মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ) : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের পাশাপাশি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে সরাসরি নির্বাচনের বিধান রেখে দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধনীর তথ্য অবহিত করার পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন সংশ্লিষ্ট থানার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সুপারিশের ভিত্তিতে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, আমাদের গঠনতন্ত্রের একটি ধারায় পরিবর্তন এসেছে। দলীয় চেয়ারপারসনের পাশাপাশি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদটিও নির্বাচনের মাধ্যমে হবে। সে বিষয়টি কমিশনকে অবহিত করতে এসেছিলাম।
রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম, বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়নের ব্যাপারে আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি জানিয়েছে, আগের পাঁচজনের সঙ্গে ২০০৮ সালের নির্বাচনে যারা বিএনপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন, প্রার্থী অনুমোদনে তাদেরও সুপারিশ লাগবে।
এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ইউপি নির্বাচনে দলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মনোনয়নে স্থানীয় পাঁচজন নেতার যৌথ সুপারিশ লাগবে। তাঁরা হলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁদের সুপারিশের ভিত্তিতে বিএনপির চেয়ারপারসন প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।
দুটি বিজ্ঞপ্তিই গণমাধ্যমে পাঠানো হয় দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্ব স্ব এলাকায় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীসহ ছয়জনের সুপারিশ লাগবে। অন্য পাঁচজনের বিষয়ে আগের সিদ্ধান্তই বহাল আছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর নির্ভুল নাম এবং ভোটার আইডি নম্বর (ভোটার তালিকা থেকে সংগৃহীত) সংগ্রহ করে মনোনয়নপত্র দাখিলের সাত দিন আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরে পৌঁছাতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের অনুরোধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আহ্বায়ক কমিটির ক্ষেত্রে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব সুপারিশ করবেন। সদস্যসচিব না থাকলে ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুপারিশ করবেন। একইভাবে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ক্ষেত্রেও আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব সুপারিশ করবেন। সদস্যসচিব না থাকলে ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক, ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়কসহ যৌথভাবে পাঁচ ব্যক্তি দলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করবেন।
আহ্বায়ক কমিটিতে যদি যুগ্ম আহ্বায়কের পদ না থাকে, সে ক্ষেত্রে উপজেলা বিএনপির কমিটির ক্ষেত্রে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব, সদস্যসচিব না থাকলে ১ নম্বর সদস্য এবং ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির ক্ষেত্রে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব, আর সদস্যসচিব না থাকলে ১ নম্বর সদস্য ও ২ নম্বর সদস্য, অর্থাৎ অনুরূপ পাঁচজন যৌথভাবে প্রার্থীর নাম অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করবেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক




