Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / বিশ্ব একাদশকে হারিয়ে সিরিজ জিতল পাকিস্তান

বিশ্ব একাদশকে হারিয়ে সিরিজ জিতল পাকিস্তান

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : গতকাল শুক্রবার ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপ তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে বিশ্ব একাদশকে ৩৩ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতল পাকিস্তান। ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর প্রথম পদক্ষেপটা দারুণভাবে শেষ করল সরফরাজ আহমেদের দল।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে বিশ্ব একাদশকে ২০ রানে হারিয়ে এগিয়ে যায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে সমতায় ফেরে বিশ্ব একাদশ। তবে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে স্বাগতিকদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি ডু প্লেসিস-তামিম ইকবালের দল।

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ডু প্লেসিস। আহমেদ শেহজাদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৮৯ রানের ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রানে আটকে যায় বিশ্ব একাদশের ইনিংস।

তামিম ইকবাল এদিনও পারেননি ভালো কিছু করতে। আউট হয়েছেন ১৪ রানে। বিশ্ব একাদশের রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই ইমাদ ওয়াসিমকে তিনটি চার মারেন তামিম। তবে তার দৌড় শেষ দ্বিতীয় ওভারেই। বাঁহাতি পেসার উসমান খানের একটু নিচু হওয়া বলে বোল্ড।

আগের ম্যাচে অপরাজিত ৭২ রান করা হাশিম আমলার বিদায় এদিন ২১ রানেই। সুবিধা করতে পারেননি বাকিরাও। ১০ ওভার শেষ হওয়ার আগেই নেই ৫ উইকেট।

বিশ্ব একাদশের হয়ে জর্জ বেইলি ২৯ বলে ৩২ এবং থিসারা পেরেরা ১৩ বলে করেন সমান ৩২ রান। আগের ম্যাচে নাটকীয় জয়ের নায়ক থিসারা পেরেরা ঝড় তুললেন আবারও। তবে এবার লক্ষ্য ছিল আরও কঠিন। প্রয়োজন ছিল আরও অতিমানবীয় কিছু। পেরেরা পেরে ওঠেনি।

৩২ রান করেছেন ডেভিড মিলারও। তবে ম্যাচে তা প্রভাব ফেলেনি। পরিস্থিতির দাবি মেটাতে পারেননি ড্যারেন স্যামি (২৩ বলে ২৪*)। বিশ্ব একাদশের ইনিংস শেষ হওয়ার বেশ আগেই শেষ ম্যাচের উত্তেজনা।

পাকিস্তানের হয়ে হাসান আলি সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন। একটি করে উইকেট নেন ইমাদ ওয়াসিম, উসমান খান ও রুম্মান রইস। বিশ্ব একাদশের তিন-তিনজন ব্যাটসম্যান রানআউটের ফাঁদে পড়েন।

এর আগে প্রথম দুই ম্যাচের মতো আজ শুক্রবারও পাকিস্তানকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে যায় দলের টপ অর্ডার। ২৫ বলে ২৭ রান করে আগে ফেরেন ফখর জামান। তবে ততক্ষণে ৫০ বলে ৬১ রানের উদ্বোধনী জুটি পেয়ে গেছে পাকিস্তান।

এরপর শেহজাদ ও বাবর আজমের জুটি এদিনও পাকিস্তান ইনিংসের মেরুদণ্ড। ৩৭ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করে শেহজাদ। অর্ধশতকের পর একটু কমে গিয়েছিল তার গতি। পরে আবার ছোটেন ঝড়ের গতিতে। টানা তিন ছক্কা মারেন বেন কাটিংকে।

এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির পথেও। কিন্তু রান আউট হয়ে যান ৫৫ বলে ৮৯ রানে। এই রান তিনি ৮টি চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। প্রথম ম্যাচের নায়ক বাবর এদিন করেন ৩১ বলে ৪৮। শেষ দিকে যথারীতি দুই ছক্কায় ৭ বলে অপরাজিত ১৭ শোয়েব মালিক।

বিশ্ব একাদশের হয়ে থিসারা পেরে দুটি উইকেট নেন। ফখর ও শেহজাদ দুজনই রানআউটের ফাঁদে পড়েন।

২০০৯ সালে লাহোরে সফরকারী শ্রীলঙ্কা দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়। সেই ঘটনার জের ধরে পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ হচ্ছে না। এক জিম্বাবুয়ে ছাড়া কোনো দলই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে গত আট বছরে পাকিস্তানে যায়নি। বিশ্ব একাদশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে সেই ‘বন্ধ্যাত্ব’ ঘুচবে বলেই আশাবাদ পাকিস্তানের।

তবে পাকিস্তান ক্রিকেটে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনল এই সিরিজ। এবার তারা আশায় থাকবে বড় দলগুলিরর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের!

আগামী অক্টোবরে পাকিস্তানের মাটিতে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। এছাড়া নভেম্বরে পাকিস্তান সফরে আসার কথা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের।

পাকিস্তানের একাদশ : আহমেদ শেহজাদ, ফখর জামান, বাবর আজম, সরফরাজ আহমেদ, শোয়েব মালিক, মোহাম্মদ নওয়াজ, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ নওয়াজ, উসমান সিনওয়ারি, হাসান আলি ও রুম্মান রইস।

বিশ্ব একাদশের একাদশ : তামিম ইকবাল, হাশিম আমলা, ফাফ ডু প্লেসিস, থিসারা পেরেরা, জর্জ বেইলি, ডেভিড মিলার, বেন কাটিং, স্যামুয়েল বদ্রি, ইমরান তাহির, মরনে মরকেল ও ড্যারেন স্যামি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

পাকিস্তান : ২০ ওভারে ১৮৩/৪ (ফখর ২৭, শেহজাদ ৮৯, বাবর ৪৮, মালিক ১৭*, ইমাদ ০, সরফরাজ ০*; বদ্রি ০/২৮, মর্কেল ০/৪২, কাটিং ০/২৬, থিসারা ২/৩৭, স্যামি ০/২৪, তাহির ০/২৬)।

বিশ্ব একাদশ : ২০ ওভারে ১৫০/৮ (তামিম ১৪, আমলা ২১, কাটিং ৫, দু প্লেসি ১৩, বেইলি ৩, মিলার ৩২, থিসারা ৩২ , স্যামি ২৪*, মর্কেল ১, বদ্রি ০*; ইমাদ ১/৩৪, উসমান ১/২৬, হাসান ২/২৮, রাইস ১/২০, নওয়াজ ০/৭, শাদাব ০/৩৪)।

ফল : পাকিস্তান ৩৩ রানে জয়ী

সিরিজ : ৩ ম্যাচ সিরিজে পাকিস্তান ২-১ ব্যবধনে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ : আহমেদ শেহজাদ

x

Check Also

জুনে সারা দেশে ৪৭২ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩৮, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি সর্বোচ্চ

এমএনএ প্রতিবেদক গত জুন মাসে সারা দেশে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ৫৬১ ...