রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সময় থাকতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের মতো সবরকমের অনৈতিক বাণিজ্য থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে উদ্ধার করতে দায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি।
বছরের শুরুতে ভর্তির সময় ছাড়াও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। এবার বছরের শুরুতে নতুন বেতন কাঠামোর অজুহাতে রাজধানীর প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের বেতন অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে দিলে অভিভাবকদের পথে নামতে হয়। তখনই বিষয়টি শিক্ষা প্রশাসনের গোচরে আসে। জানুয়ারি মাসেই অতিরিক্ত টিউশন ফি না নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়। এ মাসের শুরুতেই এক সংবাদ সম্মেলন করে আদায়কৃত অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগই মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন কিংবা শিক্ষামন্ত্রীর আলটিমেটাম গ্রাহ্য করছে বলে মনে হয় না। ঢাকা বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত বছর এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় অতিরিক্ত ফি নিয়েছিল ৮৫৫টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ১২টি প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিয়েছে বলে জানিয়েছে।
কেউ কেউ জানিয়েছে, তারা অতিরিক্ত টাকা নেয়নি। তবে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন কিংবা শিক্ষামন্ত্রীর আলটিমেটামে কোনো সাড়া দেয়নি। কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, আদায় করা অতিরিক্ত টাকা বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ভর্তি ও ফরম পূরণের নামে এবারই যে প্রথম বাড়তি অর্থ নেওয়া হয়েছে, তা নয়। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। তদন্তে তা প্রমাণিতও হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা এই যে বাড়তি টাকা ফেরত দেওয়া বা বেতনের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বললেও মন্ত্রণালয়কে রীতিমতো ‘বুড়ো আঙল’ দেখিয়েছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
ভর্তি ফি ও বেতন বাড়িয়ে দেওয়ার পেছনে যে রাজধানী তথা দেশের নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্যিক মানসিকতা কাজ করে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তান লেখাপড়া করবে, এমন স্বপ্ন সব অভিভাবকেরই থাকে। সে কারণে রাজধানীর পাশাপাশি সারা দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় সন্তানদের ভর্তির জন্য এক ধরনের প্রতিযোগিতাও লক্ষ করা যায়। এই প্রতিযোগিতাকে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুঁজি করে শিক্ষাকে পরিণত করেছে বাণিজ্যিক পণ্যে। রাজধানীর বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভর্তি পরীক্ষার নামে যা করে আসছে, তাকে এক অর্থে শিক্ষা বাণিজ্যই বলা যেতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই একটি নিয়মের মধ্যে চলতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান বাড়তি ফি সমন্বয় করেনি ও মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে সাড়া দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

