া শেষে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পথে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছিল রণতরীটি।

কার্ল ভিনসনে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, সামরিক হেলিকপ্টার, দুটি মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং একটি মিসাইল ক্রুজার রয়েছে। এ রণতরী থেকে বিমান হামলার পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে যে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো সম্ভব। একই সঙ্গে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা ঠেকাতেও বিশেষ সক্ষমতা আছে এ রণতরীর।

এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরীর মহড়া দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও তারা এ ধরনের মহড়া দেখিয়েছে। এমনকি গত মাসেই সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ভিনসন কোরীয় উপদ্বীপ ঘেঁষে ছিল।

তবে এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। ক’দিন আগেই উত্তর কোরিয়া একটি দূরপাল্লার স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। নিন্দা জানায় ওয়াশিংটনও। যদিও ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণকালেই বিধ্বস্ত হয়ে গেছে বলে দাবি করে পেন্টাগন। এরমধ্যেই সিউল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, পিয়ংইয়ং নতুন করে পারমাণবিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তাদের কাছে খবর রয়েছে।

এমন উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দু’দিন আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র সামাল দেবে। তিনি এজন্য চীনের সহযোগিতা কামনা করলেও যদি সহযোগিতা না-ও পান, তবে একলাই সমাধান করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের মুখপাত্র ডেভ বেনহাম বলেন, ‘এ অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার বেপরোয়া, দায়িত্বজ্ঞানহীন পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নিরাপত্তা রক্ষায় রণতরী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে জাতিসংঘ। কিন্তু কিম জং-উন প্রশাসন এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা নেওয়ার পর গত আড়াই মাসে দেশটি একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সামরিকায়ন ঠেকাতে দেশটির মিত্র চীনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরে এ বিষয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়েছে। তবে চীন এ বিষয়ে উদ্যোগ না নিলে উত্তর কোরিয়াকে ট্রাম্প একাই প্রতিহত করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনায় আনবেন। মাত্র তিন দিন আগে সিরিয়ার হোমস প্রদেশের সরকার নিয়ন্ত্রিত শায়রাত বিমানঘাঁটিতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

এমন উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিমান বহনকারী রণতরীসহ কোরীয় উপদ্বীপে মার্কিন সমর মহড়ায় উত্তর কোরিয়া কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়, এখন সেদিকেই নজর বিশ্ববাসীর।

x

Check Also

মিয়ানমারে সামারিক জান্তার হত্যাযজ্ঞ বেড়েই চলেছে

এমএনএ আন্তর্জাতিক : মিয়ানমারে সামারিক জান্তার হত্যাযজ্ঞ বেড়েই চলেছে।  মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অব্যাহত বিক্ষোভে ...

Scroll Up