দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সচেতন প্রত্যেক মানুষই আজ চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থার সঙ্কট দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এ মুহুর্তে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানো জরুরি। আমরা মনে করি, এ জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে পুলিশ বাহিনীকে স্বমহিমায় ফিরতে হবে।
প্রতিদিনই ঘটছে অসংখ্য খুনের ঘটনা। অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে, না পেলে হত্যা করা হচ্ছে। প্রতিদিনই নানা জায়গায় মানুষের লাশ পাওয়া যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে, এমনকি শহরেও অহরহ ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। নিজেরা সংঘবদ্ধ হয়ে রাত জেগে পাহারা দিয়েও মানুষ ডাকাতি ঠেকাতে পারছে না। নারী, এমনকি শিশু ধর্ষণের ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। সেই সঙ্গে বেড়ে চলেছে দুর্বলের ওপর সবলের নানাবিধ অত্যাচার। চাঁদাবাজি-দখলবাজি-লুটতরাজ, কোনো কিছুরই কমতি নেই। পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে চূড়ান্ত রকমের ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব অপরাধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যেরও সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। তা ছাড়া অপরাধী-পুলিশ যোগসাজশের অভিযোগ ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ ভেবে পাচ্ছে না, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী?
গতকাল বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, নরসিংদী শহরে গত দেড় মাসে আটটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ডাকাতির ঘটনাই ঘটেছে স্থানীয় হিন্দু বাড়িতে। স্থানীয় লোকজন এসব ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তৎপরতা না থাকার অভিযোগ করেছে। স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতারা অব্যাহত ডাকাতির প্রতিবাদে আন্দোলনে নামারও ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ছবিতে দেখা যায়, নরসিংদী সদর মডেল থানার নতুন ওসি গোলাম মোস্তফা ও পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর মোর্শেদকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি রাহাত সরকার। আমাদের বোধগম্য নয়, পুলিশ কর্মকর্তা কেন ফুলেল অভ্যর্থনা নিতে যাবেন, তাও অভ্যর্থনাদাতার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর না নিয়েই। এমনটা শুধু নরসিংদী নয়, সারা দেশেই কমবেশি দেখা যায়। কোন অজ্ঞাত কারণে বিভিন্ন মামলার আসামি ও অপরাধীদের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশের সখ্য গড়ে ওঠে, তাও আমাদের জানা নেই। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরই এই যোগসূত্রের রহস্য খুঁজে বের করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
অতীতে অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক চাপে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে না। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ কর্মকর্তারাই স্বীকার করছেন, রাজনৈতিক চাপ এখন আগের তুলনায় অনেক কম। গণমাধ্যমের খবরেও এর সত্যতা পাওয়া যায়। এর পরও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এমন ব্যর্থতার কারণ কী? তাহলে কি আমরা ধরে নেব, সর্ষেতেই ভূতের আছর হয়েছে? যা রটে, তার সবটা না হলেও কিছু তো ঘটেই। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শত অভিযোগের পরও সাধারণ মানুষের ভরসা এখনো পুলিশ। তাই আমরা আশা করি, পুলিশকে তার নিজস্ব স্থানে ও ভূমিকায় ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
-সম্পাদক
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক


