Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / সরিষাবাড়ির নিখোঁজ পৌর মেয়র শ্রীমঙ্গলে উদ্ধার

সরিষাবাড়ির নিখোঁজ পৌর মেয়র শ্রীমঙ্গলে উদ্ধার

এমএনএ জেলা প্রতিনিধি : রাজধানীর উত্তরা থেকে নিখোঁজ হওয়া জামালপুরের সরিষাবাড়ির পৌর মেয়র ও ব্যবসায়ী রুকুনুজ্জামানকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। জেলার পুলিশ সুপার মো. শাহ জালাল প্রথম আলোকে এ কথা জানিয়েছেন।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধারের সময় মেয়রের হাত-পা বাধা ছিল। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কারা, কেন তাঁকে অপহরণ করেছে, শ্রীমঙ্গলের কোথা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে, সে সম্পর্কে পরে জানানো হবে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

গত সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাজধানীর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হন রুকুনুজ্জামান। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। সঙ্গে থাকা মুঠোফোনটিও বন্ধ ছিল।

মেয়র পরিবারের অভিযোগ, শত্রুতার জের ধরে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সরিষাবাড়ি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী গণমাধ্যমকে বলেন, মেয়র বাসা থেকে ১০ মিনিটের জন্য বের হয়েছিলেন। ওই সময় তিনি তার দেহরক্ষী ও গাড়ির চালককে তৈরি থাকতে বলেন। ফিরেই গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আর বাসায় ফেরেননি। এর পর থেকে তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

নিখোজেঁর পর মেয়র রোকনের শ্বশুর নুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, গত রোববার সরিষাবাড়ি থেকে ঢাকায় আসেন রোকন। তার সঙ্গে কারও ঝামেলা রয়েছে কি-না, তা তাদের জানা নেই। নিখোঁজের পর তাকে ফিরিয়ে দিতে কেউ টাকাও দাবি করেনি। আইন-শৃগ্ধখলা বাহিনীও তাকে নেওয়ার কথা নয়। পুরো ঘটনা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘মেয়র রুকুন’ নামের আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, ‘…নতুন প্রজন্মের কাছে আমার আহ্বান যে আমাকে হত্যা করা হলেও তোমাদের সিক্ত ভালোবাসা যেন অটুট থাকে এবং আমার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তোমরা ধরে রাখবা।’

দিনভর কোনো খোঁজ না পেয়ে মেয়রের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম টুকন গত সোমবার সন্ধ্যায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং ১৬১১) করেন।

টুকন বলেন, মেয়রকে স্থানীয় এক ঠিকাদার সম্প্রতি হুমকি দেন। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছিল।

পৌর মেয়র রুকুনুজ্জামান রোকন পৌর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি। তিনি ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। রোকন উত্তরার গাউসুল আযম এভিনিউর নাহার প্লাজার ৬০ নম্বর ভাড়া বাসায় ১০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন।

মেয়র মো. রুকুনুজ্জামানের বাড়ি সরিষাবাড়ীর সাতপোয়া গ্রামে। একসময়ের ইতালিপ্রবাসী রুকুনুজ্জামান বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরের বছর আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করে মেয়র নির্বাচিত হন। তৈরি পোশাকের ব্যবসাও আছে তাঁর। একই সঙ্গে একটি বায়িং হাউসেরও মালিক। ব্যবসায়িক কার্যক্রম দেখাশোনার জন্য উত্তরায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন তিনি। সঙ্গে থাকতেন দেহরক্ষী, এক ভাতিজা, গাড়ির চালক এবং এলাকার আরও দুই ছেলে।

x

Check Also

জুনে সারা দেশে ৪৭২ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩৮, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি সর্বোচ্চ

এমএনএ প্রতিবেদক গত জুন মাসে সারা দেশে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ৫৬১ ...