Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / সৌদি থেকে শূন্য হাতে দেশে ফিরলেন আরো ১২৫ জন

সৌদি থেকে শূন্য হাতে দেশে ফিরলেন আরো ১২৫ জন

এমএনএ রিপোর্ট : সৌদি আরব থেকে শূন্য হাতে দেশে ফিরলেন আরো ১২৫ জন। এনিয়ে চলতি মাসেই মোট ২ হাজার ৬১৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের এসভি ৮০৪ বিমানে করে তারা দেশে আসেন।

চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই ৪২১ জন ফিরেছেন। এর মধ্যে ১ নভেম্বর ১০৪ জন, ২ নভেম্বর ৭৫ জন, ৩ নভেম্বর ৮৫ জন, ৪ নভেম্বর ৬১ জন ও গতকাল ৬ নভেম্বর ৯৬ জন ফিরেছেন।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর ১২০ জন, ২৭ অক্টোবর ১৬০ এবং ৩১ অক্টোবর ১৫৩ বাংলাদেশিকর্মী ফিরেছেন।

চলতি বছরের ১০ মাসে সৌদি আরব থেকে ২১ হাজার বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্ক।

এ পরিসংখ্যানে গতকাল যুক্ত হলো আরও ১২৫ জন।

এসব প্রবাসী বাংলাদেশিকর্মী সবাই ফিরেছেন, একেবারে খালি হাতে, নিঃস্ব হয়ে। অনেকের গায়ে ছিল কোম্পানির পোশাক, কারও পায়ে ছিল না স্যান্ডেলও। অনেকে পুরনো পোশাক ছাড়া সঙ্গে করে আর কোনো কাপড় আনতে পারেননি।

সৌদি আরবের রাস্তায়, দোকানে ধরপাকড়ে পরে এসব বাংলাদেশি শ্রমিক এক কাপড়েই দেশে ফিরেছেন। ইকামা (সৌদি আরবের রেসিডেন্স পারমিট) বৈধরাও এ ধরপাকড় অভিযানে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে দেশে ফিরছেন।

গতকাল বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে নিজের দুদর্শার কথা জানালেন কুমিল্লার নন্দন কুমার।

তিনি বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইকামা (কাজের অনুমতি) নবায়ন করতে সাড়ে ৬ হাজার রিয়াল দিই কফিলকে (নিয়োগকর্তা)। এরই মধ্যে পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে। আমাকে ছাড়িয়ে নিতে কফিলকে ফোন করি। কিন্তু কফিল সে ফোনে সাড়া দেয়নি। তাই পুলিশ শূন্য হাতেই দেশে পাঠিয়ে দিলো আমাকে। কিছুই তো সঙ্গে আনতে পারলাম না। ৬ হাজার রিয়ালও গেল। আমি এখন নিঃস্ব।

নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজারের আফজাল (২৬) মাত্র আড়াই মাস আগে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। একদিন বাজার করতে বাসা থেকে বের হলে তাকে আটক করে সৌদি পুলিশ। সঙ্গে ইকামা ছিল না তখন। বাসায় ইকামা আছে বলে বারবার জানালেও পুলিশ তার কথায় কান দেয়নি। পথ থেকে ধরেই দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয় তাকে।

তিনি বলেন, যত টাকা খরচ করে গিয়েছিলাম সেটাও যদি কামাই করতে পারতাম তো সান্তনা দিতে পারতাম মনকে।

আফজালের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কামরুল ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ করে আড়াই মাস আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। তাঁকেও দেশে ফিরতে হলো শূন্য হাতে। দুই বছর সেলুনে কাজ করেছেন কুমিল্লার নন্দন কুমার। কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিয়োগকর্তা কফিলকে সাড়ে ছয় হাজার রিয়াল দিয়েছিলেন। কিন্তু অনুমতির মেয়াদ আর বাড়েনি তাঁর। পুলিশের হাতে নন্দন গ্রেপ্তার হলে কফিলকে ফোন করেন তিনি। কিন্তু কফিল আর নন্দনের দায়িত্ব নেননি। এতে তাঁকেও শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হলো।

একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে দেশে ফিরতে হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্টু মিয়া, সাইদুল ইসলাম, নরসিংদির নাইম, হবিগঞ্জের ফারুক হোসেন ও ঢাকার সাইফুল ইসলামকে। দেশে ফেরা এই কর্মীদের অনেকেরই অভিযোগ, ইকামা বা কাজের অনুমতি তৈরির জন্য কফিলকে টাকা দেওয়া হলেও ইকামা করে দেননি। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীদের দায়দায়িত্ব নেননি। বরং তিনি প্রশাসনকে এঁদের ভিসা বাতিল করে দেশে পাঠিয়ে দিতে বলেছেন।

বরাবরের মতো গতকাল ফেরত আসাদেরও প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২২ হাজার বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসের তিন সপ্তাহে ফিরলেন ২ হাজার ৬১৫ জন। প্রায় সবাই খালি হাতে ফিরেছেন। যারা কয়েক মাস আগে গিয়েছিলেন, তাদের কেউই খরচের টাকা তুলতে পারেননি। এরা সবাই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ।’

শরিফুল হাসান বলেন, ‘আমরা আশা করছি, তিন দিন পর সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের যে যৌথ বৈঠক হবে, সেখানে নারী কর্মীদের পাশাপাশি পুরুষদের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হবে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করতে কাজ করতে হবে দুই দেশকে।

x

Check Also

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ফাইল অনুমোদন নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, অনিয়ম প্রমাণে চ্যালেঞ্জ আসিফ মাহমুদের

এমএনএ প্রতিবেদক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কোনো ফাইলে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ ও প্রমাণ ...