Don't Miss
Home / আন্তর্জাতিক / তুরস্কে ভুমিকম্পের পর ১০ লাখেরও বেশি মানুষ গৃহহীন
গৃহহীন

তুরস্কে ভুমিকম্পের পর ১০ লাখেরও বেশি মানুষ গৃহহীন

এমএনএ আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভয়াবহ ভূমিকম্পে সিরিয়া ও তুরস্কে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। তুরস্কে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে, সিরিয়ায় এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

দুই দেশেরই উদ্ধারকারী দলগুলো এখন বিস্তীর্ণ এলাকায় উদ্ধার কাজ গুটিয়ে আনছে। কারণ জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। খবর বিবিসির

জাতিসংঘ বলছে যে, গত সপ্তাহের মারাত্মক ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হওয়ার পর দেশটিতে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে আরও দুটি সীমান্ত পারাপার খুলতে রাজি হয়েছে সিরিয়ার সরকার।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘এটি একটি বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। আমরা এখন পর্যন্ত একটি সীমান্ত পারাপার ব্যবহার করছি।’

অনেক সিরিয় নাগরিক তাদের যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশে সহায়তা না পৌঁছানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হওয়ার জন্য দেশটির উপর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেছে। তবে আন্তর্জাতিক সাহায্য গোষ্ঠীগুলো বলছে, আসাদ সরকারের অব্যবস্থাপনা এবং দেশের সব এলাকায় উদ্ধার কাজে সংযুক্ত না হওয়াটাই মূল প্রতিবন্ধকতা।

সোমবার দামেস্কে প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর জাতিসংঘ নতুন দুটি সীমান্ত পারাপার খুলে দেয়ার এই ঘোষণা দিয়েছে। এগুলো হচ্ছে- তুরস্কের সীমান্তের সঙ্গে থাকা বাব আল-সালাম এবং আল রাই সীমান্ত পারাপার। এতে বলা হয়েছে, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় সীমান্ত পারাপার প্রাথমিকভাবে তিন মাসের জন্য খোলা থাকবে।

বিবিসি রেডিও ফোরের ওয়ার্ল্ড টুনাইট প্রোগ্রামকে গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেছেন, ‘খুব শিগগিরই আমরা অন্য দুটি পারাপার ব্যবহার করব। আমরা আশা করি যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এটি ব্যবহার করতে হবে ততক্ষণ পর্যন্ত চুক্তিটি স্থায়ী হবে। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটি ব্যবহার করা শুরু করব এবং আমি এটি ছাড়া আর কোন কিছুই ভাবতে চাই না।’

দুজারিক আরও বলেন, ‘আমি শুধু অনুমান করতে চাই যে, মানুষ এই সংঘর্ষে যে পক্ষকেই সমর্থন করুক না কেন এখন তারা রাজনীতিকে সরিয়ে রাখবে।’

তবে কবে নাগাদ দুটি সীমান্ত পারাপার চালু হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

ভূমিকম্পের পর প্রথম কয়েক দিনে সিরিয়ার সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কিছু ত্রাণ সরবরাহ পৌঁছেছিল। মূলত রাশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বন্ধু রাষ্ট্রগুলো থেকে এসব সহায়তা আসে। কিন্তু সিরিয়ার বিধ্বস্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো কার্যত বিচ্ছিন্ন থেকে গেছে।

এর কারণ এই অংশগুলিতে আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্য শুধুমাত্র তুরস্ক হয়ে যাওয়া একটি সীমান্ত পারাপার ব্যবহার করে পৌঁছাতে পারে। অথবা সিরিয়ার সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলির মধ্য দিয়ে সেগুলোকে পৌঁছাতে পারে।

এদিকে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের এখানে মৃতের সংখ্যা ১৯৩৯ সালের ভূমিকম্পকে ছাড়িয়ে গিয়ে ৩১৬৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এটি আধুনিক তুরস্কের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে পরিণত হয়েছে।

x

Check Also

জুনে সারা দেশে ৪৭২ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩৮, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি সর্বোচ্চ

এমএনএ প্রতিবেদক গত জুন মাসে সারা দেশে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ৫৬১ ...