Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ : ফখরুল

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ : ফখরুল

এমএনএ রিপোর্ট : কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘আগের চেয়ে খুবই খারাপ এবং তা উদ্বেগজনক’ বলে দাবি করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ শনিবার বিকেলে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি খালেদার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফখরুল এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ ও উদ্বেগজনক। মেডিকেল বোর্ডের দেয়া ওষুধে তার কাজ হচ্ছে না।
গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের সাহসের সঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য খুবই খারাপ হয়ে পড়েছে। আজকে আমরা তাকে যতদূর দেখেছি, তাতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। তিনি যে হাসপাতালে যেতে চেয়েছেন, সেখানে রেখে তার চিকিৎসা প্রয়োজন। তার পছন্দ ইউনাইটেড হাসপাতাল।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বাম হাত আস্তে আস্তে শক্ত হয়ে যাচ্ছে। বাম হাতের ওজনও বেড়ে গেছে। বাম পা থেকে শুরু করে গোটা বাম দিক পেছনে পর্যন্ত ব্যথা বেড়ে গেছে। এখন সাধারণভাবে হাঁটাচলা করাও তার জন্য মুশকিল হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুপুরে ডাক্তাররাও বলেছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে একসময় তার প্যারালাইসিসের মতো হয়ে যেতে পারে। তার ডান চোখ লাল হয়ে গেছে। ডাক্তাররা আজও বলেছেন, তার যে অসুখ, এটা বেড়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তখনও বলেছি, এখনও বলছি, অবিলম্বে তিনি (খালেদা জিয়া) যে হাসপাতালে যেতে চেয়েছেন, সে হাসপাতালে রেখে বিশেষভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এটা সরকারের দায়িত্ব। এর যদি কোনও ব্যত্যয় ঘটে বা কোনও রকমের ক্ষতি হয়, তার দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।’
কারাগারে সরকারের গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে যেসব ওষুধপত্র দিয়েছেন, সেগুলো কোনও কাজ করছে না দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘ওই ওষুধগুলো তার রোগের যন্ত্রণা লাঘবের কাজ করছে না। যেটা তার প্রয়োজন, পরিবেশটা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এই পরিবেশে সুস্থ লোক কোনও দিন অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, কিন্তু অসুস্থ লোক সুস্থ হতে পারে না।’
খালেদা জিয়া দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি দোয়া চেয়েছেন, দেশবাসী যেন তার সুস্থতার জন্য দোয়া করেন এবং এখন যে একটা দুঃসময় চলছে জাতির জন্য, দেশের জন্য, এই দুঃসময়ের যেন অবিলম্বে অবসান ঘটে।
ফখরুলের সঙ্গে এসময় নজরুল ও আব্বাস ছাড়াও ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার ও প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।
এর আগে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে কারাগারে প্রবেশ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান। এক ঘণ্টারও বেশি সময় সাক্ষাৎ শেষে ৫টার দিকে বেরিয়ে আসেন তারা।
গত ১৯ এপ্রিল খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ফখরুলসহ এ তিন নেতা। কারাগারে যাওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আইজি প্রিজন না থাকায় সাক্ষাৎ হবে না। তবে পরের বার অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন হবে না।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও প্রত্যেকের ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জারিমানা করে রায় ঘোষণা করেন আদালত।
রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। প্রথম শ্রেণির কারাবন্দি হিসেবে বর্তমানে তিনি সেখানেই রয়েছেন।
কারাবন্দির পর থেকেই খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছেন বিএনপির নেতারা।
x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...