Don't Miss
Home / বিনোদন / বলিউড / যেভাবে আন্তর্জাতিক তারকা হয়ে উঠেছিলেন ইরফান খান

যেভাবে আন্তর্জাতিক তারকা হয়ে উঠেছিলেন ইরফান খান

এমএনএ বিনোদন ডেস্ক : ইরফান খানের হলিউড ক্যারিয়ারটা বলিউডের অন্যদের মতো শেষরাতের স্বপ্নপূরণের মতো নয়। তিনি একাধিক বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নিজের জাত চিনিয়েছেন। প্রশংসা কুড়িয়েছেন সহশিল্পীদের।

২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বড় বাজেটের এবং অন্যতম সর্বাধিক আয়ের সিনেমা জুরাসিক ওয়ার্ল্ডে অভিনয়ের পর, পরের বছরই অর্থাৎ ২০১৬ সালে তিনি ফিরেন আরেক গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রে, ইনফার্নো। ড্যান ব্রাউনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত রন হাওয়ার্ড পরিচালিত এ সিনেমা মূলত অ্যাঞ্জেলস অ্যান্ড ডিমোনসের সিক্যুয়াল। এ সিনেমায় অস্কারজয়ী অভিনেতা টম হ্যাঙ্কস সিম্বোলজি প্রফেসর রবার্ট ল্যাঙডনের নাম ভূমিকায় প্রশংসনীয় অভিনয় করেন।

ইনফার্নোতে ইরফান খানের চরিত্রটি ছিল বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান নির্বাহী হ্যারি সিমসের নাম ভূমিকায়। তিনি পৃথিবীর অতিরিক্ত জনসংখ্যা কমিয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রকল্প নিয়ে কাজ করা জিনবিজ্ঞানী বার্ট্রান্ড জোব্রিস্টকে সহযোগিতা করেন। জোব্রিস্টের নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন বেন ফস্টার।

ইনফার্নোর বেশ কয়েকটি দৃশ্যে ইরফানকে টক হ্যাঙ্কের সঙ্গে দেখা গেছে। এ চলচ্চিত্র ভারতে মুক্তি পায় ২০১৬ সালের ২৮ অক্টোবর। টম হ্যাঙ্কস পরে বলেছিলেন, ইরফানের জাদুকরী চোখ তাকে মোহগ্রস্ত করেছে।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় মাস্টার্স করেন ইরফান খান। অভিনয় জগতের অন্যতম ব্যস্ত মানুষ ছিলেন তিনি। ভারতের মূল ধারার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি আর্টফিল্মেও তিনি বেশ নাম করেছেন। মিরা নায়ার এবং রিতেশ বাত্রার মতো নির্মাতাদের সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন। ভারতীয় এই নির্মাতারা পশ্চিমেও পরিচিত মুখ। এছাড়া টিভি নাটক এবং আমেরিকান নির্মাতাদের একাধিক আর্টফিল্মেও (দার্জিলিং লিমিটেড, ইন ট্রিটমেন্ট) নিয়মিত ছিলেন তিনি। হলিউডের দৃষ্টি আকর্ষণের পেছনে এই কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দ্য অ্যামেইজিং স্পাইডার ম্যান সিনেমাতেও কয়েকটি দৃশ্যে ইরফানকে দেখা গেছে। এখানে তিনি একজন বিজ্ঞানীর ভূমিকা ছিলেন। একই বছর লাইফ অব পাই সিনেমাতেও দেখা গেছে তাকে। জুরাসিক ওয়ার্ল্ডে তিনি থিমপার্কের মালিক সাইমন মাসরানির ভূমিকায় অভিনয় করেন। এই পার্কে দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে রাখা হয় জেনেটিক্যালি মডিফায়েড ডাইনোসর। পরে প্রকৃতির উপর খবরদারি করতে গিয়ে সবাইকে চড়া মূল্য দিতে হয়।

মিরা নায়ারের সালাম বোম্বে! (১৯৮৮) সিনেমায় ইরফান ছিলেন উজ্জ্বল। এ চলচ্চিত্র কান চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিল। এরপর ব্রিটিশ টেলিভিশন মিনি সিরিজ বোম্বে ব্লু (১৯৯৭) এবং স্টারলা গানারসনের সাচ অ্যা লং জার্নিতে (১৯৯৮) দেখা গেছে তাকে।

তবে দ্য ওয়ারিয়র (২০০১) সিনেমায় মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ই ইরফানকে আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতি এনে দিয়েছে। ব্রিটিশ নির্মাতা আসিফ কাপাডিয়া পরিচালিত এ সিনেমায় লাফকাডিয়া নামে এক পেশাদার যোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করেন। স্থানীয় জমিদারের হয়ে কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ বদলে যান তিনি। সব ছেড়ে চলে যান হিমালয়ে মনের প্রশান্তি খুঁজতে।

কম বাজেটের এ চলচ্চিত্রে আকিরা কুরুসাওয়ার অসিস্ত্ব টের পাওয়া যায়। বড় কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসব এবং যুক্তরাজ্যে সীমিত আকারে মুক্তি পেলেও সমালোচকদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি এ সিনেমার পরিচালক আসিফের মেধা ও মনন এবং ইরফান খানের অভিনয় দক্ষতা। ইরফানের সেই জাদুকরী চোখ হলিউডকেও বারবার টেনে এনেছিল ভারতের মাটিতে।

গত কয়েক বছরে ভারতের অনেক অভিনেতা অভিনেত্রীকে হলিউডের সিনেমায় দেখা গেছে। এর মধ্যে আইএস জহর, শশী কাপুর, রোশান শেঠ, পবন মালহোত্রা, ঐশ্বিরিয়া রাই বচ্চন, অনুপম খের, অনীল কাপুর, ফ্রিদা পিন্টো অন্যতম। এর আগে ছিলেন নাসিরুদ্দীন শাহ। সাম্প্রতিককালে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও দিপিকা পাড়ুকনের নাম এসেছে। প্রিয়াঙ্কা বেওয়াচ ও কোয়ান্টিকোতে অভিনয় করেছেন। আর দিপিকাকে দেখা গেছে ট্রিপল এক্স ফ্রেঞ্চাইজির দ্য রিটার্ন অব জ্যান্ডার কেজ ছবিতে।

হলিউডের তকমা লাগাতে পারাটা নিঃসন্দেহে খুব মযাদার ব্যাপার। এতে প্রোফাইলের ওজন বাড়ে। কিন্তু বিষয়টি নির্ভর করে ছবিতে তার উপস্থিতির কাল এবং সেই চরিত্রের গুরুত্বের ওপর। উদারহণস্বরূপ বলা যেতে পারে অনুপম খেরের কথা। তিনি অ্যাং লির ‘লাস্ট, কুশন’ (২০০৭) চলচ্চিত্রে একজন অলঙ্কার ব্যবসায়ির চরিত্রে অভিনয় করেন। কিন্তু এতে চরিত্রটি এতোটাই ক্ষণস্থায়ী এবং মুখ্য চরিত্র টনি লিউংয়ের উপস্থিতি এতোটাই শক্তিশালী যে তিনি একজন টিপিক্যাল ভারতীয়ই থেকে গেছেন। অবশ্য এর পরই অনুপম খের উডি অ্যালেনের  ইউ উইল মিট অ্যা টল ডার্ক স্ট্র্যাঞ্জার (২০১০) এবং ডেভিড ও’রাসেলের সিলভার লাইনিংস প্লেবুকে (২০১২) সুযোগ পান।

ভারতীয়দের মধ্যে ইরফান কিন্তু সব সময় হলিউডি চলচ্চিত্রে প্রথম পছন্দ ছিলেন। তার আগে শশী কাপুর থেকে সাম্প্রতিককালের ফ্রিদা পিন্টো, সবার মধ্যে ইরফানই একমাত্র অভিনেতা যিনি টিপিক্যাল ভারতীয় তকমা ঝেড়ে ফেলে নিজস্ব স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন। পশ্চিমে তিনি অন্যতম পরিচিত ও স্বীকৃত ভারতীয় মুখ।

x

Check Also

মেডিক্যাল

খুলনা বিভাগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে

এমএনএ শিক্ষা ও ভর্তি ডেস্কঃ ‘শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা, আইন, ২০২০’ এর খসড়া চূড়ান্ত ...

Scroll Up
%d bloggers like this: