পদার্থে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী
Posted by: News Desk
October 3, 2017
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : চলতি বছর পদার্থে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন- রেইনার ওয়েইস, ব্যারি সি. ব্যারিশ ও কিপ এস থোর্নে।
আজ মঙ্গলবার রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস স্থানীয় সময় সুইডেনের বেলা সাড়ে ১১টায় পদার্থের নোবেল পুরস্কারের জন্য এই তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করে। নোবেলের অর্ধেকটা পেয়েছেন রেইনার। বাকি অর্ধেকটা ভাগাভাগি করছেন ব্যারিশ এবং থোর্নে।
লিগো (লেজার ইন্টেরফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল-ওয়েভ অবজারভেটরি) ডিটেক্টর এবং মহাকর্ষীয় তরঙ্গ গবেষণায় অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পদার্থের নোবেল পেয়েছেন এই তিন বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানী রেইনার ওয়েইস জার্মান বংশোদ্ভূত। এছাড়া অপর দুই বিজ্ঞানী ব্যারি সি ব্যারিশ ও কিপ এস থোর্নে মার্কিন নাগরিক।
ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েব অভজারভেটরিতে (লিগো-ভিরগো) কাজ করেন এই তিন বিজ্ঞানী।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্ল্যাক হোলে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ (গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ) শনাক্ত করার ঘোষণা দেয় লিগো-ভিরগো। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস বলছে, মহাকর্ষীয় তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ এবং শনাক্তরণে সক্ষম হয়েছেন এই তিন বিজ্ঞানী।
লিগো আসলে এক জোড়া ডিটেক্টর। এ দুটোর অবস্থান আমেরিকায়। এই যন্ত্রের মাধ্যমেই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সরাসরি শনাক্ত করা হয়। গত বছরই নোবেলের জন্য থোর্নে এবং ওয়েসের নাম ঘোষণার সম্ভাবনার কথা সবাই ভেবেছেন।

আজ মঙ্গলবার স্টকহোমে এক সম্মেলনে নোবেল কমিটির প্রতিনিধি জানান, পদার্থবিদ্যায় চলতি বছরের পুরস্কার এমন একটি আবিস্কারের জন্য দেয়া হচ্ছে; যা পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
লিগো-ভিরগোর গবেষকরা বলেছেন, সূর্য থেকে প্রায় ৩০ গুণ ভারী দুটি কৃষ্ণ গহ্বরের সংঘর্ষ থেকে উৎপন্ন মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করেছেন তারা। মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করার পদ্ধতি আবিষ্কার এবং এ নিয়ে গবেষণায় সফলও হয়েছেন।
১৯০১ সালের পর থেকে নোবেল কমিটি এ পর্যন্ত ১১১ বার পদার্থে নোবেল পুরস্কার দিয়েছে। গত বছর পদার্থের টপোলজি ক্ষেত্রে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল জিতেছেন ব্রিটিশ তিন বিজ্ঞানী।
রেইনার ওয়েস মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। তবে তিনি জার্মান বংশোদ্ভূত। ১৯৩২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বার্লিনে জন্ম তার। নোবেলের অর্ধেকটি তিনিই পাচ্ছেন।
১৯৩৬ সালের ২৭ জানুয়ারি আমেরিকার নেবরাস্কার ওমাহাতে জন্মগ্রহণ করেন ব্যারি ক্লার্ক ব্যারিশ। তিনি এক্সপেরিমেন্টাল ফিজিসিস্ট হিসেবে সমধিক পরিচিত।
নোবেলজয়ী তৃতয়ী বিজ্ঞানী অর্থাৎ থোর্নেও একজন মার্কিন বিজ্ঞানী। তিনি ১৯৪০ সালের ১ জুন আমেরিকার ইউতাহ’র লোগানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তত্ত্বীয় পদার্থবিদ্যায় নিয়ে গবেষণা করেন।
এর আগে গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসায় তিন মার্কিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষিত হয়। নোবেল প্রাপক হিসেবে জেফরি সি হল, মাইকেল রখবাখ ও মাইকেল ডাব্লিউ ইয়াংয়ের নাম ঘোষণা করেছে নোবেল কমিটি।
নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানবশরীরের বডি ক্লক ও বায়োলজিক্যাল রিদম কীভাবে আমাদের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন এই তিন মার্কিন বিজ্ঞানী।
তিন বিজ্ঞানী নোবেল পেলেন পদার্থে 2017-10-03