আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে এখনই প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরেও ইসির নীরবতা নিয়ে অনেকেই হরেক রকম কথা বলছেন। এ ব্যাপারে আমরা বলতে চাই, সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর ব্যাপারে ইসির ভূমিকা, অবস্থান ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণই প্রমাণ করবে এ নির্বাচন কতোটা গ্রহণযোগ্য এবং প্রশ্নবিদ্ধ হবে?
ইতিমধ্যেই অনেক প্রার্থীর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নানা ধরনের অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগ সাধারণভাবে দাখিল করেছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীসহ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

অভিযোগগুলো গুরুতর- মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় বাধা, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য প্রার্থীকে হুমকি, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষপাতিত্ব, রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ না করা ইত্যাদি। আশা করা হয়েছিল, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিহিত করতে ইসি তার তৎপরতা দেখাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে অভিযোগগুলোর ব্যাপারে ইসি নির্বিকারত্ব দেখিয়ে চলেছে, যেন সেগুলো আমলে নেয়ার মতো নয়। ইসি সচিব তো বলেই ফেলেছেন, ঢালাও অভিযোগ আমলে নেয়া হবে না। তিনি এমন দাবিও করেছেন যে, ইসি এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পায়নি।
প্রথম কথা, ইসি ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমাকৃত অভিযোগগুলোর প্রতিটিই সুনির্দিষ্ট নয়- একথা বিশ্বাস করা কঠিন। অভিযোগ যখন করা হয়েছেই, নিশ্চয়ই সেখানে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা সুনির্দিষ্ট। উপরন্তু বৃহস্পতিবার কমিশন সচিবালয়ে অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠকে কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়। সে বৈঠকে অভিযোগগুলো নিষ্পত্তির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আসলে বোঝাই যাচ্ছে, কার্যকারণ যা-ই হোক, ইসি নির্বাচনী বিধি লংঘনের বিষয়টিতে সিরিয়াস নয়।
যে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে কি-না, তা বহুলাংশে নির্ভর করে নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা ও নিষ্ঠার ওপর। দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান নির্বাচন কমিশন এ পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের যেসব নির্বাচন পরিচালনা করেছে, তাতে এর দক্ষতা ও নিষ্ঠা দুটোই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ধরে নেয়া যায়, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনই বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদকালে শেষ নির্বাচন। সুতরাং আশা ছিল, কমিশন তার শেষ কীর্তিটি দ্বারা অতীতের ব্যর্থতাগুলো ঢাকার প্রয়াস নেবে। কিন্তু এই মুহুর্তেই যেসব আলামত দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যুক্ত হয়েছে। চেয়ারম্যান পদটির নির্বাচন হচ্ছে দলীয় ভিত্তিতে। দেশের সাংঘর্ষিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অনুমান করা চলে যে, দলভিত্তিক নির্বাচন অদলীয় নির্বাচনের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মানে সেখানে সম্পৃক্ত হয়েছে তৃণমূল পর্যায়ের কোটি কোটি মানুষ। এই বিশাল ক্যানভাসে অনিয়ম ও বিশৃংখলার আশংকা বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে কর্মকাণ্ডটি যেহেতু বিশাল, সেহেতু আনুপাতিক হারে বেশি তৎপর থাকা। এক্ষেত্রে নির্বিকারত্ব কিংবা কোনো ধরনের শৈথিল্য নির্বাচনের সুষ্ঠুতা বিঘ্নিত করবে, সন্দেহ নেই। আমরা আশা করব, প্রাথমিক পর্যায়েই নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যেসব অভিযোগ জমা পড়েছে, সেগুলোর নিষ্পত্তি করতে কমিশন সচেষ্ট হবে।
-সম্পাদক
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
