Don't Miss
Home / সারাদেশ / অপারেশন ইগল হান্টে চার জঙ্গি নিহত

অপারেশন ইগল হান্টে চার জঙ্গি নিহত

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন‘ইগল হান্টে আবুসহ চার জঙ্গি নিহত হয়েছেন। চারজনই আত্মঘাতি হয়েছেন।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় শিবগঞ্জের মোবারকপুর ইউনিয়নের ত্রিমোহিনী শিবনগর গ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়ির পাশে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এম খুরশিদ হোসেন এক ব্রিফিংয়ে জানান, সন্ধ্যার আগে সোয়াত সদস্যরা জঙ্গি আস্তানায় ঢুকে পড়ে। তারা জঙ্গি রফিকুল ইসলাম আবুসহ চার জনের মরদেহ উদ্ধার করে। ধারনা করা হচ্ছে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে তারা নিহত হন।

ডিআইজি জানান, সোয়াতের অপারেশন ঈগল হান্ট সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল অভিযান চালাচ্ছে।

এর আগে ওই বাড়ি থেকে এক নারী ও শিশুকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই নারী বাড়িটিতে থাকা জঙ্গি সংগঠন পুরনো জেএমবির সদস্য আবুর স্ত্রী এবং শিশুটি এই দম্পতির সন্তান বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। আবুর স্ত্রী ও সন্তানকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম। এ আস্তানায় অভিযান চলার সময় বিকেল পাঁচটার দিকে ওই নারী এবং এর আধা ঘণ্টা পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

ডিআইজি খুরশিদ হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, চার জঙ্গি নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে ‘অপারেশন ইগল হান্ট’ শেষ। আবু ছাড়া অপর তিনজনের পরিচয় আপাতত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো কোন অভিযানে এক নারী ও এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে বিকেল সোয়া চারটার দিকে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে আহ্বান জানায় পুলিশ। সে সময় এ আহ্বানে কেউ সাড়া দেয়নি। সোয়াতের ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ অভিযান চলাকালে ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এরপর বিকেল পাঁচটার দিকে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।

শিবগঞ্জের মোবারকপুর ইউনিয়নের ত্রিমোহিনী শিবনগর গ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়িতে আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালায় পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াত। সকালে ফের ‘ইগল হান্ট’ নামের অভিযান শুরু হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলার শিবনগর-ত্রিমোহনী গ্রামে জঙ্গি আস্তানা হিসেবে যে বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে, সেটি সাইদুর রহমান ওরফে জেন্টু বিশ্বাসের। একটি আমবাগানে বাড়িটির অবস্থান। আমবাগান ঘেরা ওই একতলা ওই বাড়িতে মাস তিনেক ধরে রফিকুল আলম আবু (৩০) নামের এক ব্যক্তি এবং তার স্ত্রী সুমাইয়া ও দুই সন্তান চারজন থাকতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানায় পুলিশ।

তবে আবুর আরেক সন্তান তার নানির বাড়িতে রয়েছেন বলে অভিযানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গতকাল সোয়াতের পক্ষ থেকে এই আবুকে পুরোনো জেএমবির সদস্য বলে জানানো হয়। আবুর পরিবার ছাড়াও বাড়িতে আরও দুজন থাকতে পারেন বলে পুলিশের ধারণা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাড়িটি থেকে গত রাতে ও আজ ভোরে কয়েক দফা গুলির শব্দ ভেসে আসে। সকাল নয়টার পর সেখান থেকে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ আসে। অভিযান চালাকালে দিনভর থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যায়।

ঘটনাস্থলে সকালেই বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল আসে। সেখানে আছে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ও ফায়ার সার্ভিস। এ ছাড়া হরিজন সম্প্রদায়ের কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়েছে।

দুপুর ১২টার দিকে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে মাইকে মিনিট পাঁচেক ধরে আহ্বান জানায় পুলিশ। কিন্তু এ আহ্বানে কেউ সাড়া দেয়নি।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ‘জঙ্গি আস্তানা’র স্থান থেকে তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। সেখান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়। এরপরই বাড়িটির দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের যেতে দেখা যায়।

জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে গতকাল ভোর থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখে জেলা পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গতকাল ভোর থেকে ঘটনাস্থলের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তা বজায় থাকবে বলে মাইকিং করে জানানো হয়েছে। সাংবাদিকসহ সকল শ্রেণির মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রশাসনের বিভিন্ন ইউনিট সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যার দিকে বাড়িটিতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরু করে সোয়াত। গতকাল সেখান থেকে মুহুর্মুহু গুলি ও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। রাত নয়টার দিকে অভিযান স্থগিত করা হয়। আজ ভোরে ফের অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়।

শিবগঞ্জের যে বাড়িতে অভিযান চলছে, তার প্রায় আধা কিলোমিটার দূরেই আবুর নিজের বাড়ি। পরিবারের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় গত ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি সাইদুরের মালিকানাধীন বাড়িতে বসবাস করছেন বলে জানা যায়।

আবু ত্রিমোহিনী আলিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছেন। স্থানীয় ৮-১০ জনের সঙ্গে চলাফেরা করতেন তিনি।

সূত্র বলেছে, আবুর সঙ্গীদের মধ্যে মাহফুজুর রহমান ওরফে মোহন (২৮) ও আবদুস সালাম (৩৫) নামের দুজনকে গত মঙ্গলবার রাতে শিবনগর থেকে আটক করে পুলিশ। তবে তাঁদের আটক করার বিষয়ে পুলিশ কিছু বলেনি।

গত শুক্র ও শনিবার ঝিনাইদহের একটি বাড়ি ঘিরে অভিযান চালানোর পর ওই বাড়ি থেকে বিপুল বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাজশাহীর একটি এলাকায় কয়েকটি বাড়ি ঘিরে ‘ব্লক রেইড’ চালানো হলেও সেখানে কোনও জঙ্গি আস্তানার খোঁজ পায়নি পুলিশ।

জঙ্গি আবুর পরিচয়

শিবনগর-ত্রিমোহনী গ্রামে আমবাগানের মধ্যে একতলাওইবাড়ির মালিক ৭৫ বছর বয়সী সাইদুর রহমান ওরফে জেন্টু বিশ্বাস। তিনি এলাকায় ধনী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। নিজের পরিবার নিয়ে পাশেই আরেকটি বাড়িতে তিনি থাকেন।

স্থানীয়রা জানান, মাস তিনেক আগে চাচরা গ্রামের দিনমজুর আফসার আলীর ছেলে রফিকুল আলম আবুকে ভাড়া ছাড়াই ওই বাসায় থাকতে দেন জেন্টু বিশ্বাস।

একসময় মাদ্রাসায় পড়া আবু একজন ভ্রাম্যমাণ মসলা বিক্রেতা। আট ও ছয় বছর বয়সী দুটি মেয়ে রয়েছে তার।

ত্রিমোহনীর ওই বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে চাচরা গ্রামে আবুর বাবা-মা থাকেন। সকালে সাংবাদিকরা সেখানে গেলে আবুর মা ফুলছানাবেগমের সঙ্গে তাদের কথা হয়।

তিনি বলেন, প্রায় নয় বছর আগে সুমাইয়া খাতুনের সঙ্গে বিয়ের পর একই উপজেলার আব্বাস বাজারে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন আবু। মাস তিনেক আগে তিনি জেন্টুর বাড়িতে ওঠেন।

ছেলেবেলায় আবু চাচরা গ্রামের মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন বলে জানালেও কোন শ্রেণি পর্যন্ত তিনি পড়াশোনা করেছেন- সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি তার মা।

তিনি জানান, আবু দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড়। বোনের বিয়ে হয়েছে। আর ছোট ভাই আবদুস সবুর রাজমিস্ত্রির কাজ করেন।

সকালে পুলিশ আবুর বাসা ঘিরে ফেলার আগেই কানসাট ইউনিয়নের আব্বাস বাজার এলাকার তিনটি বাড়ি ঘেরাও অভিযান চালানো হয়। তবে সেখানে কাউকে গ্রেপ্তারের কথা পুলিশ স্বীকার করেনি।

x

Check Also

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ফাইল অনুমোদন নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, অনিয়ম প্রমাণে চ্যালেঞ্জ আসিফ মাহমুদের

এমএনএ প্রতিবেদক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কোনো ফাইলে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ ও প্রমাণ ...