এমএনএ রিপোর্ট : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও এর প্রতীক মশালের মালিক হতে যাচ্ছেন হাসানুল হক ইনু-সমর্থিত অংশ। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আজ বুধবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী রবিবার খণ্ডিত জাসদের দুই পক্ষকে চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, হাসানুল হক ইনুর সমর্থিত জাসদই মশাল পেতে যাচ্ছে। কমিশন সে রকম সিদ্ধান্তই নিয়েছে।
কমিশন এ বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, জানতে চাইলে সচিব বলেন, কমিশনার আবদুল মোবারক অন্য কমিশনারদের মতের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারেননি। তিনি এ-সংক্রান্ত নথিতে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।
হাসানুল হক ইনু ও শিরীন আখতার নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদকে মূল ধারা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ফলে নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক মশাল তাদেরই থাকল। শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধানের নেতৃত্বাধীন জাসদকে আলাদাভাবে নিবন্ধন এবং প্রতীক নিতে হবে।
দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন চলার মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সম্মেলনের পর বিভক্ত জাসদের দুই অংশই মশাল প্রতীক চেয়ে ইসির কাছে আবেদন জানায়।
এরপর নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ জানান, চার নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে চলা জাসদের প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ে ইনু নেতৃত্বাধীন জাসদ এর আগেও ইসির স্বীকৃতি পেয়েছিল। ফলে জাসদের অন্য অংশগুলোকে মশাল ছেড়ে ভিন্ন প্রতীক নিতে হয়।
নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মো. শাহনেওয়াজ, জাবেদ আলী ও আবু হাফিজ মশাল প্রতীক ইনুকে দেওয়ার পক্ষে মত দেন। জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক এ নিয়ে ভিন্নমত পোষণ না করলেও জটিলতার আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন।
জাসদের যে ছয়জন দশম সংসদে রয়েছেন, তাদের চারজনই বিদ্রোহী অংশের বলে আম্বিয়ার দাবি। তারা হলেন- মইন উদ্দীন খান বাদল, নাজমুল হক প্রধান, লুৎফা তাহের ও রেজাউল করিম তানসেন।
দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ রাখা তথ্যমন্ত্রী ইনুর পাশাপাশি শিরীন আখতার সংসদ সদস্য রয়েছেন। তারা দুজনই নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন।
অন্য পক্ষের বাদলও নৌকায় পান হন। তবে নাজমুল হক প্রধান ও রেজাউল করিম তানসেন মশাল প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন। লুৎফা সংরক্ষিত আসনের সাংসদ।
মোবারকের বক্তব্য, যেহেতু দুজন মশাল নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, এখন তাদের দলের প্রতীক মশাল না থাকলে তাদের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
এই জটিলতার কথা ইসির শুনানিতে বাদলও জানিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন ইনুর পক্ষে সিদ্ধান্ত দিলে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার আভাসও দিয়েছিলেন তিনি।
গত ১২ মার্চ মহানগর নাট্যমঞ্চে জাসদের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলের নির্বাচন পর্বে কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গন্ডগোল শুরু হয়। এক পক্ষ হাসানুল হক ইনুকে সভাপতি ও শিরীন আখতারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে। অপর পক্ষ জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শরীফ নূরুল আম্বিয়াকে সভাপতি ও নাজমুল হক প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করে। পরে উভয় পক্ষই নিজেদের কমিটি গঠন সম্পর্কিত তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়।
বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশন ৪ এপ্রিল উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক



