Don't Miss
Home / খেলাধূলা / ক্রিকেট / প্রথম দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৪২৮/৩

প্রথম দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৪২৮/৩

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : প্রথম দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৯০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪২৮ রান। ক্রিজে অপরাজিত আছেন হাশিম আমলা (৮৯) ও ফাফ ডু প্লেসিস (৬২)। রান রেট ৪.৭৫।
ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম দিনেই ৪০০ রানের স্কোর পেরিয়ে গেছে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এলগার-মার্করামের গড়ে দেয়া ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে গোটা দিনে হাশিম আমলা ও অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস টাইগারদের সামনের রানের পাহাড় দাঁড় করিয়েছে।
দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মুশফিকুর রহীম। দ্বিতীয় টেস্টেও একই ভুল করে বসলেন টাইগার দলনায়ক।
ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম দিনের প্রথম সেশনেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মুশফিকের সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে যায়। দ্বিতীয় সেশনের শেষের দিকে এবং শেষ সেশনের শুরুর দিকে বাংলাদেশের বোলাররা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও প্রোটিয়াদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। টেস্টের প্রথম দিনের অর্ধেক না পেরোতেই শতক তুলে নেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ডিন এলগার ও মার্কারাম। এই দুজনের শতকের উপর ভিত্তি করে টাইগারদের সামনে রানের পাহাড় দাঁড় করাতে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা।
গতকাল শুক্রবার দিন শেষে রানের পাহাড় গড়ার পথেই হাঁটছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ডিন এলগার এবং এইডেন মার্করামের মধ্যকার ডাবল সেঞ্চুরি জুটিতে শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও হাশিম আমলা ও ফাফ ডু প্লেসিসের দারুণ ব্যাটিংয়ে দিন শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪২৮ রান সংগ্রহ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মার্করাম ১৪৩ এবং এলগার ১১৩ রান করে আউট হন। টেম্বা বাভুমা আউট হন রান করে। এছাড়া আমলা ৮৯ ও ফাফ ডু প্লেসিস ৬২ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে শুভাশিষ রায় দুটি উইকেট নেন। রুবেল হোসেন নেন একটি উইকেট।
ব্লুমফন্টেইনের ঘাসের পিচে ব্যাটসম্যানদের শুরুতেই পরীক্ষায় পড়তে দিতে চাননি মুশফিক। পেসাররা যেন বাড়তি সুবিধা পায় সেটি মাথায় রেখেই ফিল্ডিং বেছে নেন টাইগার দলনায়ক। মুশফিক নির্ভাবনায় ফিল্ডিং বেছে নিলেও চমকে দেয়া কথাই বলেন দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। টসের সময় উপস্থাপককে তিনি বলেছিলেন, এমন পিচে টসে জিতলে দশবারের মতো নয়বারই তিনি ব্যাটিং নিতেন। ডু প্লেসিসের বক্তব্যের সত্যতাই যেন ফুঠে উঠল দুই প্রোটিয়া ওপেনারের ব্যাটে।
উদ্বোধনী জুটিতে এলগার ও মার্করাম তোলেন ২৪৩ রান। দুজনই তুলে নেন সেঞ্চুরি। প্রথম সেশনের মতো দ্বিতীয় সেশনও নির্বিঘ্নে পার করে দিতেই যাচ্ছিলেন এলগার ও মার্করাম। তবে চা বিরতির একটু আগে ইনিংসের ৫৪ তম ওভারে শুভাশিষ রায়ের করা চতুর্থ বলে পুল করেছিলেন ডিন এলগার। মিস টাইমিং হয়ে বল উঠে যায় আকাশে। ডিপ ফাইন লেগে দৌড়ে এসে ক্যাচটি ধরেন মুস্তাফিজ। আর এভাবেই বাংলাদেশ তাদের বহুল কাঙ্খিত উইকেট পায়। ভেঙ্গে যায় এলগার-মার্করামের ২৪৩ রানের ম্যারথন জুটি। আউট হওয়ার আগে এলগার ১৫২ বলে ১৭ চারে ১১৩ রান সংগ্রহ করেন।
চা বিরতি শেষে মাঠে ফিরেই আবারো সাফল্য পায় টাইগার বোলার সুভাশিষ ও রুবেল। তাদের জোড়া আঘাতে দ্রুত দুই উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের ৫৯ তম ওভারের চতুর্থ বলে পেসার রুবেল হোসেনের ১৪০.২ কি.মি গতির বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন অভিষেক সেঞ্চুরি হাকানো দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এইডেন মার্করাম।১৮৬ বলে ১৪৩ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলেছেন তিনি। দুই ওভার পরেই আঘাত হানে এই টেস্টে সবচেয়ে সফল টাইগার বেলার শুভাশিষ রায়। অফ স্ট্যাম্পের বাইরে পর বলটি বাভুমার ব্যাটে টপ এজ হয়ে চলে যায় উইকেট কিপার লিটন দাশের হাতে। ২৮৮ রানে তখন তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে।
৪৫ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার সুবিধা নিতে পারেনি বাংলাদেশ। আমলা ও দু প্লেসির দারুণ ব্যাটিংয়ে উড়ে যায় অতিথিদের রোমাঞ্চ। ওয়ানডে ম্যাচের গতিতে জুটির রান তিন অঙ্কে দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ১১১ বলে ১০০! ক্রিজে আসেন প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। দ্রুত দুই উইকেট হারালেও  দিন শেষে আমলা ও ডু প্লেসিসের জুটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে চালকের আসনেই রাখে।
দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার আগে সৌম্য, সাব্বির রহমানকে বোলিংয়ে এনে লাভ হয়নি। দিনের শেষ বেলায় দ্বিতীয় নতুন বল নিয়েও কোনো কাজ হয়নি। জমে যাওয়া জুটি ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ। দিন শেষে আমলা-দু প্লেসির জুটির রান ১৪০।
প্রথম দিনে ৯০ ওভারে ৫৮টি বাউন্ডারি পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা। রান দেওয়ার সেঞ্চুরির কাছে পৌঁছে গেছেন দলে ফেরা তাইজুল, রুবেল। ৮৫ রানে ২ উইকেট নেওয়া শুভাশিসও খুব একটা পিছিয়ে নেই। ৭৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য মুস্তাফিজ।
বল হাতে আরও একটি বিবর্ণ দিন কেটেছে বাংলাদেশের। পারফরম্যান্সে দারুণ কোনো উন্নতি করতে না পারলে সামনে অপেক্ষা করছে আরেকটি দুঃস্বপ্ন।
ব্লুমফন্টেইন টেস্টে বাংলাদেশের একাদশে চারটি পরিবর্তন এসেছে। ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়া তামিম ইকবালের জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন সৌম্য সরকার। অন্যদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসনিক আহমেদ এবং শফিউল ইসলামকে বসিয়ে তাইজুল ইসলাম, রুবেল হোসেন ও শুভাশিষ রায়কে একাদশে নিয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশে একটি পরিবর্তন এসেছে। ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়া মরনে মরকেলের জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন ওয়াইন পারনেল।
২০০৭ সালের পর প্রথমবারের মতো ডেল স্টেইন, ভারনন ফিল্যান্ডার কিংবা মরকেলের মধ্য হতে যেকোনো একজনকে ছাড়া টেস্ট খেলতে নামল প্রোটিয়ারা।
প্রসঙ্গত, দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে বাংলাদেশ ৩৩৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে।
বাংলাদেশ একাদশ : ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন ও শুভাশিস রায়।
দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ : ডিন এলগার, এইডেন মার্করাম, টেম্বা বাভুমা, হাশিম আমলা, ফাফ ডু প্লেসিস (অধিনায়ক), কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), অ্যান্ডিলে ফেলুকওয়ায়ো, কেশব মহারাজ, কাগিসো রাবাদা, ওয়েইন পারনেল ও ডোয়াইন অলিভিয়ে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস : ৯০ ওভারে ৪২৮/৩ (এলগার ১১৩, মারক্রাম ১৪৩, আমলা ৮৯*, বাভুমা ৭, দু প্লেসি ৬২*; মুস্তাফিজ ০/৭৮, শুভাশিস ২/৮৫, রুবেল ১/৯১, সৌম্য ০/২১, তাইজুল ০/৯৮, মাহমুদউল্লাহ ০/২৭, মুমিনুল ০/৬, সাব্বির ০/১৬)
x

Check Also

করোনা আতঙ্কে আইসিসির সদর দপ্তর বন্ধ ঘোষণা

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : করোনা ভাইরাস সতর্কতায় বন্ধ ঘোষণা করা হলো ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ...

Scroll Up
%d bloggers like this: