এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : সাফ ফুটবলে অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতকে হারাল বাংলাদেশ। আজ সোমবার ভুটানের চাংলিমিথান স্টেডিয়ামে বিকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভারতকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে স্মরণীয় এই জয় তুলে আনে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ফুটবল মানেই যেন হতাশা। সাফ অনুর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে প্রথমার্ধে বাংলাদেশ তিন গোল হজম করলে দুর্দশা যেন আরো প্রকট হয়। তখন কে-ই ভেবেছিল এমন অবিশ্বাস্য কিছু করে ফেলবে বাংলাদেশের ফুটবলাররা। দ্বিতীয়ার্ধে বিস্ময়কর ফুটবল নৈপুণ্য উপহার দিয়ে ভারতকে ৪-৩ গোলে পরাজিত করেছে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।
ভুটানের থিম্পুতে চলমান সাফ অনুর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে বাংলাদেশ ও ভারতের লড়াইটি শুরু হয় বেলা চারটার। দুঃস্বপ্নের প্রথমার্ধের পর অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বিস্ময়কর জয়কে সঙ্গী করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ ফুটবলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে প্রথমার্ধে তিন গোল হজম করে বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ফিরেই জ্বলে ওঠে লাল-সবুজ জার্সির যুবারা। প্রথমে গুণে গুণে তিন গোল শোধ করে। কিন্তু তাতেও শেষ হয়নি প্রত্যাবর্তনের এই রূপকথা। ম্যাচের যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে হেড করে ছিনিয়ে নেয় জয়সূচক গোল।
বিরতিতে বাংলাদেশ কোচ মাহবুব হোসেন রক্সি তাঁর খেলোয়াড়দের কী টোটকা দিয়েছিলেন? ভোজবাজির মতো পাল্টে গেল সব। দ্বিতীয়ার্ধের ৪৫ মিনিট হবে শুধু তাদের, এই পণ নিয়েই যেন মাঠে প্রবেশ করলেন জাফর ইকবাল, রহমত মিয়ারা। দগদগে ক্ষতের ওপরে যেভাবে প্রলেপ দেওয়া হয়, সেভাবে একের পর এক গোল শোধ করে তিন গোলের ক্ষতে প্রলেপ দিল তারা। সবশেষে শেষ বাঁশি বাজার আগে জাফর ইকবালের হেডে কাঙ্ক্ষিত জয়সূচক গোল। অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ ফুটবলের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৪-৩ গোলে বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় জয়।

রক্ষণভাগের ভুলে লালপুজার গোলে ১৯ মিনিটেই পিছিয়ে পরে বাংলাদেশ। ১২ মিনিট পরেই ভারতীয়দের আবার পেনাল্টি উপহার দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক টুটুল হোসেন বাদশা। স্পটকিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেছে ভারতীয়রা। আর বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ফ্রি কিক থেকে দর্শনীয় গোলে ৩-০। মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের গলায় আজ গোলের মালা পরিয়ে দেবে ভারত।
কিন্তু রোমান্স তো তখনো বাকি। দ্বিতীয়ার্ধে ফিরেই জ্বলে ওঠে বাংলাদেশের যুবারা। লিখেছে প্রত্যাবর্তনের রূপকথা।
বাংলাদেশের এই রূপকথার নায়ক উইঙ্গার জাফর ইকবাল। নিজে জোড়া গোল করেছে, করিয়েছে আরও একটি। ৫৫ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে গোল করে গোলের খাতা খুলে ৩-১ করে জাফর। ৯১ মিনিটে জয়সূচক গোলটিও এসেছে তার হেড থেকে। মাঝের দুটি গোল রহমত মিয়া ও সুফিলের।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ভারতীয়দের চেপে ধরে বাংলাদেশ। ফুল প্রেসিং করে ভারতীয় ডিফেন্ডারদের ভুল করতে বাধ্য করে জাফর, সুফিলরা। এমনই এক ভুলে ইনডিরেক্ট ফ্রি কিক পায় বাংলাদেশ। ৬০ মিনিটে সে কিক থেকে ৩-২ করে রহমত। সমতায় ফিরতে তখনো এক গোল বাকি। আক্রমণে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ৭৪ মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে জাফরের ক্রসে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে হেডে গোল করে সুফিল। ৩-৩ গোলে সমতা, প্রথমার্ধ বিবেচনা করলে এটাই বা কম কিসের। কিন্তু জাফর যে পণ করেই মাঠে নেমেছে আজ। যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে গোল করে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে।
প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক জাফর আবদুল্লাহ; জোড়া গোল করেন তিনি। এছাড়া একটি করে গোল করেন মোহাম্মদ সুফিল ও রহমত মিয়া।
টুর্নামেন্টের অন্যতম দল শ্রীলঙ্কা নাম প্রত্যাহার করে নিলে ফরম্যাটে পরিবর্তন আসে। গ্রুপ পর্বের পরিবর্তে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল ও মালদ্বীপ রাউন্ড নবীন লিগ পদ্ধতিতে খেলবে। প্রতি দল চারটি করে ম্যাচ খেলবে। সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দল চ্যাম্পিয়ন হবে।
২০ সেপ্টেম্বর মালদ্বীপ এবং ২৫ ও ২৭ সেপ্টেম্বর যথাক্রমে নেপাল ও ভুটানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
