Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / বায়োমেট্রিকে সিম নিবন্ধনে চরম ভোগান্তি

বায়োমেট্রিকে সিম নিবন্ধনে চরম ভোগান্তি

মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ) : বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। অসংখ্য গ্রাহক নিবন্ধন করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, কোথাও বা সার্ভারে সমস্যা আবার কোথাও বায়োমেট্রিক মেশিনই পৌঁছেনি- সবকিছু মিলিয়ে সিমকার্ড নিবন্ধনে হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারের কঠোর নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ মোবাইল ফোন অপারেটরদের গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে তিন-চারবারও ফিরে এসেছেন। ওই কেন্দ্র থেকে তাদের বলা হচ্ছে, সার্ভার কাজ না করায় রেজিস্ট্রেশন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সিমকার্ড পুনর্নিবন্ধন নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বিরক্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

SIM Registration 3

একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নাবিস্কোতে গ্রামীণফোন সেন্টার, উত্তরায় রবি ও বাংলালিংক গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করে জানা গেছে, সার্ভারে সমস্যার কারণে নিবন্ধন সাময়িকভাবে সম্ভব হচ্ছে না। সার্ভার চালু হলেই আবার নিবন্ধন শুরু হবে।

নাবিস্কোতে গ্রামীণফোন সেন্টারের সামনে সামিউল আলম নামের একজন গ্রাহক জানান, তিনি তিন দিন তিনটি সেন্টারে গিয়েও নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারেননি।

খিলক্ষেত এলাকায় খুচরা বিক্রেতাদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিমকার্ড নিবন্ধনের জন্য শুধু গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক বায়োমেট্রিক মেশিন পাঠিয়েছে। অন্য অপারেটরগুলো এখনও পাঠায়নি। ফলে অন্য সিম নিবন্ধন হচ্ছে না। অথচ সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বাধ্যতামূলক পুনর্নিবন্ধন শুরু হয়।

SIM Registration 6

গত সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের সিইও রাজীব শেঠিও বলেন, নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে ঢুকতে ধীরগতির সমস্যার কারণেই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিমকার্ড পুনর্নিবন্ধন কিছুটা ধীরগতিতে হচ্ছে।

অবশ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়। নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে তার জানামতে কোনো সমস্যা নেই।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, তার কাছেও এ ধরনের অভিযোগ এসেছে। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন, নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে নয়, বরং অপারেটরদের নিজেদের সার্ভারে সমস্যার কারণে পুনর্নিবন্ধন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং অনিয়ম ও অবহেলার জন্য কেউই ছাড় পাবে না।

SIM Registration 5

ভোগান্তিতে গ্রাহকরা : সম্প্রতি মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠনের পাঠানো ই-মেইল বার্তায় বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিমকার্ড নিবন্ধন নিয়ে বেশ কিছু সমস্যা ও অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়। পরে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলেন, তিনি বাংলালিংক ও গ্রামীণফোনের সিমকার্ড নিবন্ধন করতে গিয়ে যাত্রাবাড়ী ও পল্টন এলাকার গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে চারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। পঞ্চমবারের চেষ্টায় তিনি পুনর্নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পেরেছেন।

তিনি জানান, তারা রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে মিরপুর পর্যন্ত বিভিন্ন অপারেটরের গ্রাহকসেবা কেন্দ্র, সার্ভিস পয়েন্ট ও খুচরা বিক্রেতাদের কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং গ্রাহকদের মতামত নেন। তাদের অভিজ্ঞতায় এখন পর্যন্ত অধিকাংশ স্থানেই রবি, এয়ারটেল, টেলিটক ও সিটিসেলের বায়োমেট্রিক মেশিনই পৌঁছেনি। শুধু বাংলালিংকের ৪০ শতাংশ ও গ্রামীণফোনের ৫ শতাংশ খুচরা বিক্রেতার কাছে তারা মেশিন পেয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে মহিউদ্দিন আহমেদের তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়। কুড়িল ও খিলক্ষেত এলাকায় দু’জন খুচরা বিক্রেতা জানান, শুধু গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের নিবন্ধন হচ্ছে। বাকি চার অপারেটর নিবন্ধনের ব্যাপারে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগই করেনি।

SIM Registration

তারা জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিবন্ধনের জন্য নাম্বার সার্ভারে প্রবেশ করতে সমস্যায় পড়তে হয়। তিন-চারবার দেওয়ার পর নম্বরটি গ্রহণ করে। এ কারণে গ্রাহকদের কাছ থেকে তাদের ১০-২০ টাকা বকশিশ আদায় করতে হয়। একই চিত্র পাওয়া যায় মিরপুর ১০ নম্বরেও। সেখানেও একাধিক বিক্রেতা নিবন্ধনের জন্য ১০ থেকে ২০ টাকা নিচ্ছেন।

একজন বলেন, অপারেটররা রিচার্জে মাত্র আড়াই থেকে তিন শতাংশ কমিশন দেয়। এখন রিচার্জ ও অন্যান্য বিক্রি বন্ধ রেখে বিনা পয়সায় সিম নিবন্ধন করতে গিয়ে তাদের অনেক ক্ষতি হয়।

রাব্বী নামের একজন গ্রাহক বলেন, কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে কর্মকর্তাদের ধমকা-ধমকি শোনার চেয়ে ১০-২০ টাকা দিয়ে রিটেইলারের কাছেই নিবন্ধন করা ভালো। কোন কাস্টমার কেয়ারে ধমক খেয়েছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবির কাস্টমার কেয়ারে তিনি ধমক খেয়ে এসেছেন।

SIM Registration 2

গ্রামীণফোনের নাবিস্কো সেন্টারে সরেজমিন গিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের চিত্র চোখে পড়ে। ৬ ফেব্রুয়ারি একজন বয়স্ক গ্রাহক নিবন্ধনের ফরম পূরণ করতে চাইলে বেশি কথা না বলে চুপচাপ বসে থাকতে বলেন কাস্টমার কেয়ারের একজন কর্মী। সহায়তা করতে সমস্যা কোথায়- জানতে চাইলে আবারও ধমকের সুরে বলেন, তিনি ব্যস্ত আছেন, তার সময় হলে তিনি তখন কথা বলবেন। দেরি সহ্য না হলে চলেও যেতে বলেন তিনি। এর পর দেখা যায়, তিনি মুঠোফোনে হাসিমুখে কথা বলতে ব্যস্ত রয়েছেন। চার মিনিট এক সেকেন্ড পর তিনি ফোন রেখে সামনের একজন গ্রাহকের কাছে সেবা দেওয়া সম্পর্কে আলাপ শুরু করামাত্র আবার ফোন আসে, আবারও তিনি হাসিমুখে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

নেপথ্যে কর নিয়ে দুশ্চিন্তা! : মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের একটি সূত্র জানায়, সত্যিকার অর্থেই মোবাইল ফোন অপারেটররা কিছুটা ধীরগতিতে পুনর্নিবন্ধন কার্যক্রম করছে। এর বড় কারণ হচ্ছে, পুনর্নিবন্ধনের জন্য কর নেওয়া হবে না- অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এমন সুস্পষ্ট ঘোষণা না থাকা।

SIM Registration 4

সূত্র জানায়, এর আগে সিম প্রতিস্থাপন কর নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই যে কোনো ক্ষেত্রে কর নিয়ে আগে সুস্পষ্ট ঘোষণা চায় অপারেটররা। এ বিষয়টি বিটিআরসি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কেও জানানো হয়েছে। যদিও মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, অর্থমন্ত্রী মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, সিমকার্ড পুনর্নিবন্ধনে কোনো কর ধার্য করা হবে না; দ্রুতই লিখিত আদেশ আকারে তা জানানো হবে। কিন্তু অপারেটররা অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে মৌখিক ঘোষণায় আস্থা রাখতে চাইছে না।

এ কারণে লিখিত আদেশ পাওয়ার আগে অনেক বেশি নিবন্ধন সম্পন্ন করতে চাইছে না তারা। করের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা এলে অনেক দ্রুতই নিবন্ধন সম্পন্ন হবে, প্রয়োজনে অপারেটররা বাড়তি ব্যান্ডউইথ কিনে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে প্রবেশ করবে। এখন এই পুনর্নিবন্ধন নিয়ে বড় প্রচার কিংবা অন্য কোনোভাবে গ্রাহককে উৎসাহিত করা হচ্ছে না। নিতান্তই নিজের আগ্রহে যারা আসছেন, তাদের কারও কারও নিবন্ধন সম্পন্ন করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, কর নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সিমকার্ড পুনর্নিবন্ধনের জন্য পৃথকভাবে কোনো কর আদায় করা হবে না। অর্থমন্ত্রী বিষয়টি স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন। শুধু এখন লিখিত আদেশ জারির অপেক্ষা।

x

Check Also

ঢাকার চাপ কমাতে সারাদেশে গড়ে তোলা হবে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা: প্রধানমন্ত্রী

সংসদ প্রতিবেদক রাজধানী ঢাকার ওপর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ কমাতে দেশের সব অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ...