এমএনএ রিপোর্ট : বগুড়ায় ক্ষমতাসীন দলের নেতা তুফান কর্তৃক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও মা-মেয়েকে ন্যাড়া করার ঘটনা উল্লেখ করে এইচ এম এরশাদ বলেছেন, দেশে এখন ক্ষমতার তুফান চলছে। এসময় তিনি সারাদেশে চলমান খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতি ও অবিচারের নানা চিত্র তুলে ধরে নানান প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
বগুড়ায় বাড়ি থেকে ক্যাডার দিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকারের কথা উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তুফান আওয়ামী লীগের কেউ না। গঠনতান্ত্রিকভাবে এটি গ্রহণযোগ্য হলেও রাজনৈতিকভাবে খোলা চোখে মানুষ মনে করে, শ্রমিক লীগ আওয়ামী লীগের অংশ। এদেশে সুশাসন থাকলে কেমন করে তারা মাদক সামাজ্র্যের অধিপতি হয়?’
এরশাদ আরও বলেন, ‘তুফান সরকার কিভাবে শ্রমিক লীগের নেতা হন এবং তার ভাই মতিন সরকার কিভাবে যুবলীগ নেতা হন।’
এরশাদ বলেন, ‘দেশে এখন কি ঘটছে ? প্রতিদিন নারী ধর্ষণের কথা পত্রিকায় আসছে। তিতুমীরের ছাত্র সিদ্দিকুরকে চোখ হারাতে হলো। বগুড়ায় মা-মেয়েকে নির্যাতনের পর তাদের মাথার চুল কেটে নেওয়া হলো।
এসবের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা চিহ্নিত। তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তেমনটা আমাদের চোখে পড়ছে না।’
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচ এম এরশাদ আরও বলেন, বিচারব্যবস্থা এখন নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। সরকার যেন অসহায় হয়ে পড়েছে। সংবিধানের ১৬তম সংশোধনীর বিষয়ে আপিল বিভাগের রায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আদালতের এ পর্যবেক্ষণের পর লজ্জায় আমাদের মাথা হেঁট হয়ে গেছে।’
চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, দেশের খাদ্য পরিস্থিতি এখন নাজুক। আমরা ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার কথা শুনেছি। এখন ১০ টাকা তো দূরে থাকা, সাধারণ মানুষকে ৫০ টাকায় চাল খেতে হচ্ছে।’ জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের এমন পরিস্থিতি ছিল না।
এমন অবস্থায় মন্ত্রিসভা থেকে জাতীয় পার্টির মন্ত্রীরা এবং তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত থেকে পদত্যাগ করবেন কি না—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দিলে আমরা সময়মতো পদত্যাগ করব।’ দেশের এমন অবস্থায় জাতীয় পার্টি কি চায় সরকার পদত্যাগ করুক—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তা চাই না। এতে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হবে।’
এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব কি না, তা জানতে চাইলে এরশাদ বলেন, এখন পর্যন্ত এই কমিশনের পরীক্ষা হয়নি। ভবিষ্যতে বোঝা যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন প্রমুখ।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

