Don't Miss
Home / বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / ‘সুপার ব্লু ব্লাড মুন’ দেখা যাবে আজ

‘সুপার ব্লু ব্লাড মুন’ দেখা যাবে আজ

এমএনএ সাইটেক ডেস্ক : আজ ৩১ জানুয়ারি এবার বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য। এবার একই সঙ্গে দেখা যবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, সুপার মুন ও ব্লু-মুন। শেষবার এমনটা ঘটেছিল ১৫২ বছর আগে।
জ্যোতির্বিদরা এ বিরল ঘটনার নাম দিয়েছেন ‘সুপার ব্লাড ব্লু মুন এক্লিপস’। আর তা দেখা যাবে আজ ৩১ জানুয়ারি। উত্তর আমেরিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, রাশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া অঞ্চল থেকে দেখা যাবে এ অত্যাশ্চর্য দৃশ্য।
চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ৫১ মিনিটে, চলবে রাত ১০টা ৮ মিনিট পর্যন্ত। তবে বাংলাদেশ থেকে এ চন্দ্রগ্রহণ দেখতে হলে আকাশে চাঁদ ওঠা পর্যন্ত, অর্থাৎ সন্ধ্যারাত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে এলে সেটিকে ‘সুপার মুন’ বলে অভিহিত করা হয়। একই মাসে দু’বার পূর্ণিমার চাঁদ দেখা গেলে দ্বিতীয় পূর্ণিমার চাঁদকে বলা হয় ব্লু-মুন। নামে ‘নীল চাঁদ’ হলেও নীল রঙের সঙ্গে এ চাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাছাড়া এসময় চাঁদকে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল দেখাবে বলে এ চাঁদকে বলা হচ্ছে ‘সুপার মুন’।
চন্দ্রগ্রহণের সময় একই সঙ্গে দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’ও। পৃথিবীর ছায়ায় অবস্থানের কারণে চাঁদ রক্তিম বা রক্তরঙা হয়ে ওঠে।
একসঙ্গে তিনটি মহাজাগতিক ঘটনা বিরল। কিন্তু, ব্লাড মুন বা রক্তিম বর্ণের চাঁদ কোনো বিশেষ ঘটনা নয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, চন্দ্রগ্রহণের সময় বরাবরই চাঁদ লাল রং ধারণ করে, শুধু রঙের গাঢ়ত্বের হেরফের হয়। এতে চাঁদের কোনো কিছুই পরিবর্তিত হয় না, বরং পৃথিবীর বাতাসকে আমরা কতটা দূষিত করেছি তা বুঝা যায়।
চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ গাঢ় লাল ধারণ করলে বুঝতে হবে বাতাসে প্রচুর পরিমাণে ধুলিকণা ভাসছে। ডুবে যাওয়ার সময় সূর্যকেও একই কারণে লাল মনে হয়।
চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ দেখতে পাওয়ার কথা নয়। কারণ, এসময় চাঁদের গায়ে সূর্যের আলো পৌঁছতে বাঁধা দেয় পৃথিবী। এসময় চাঁদ কালো রঙের মনে হওয়ার কথা। কিন্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে বিক্ষিপ্ত আলোর কারণে চাঁদকে হালকা বা গাঢ় লাল মনে হয়। রঙের গাঢ়ত্বের হেরফের হলেও গ্রহণের কালে চাঁদ সমসময়ই লাল হয়ে থাকে।
জ্যোতির্বিদরা জানাচ্ছেন, চন্দ্রগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ছায়ার আড়াল থেকে বের হওয়া চাঁদের উজ্জ্বলতা হবে দেখবার মতো। এসময় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি আলো ছড়াতে দেখা যেতে পারে চাঁদকে।
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে ব্লাড মুন প্রায় ১৫০ বছর পর দেখা গেলেও ভারত ও পৃথিবীর অন্যান্য জায়গায় ১৯৬৬ ও ১৯৮২ সালে ব্লাড মুন দেখা গেছে।
এর আগে ১৮৬৬ সালের ৩১ মার্চ একই সঙ্গে ব্লু-মুন ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখেছিল বিশ্ববাসী। ১৯৮২ সালে তা দেখা গিয়েছিল আংশিকভাবে। এবছরের ১ জানুয়ারি দেখা গিয়েছিল ‘নেকড়ে চাঁদ’ নামের সুপার মুন। আমেরিকার আদিবাসীরা বছরের প্রথম সুপার মুনকে ডাকে ‘উলফ মুন’।
উল্লেখ্য, প্রাচীন ভারতের গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর্যভট্ট ৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে ব্লাড মুন দেখার বর্ণনা দেন ও চাঁদের রক্তিম বর্ণের জন্য বায়ুমণ্ডলের ধুলিকণাকে দায়ী করেন।
পৃথিবীর ছায়ার আড়ালে এলে চাঁদের উজ্জ্বলতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। এসময় পৃথিবীর বাতাস ফিল্টারের মত কাজ করে। বায়ুমণ্ডলের ধুলিকণা সূর্যরশ্মিকে বিক্ষিপ্ত করে ছড়িয়ে দিলে বর্ণালীর কেবল লাল আলো বায়ুমণ্ডল ভেদ করে বেরিয়ে যেতে পারে। ওই লাল আলো চাঁদের গায়ে প্রতিফলিত হওয়ায় সেটিকে লাল মনে হয়।
x

Check Also

ফিশিং সাইট

দারাজ এর নামে ফিশিং সাইট, ক্লিক করলেই বিপদ

এমএনএ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : প্রায়ই দেখা যায় বিভিন্ন নামী-দামী কোম্পানির নাম ব্যবহার করে ...

Scroll Up