Don't Miss
Home / জাতীয় / সরকার / গণতন্ত্র ও সংবিধান সমুন্নত রাখুন : সেনাবাহিনীকে প্রধানমন্ত্রী

গণতন্ত্র ও সংবিধান সমুন্নত রাখুন : সেনাবাহিনীকে প্রধানমন্ত্রী

এমএনএ রিপোর্ট : দেশে গণতন্ত্র ও সাংবিধান সমুন্নত রাখার পাশাপাশি সুখী এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় অবদান রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুরে অবস্থিত কাদিরাবাদ সেনানিবাসস্থ ইঞ্জিনিয়ার সেন্টার অ্যান্ড স্কুল অব মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং এ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের পুনর্মিলনী এবং বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আধুনিক, উন্নত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সেনাবাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে।’
এ সময় তিনি সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক যে কোনো হুমকি মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রস্তত থাকার নির্দেশ দেন।
সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের সহায়তায় সেনাবাহিনী দক্ষতা ও প্রশংসার সঙ্গে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। বিভিন্ন দুর্যোগ ও দুর্ঘটনায় আর্তদের সাহায্য ও সহযোগিতার মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ, ভোটার তালিকা ও মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রেও দক্ষতা দেখিয়েছে। সেনাবিহিনী একাগ্রতা, কর্মদক্ষতা, এবং নানাবিধ জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সার্বজনীন আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। জাতির পিতা প্রণীত নীতিমালার আলোকে আর্মড ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে অদ্যবধি ৯ বছরে সেনাবাহিনীর অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেনাবাহিনীতে আর্মড ব্রিগেড, কম্পোজিট ব্রিগেড, প্যারা কমান্ডো বিগ্রেড ও পদাতিক ডিভিশন, ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন প্রতিষ্ঠাসহ অত্যাধুনিক অস্ত্রসস্ত্র ও সরঞ্জামাদিতে সজ্জিত করা হয়েছে। বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে আধুনিক যানবাহন, হেলিকপ্টার, সমরাস্ত্র ও সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হয়েছে।
অত্যাধুনিক ব্যবস্থাসহ সিএমএইচসমূহে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাসদ্যদের জীবনমান উন্নত করতে বর্তমান সরকার আন্তরিক রয়েছে। এছাড়া সৈনিকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ তাদের বাসস্থান, মেস, এসএম ব্যারাক নির্মাণ, বেতন-রেশন বৃদ্ধিসহ অনান্য সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নিজেকে সেনাপরিবারের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার দুই ভাই শহীদ শেখ কামাল ও শহীদ লেফট্যানান্ট শেখ জামাল মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। শেখ জামাল ১৯৭৫ সালে রয়েল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্টার্স থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ শেষে কমিশন লাভ করেন এবং সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
ছোট ভাই শেখ রাসেলও সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিল জানিয়ে সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের মাঝে হারানো ভাইকে খুঁজে পাই।’
ইঞ্জিনিয়ারিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুল অব মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিংকে জাতীয় পতাকা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই সেক্টরের রিক্রুট প্রশিক্ষণের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কোরে ইতোমধ্যে ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্রিগেড ও ডিভ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়েছে। এছাড়া আরই ব্যাটালিয়ন, ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কোরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস উল্লেখ করে কোরের সদস্য শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল কাদিরকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দীন আহমেদ, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, নাটোর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল এমপি, নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, শহীদ লেফটান্যান্ট কর্নেল আব্দুল কাদিরের ছেলে সাংবাদিক নাদিম কাদির, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক সিলভিয়া পারভীন লেনীসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী ষষ্ঠ ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের পুনর্মিলনী ও প্রীতিভোজে অংশ নেন।
এর আগে সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী কাদিরাবাদ সেনানিবাসে পৌঁছলে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান।
x

Check Also

ব্যাংকের লাভ-ক্ষতির হিসাব তৈরির সুুযোগ জুন পর্যন্ত বাড়লো

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণার কারণে বার্ষিক আর্থিক লাভ-ক্ষতির ...

Scroll Up
%d bloggers like this: