সারা দেশে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রীসহ নিহত ১১
Posted by: News Desk
May 7, 2018
এমএনএ চেলা প্রতিনিধি : সারা দেশে বজ্রপাতে এক স্কুলছাত্রীসহ ১১জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শেরপুরে চার জন, হবিগঞ্জে দুই জন, মৌলভীবাজারে দুই জন, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লায় এক জন করে মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বজ্রপাতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীনা রয়েছেন।
শেরপুর : শেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রী ও কৃষকসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকালে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সময় পৃথক ঘটনায় তারা মারা যান। নিহতরা হচ্ছেন- সদর উপজেলার হালগড়াচর গ্রামের আবু শেখের ছেলে কৃষক আব্দুর রহিম (৫০), নকলা উপজেলার মুচারচর গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে দিনমজুর শহীদুল ইসলাম (৩২), শ্রীবরদী উপজেলার বকচর গ্রামের মৃত জমির উদ্দিনের ছেলে কৃষক কুব্বাত আলী (৬০) ও নালিতাবাড়ী উপজেলার পাগারিয়া মির্জাবাজার এলাকার হাফেজ সোহেল মিয়ার মেয়ে স্কুলছাত্রী শারমিন আক্তার (১৫)।
হালুয়াঘাট উপজেলায় আজ সকালে বজ্রপাতে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম শারমিন আক্তার (১৬)। সে উপজেলার কৈচাপুর ইউনিয়নের রুহিপাগারিয়া গ্রামের মো. সোহেল মিয়ার মেয়ে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে মুষলধারে বৃষ্টির সময় সদর উপজেলার হালগড়াচর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম ক্ষেতে ধান কাটছিলেন। ওইসময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
একই সময়ে শ্রীবরদী উপজেলার বকচর গ্রামের বাসিন্দা কুব্বাত আলী ক্ষেতে ধান কাটছিলেন। ওই সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নকলা উপজেলার বানের্শ্বদী ইউনিয়নের মুচারচর গ্রামে দিনমজুর শহীদুল ইসলাম ক্ষেত থেকে ধান কেটে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। ওইসময় আরও এক দিনমজুর আহত হন।
এছাড়া নালিতাবাড়ীর নিজপাড়া এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন আক্তার আজ সকালে প্রাইভেট পড়ে বৃষ্টির মধ্যে ছাতা নিয়ে বাসায় ফিরছিল। সকাল নয়টার দিকে বাড়ির কাছে রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের বাগিচাপুর-মির্জাবাজার সড়ক এলাকায় বজ্রপাতে আহত হয়। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হবিগঞ্জ : বানিয়াচং উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বৃন্দা চিত্তা হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে দুই কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এতে অপর এক শ্রমিক আহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। মৃত কৃষি শ্রমিকরা হলেন কবিরপুর গ্রামের মৃত নাদু বৈষ্ণবের ছেলে অধীর বৈষ্ণব (২৭) ও তেলঘরি গ্রামের বীরেশ্বর বৈষ্ণবের ছেলে বসু বৈষ্ণব (৩২)। আহত কৃষি শ্রমিক হলেন তেলঘরি গ্রামের হরিচরণ বৈষ্ণবের ছেলে কৃষ্ণধন বৈষ্ণব (৩২)।
বানিয়াচং উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান বলেন, সকালে বজ্রসহ বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় বৃন্দা চিত্তা হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতের শিকার হন তিন কৃষি শ্রমিক। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান অধীর বৈষ্ণব। গুরুতর আহত অবস্থায় বসু বৈষ্ণবকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত কৃষ্ণধন বৈষ্ণবকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মৌলভীবাজার : সদর ও শ্রীমঙ্গলে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও দুইজন। আজ সোমবার সদরের খলিলপুর ইউনিয়নের খলিলপুর গ্রামে ও শ্রীমঙ্গলের কালাপুর ইউনিয়নের হাইল হাওরে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সদর উপজেলার খলিলপুর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু সামাদ (১৫) এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার বরুনা গ্রামের ইসলাম মিয়ার ছেলে মফিজ মিয়া (৩০)।
সুনামগঞ্জ : শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওরে ধান মাড়াই করার সময় বজ্রপাতে এক কৃষক নিহত হয়েছ্নে। নিহত নবকুমার দাস (৬৫) উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা। শাল্লা থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, আজ সোমবার দুপুরে ধান মাড়াই করার সময় বজ্রপাতে নবকুমার আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখানে কতর্ব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শালীহর জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন মো. রুস্তুম আলী মুনশী (৭০) ধানকাটার সময় বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন।
পরিবার সূত্র জানায়, শালীহর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেরে মো. রুস্তুম আলী মুনশী (৭০) সোমবার সকালে ধান কাটার জন্য ক্ষেতে যান। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বজ্রপাতে নিহত ধানক্ষেতে মারা যান। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার সৈয়দা মাসরুবা তানজিন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বেসরকারি সার্ভেয়ার (ভূমি জরিপকারী) মো. রহমত উল্লাহ জানান, নিহত মোয়াজ্জিন রুস্তুম আলী একজন বর্গাচাষি ছিলেন। অন্যের জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, ৫ মেয়ে ও ১ ছেলে রেখে গেছেন।
কুমিল্লা : জেলার নাঙ্গলকোটে বজ্রপাতে রাহেনা বেগম ( ৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকালে উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব বামপাড়া গ্রামের চৌধুরী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাহেনা ওই বাাড়ির মো. সেরাজুল হক চৌধুরীর স্ত্রী। আজ সোমবার সকালে এক কন্যা সন্তানের জননী রাহেনা বেগম বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে যায়। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত ১১ স্কুলছাত্রীসহ বজ্রপাতে সারা দেশে 2018-05-07