Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / চীনের বাইরে যে ৩৫ দেশে ছড়ালো করোনা ভাইরাস

চীনের বাইরে যে ৩৫ দেশে ছড়ালো করোনা ভাইরাস

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস চীনের বাইরে আরো ৩৫ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৪শ’ এবং মারা গেছে ৩৭ জন।

চীনের বাইরে দক্ষিণ কোরিয়ায় এই ভাইরাস ইতিমধ্যে ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৯৩ এবং নিহত ৯ । এদিকে ইতালিতে আক্রান্ত হয়েছে ২২৯ জন এবং মৃতের সংখ্যা ৭ জন।

এছাড়া করোনায় আতঙ্কে পুরো ইরান। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৬১ জন এবং মারা গেছে ১৪ জন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ইরানের ১৪টি প্রদেশের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য শিক্ষা কেন্দ্রকে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এসব অঞ্চলের মধ্যে কোম, গিলান, মারকাজি, আরদাবিল, কারমানশাহ, কাজভিন, যানযান, মাজান্দারান, গোলেস্তান, হামেদান, আল্বোরজ, সেমনান, কুর্দিস্তান, এবং তেহরান।

সেইসঙ্গে ইরানের সমস্ত হলগুলিতে শিল্প ও সিনেমা অনুষ্ঠান বাতিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এসব দেশ ছাড়াও আফগানিস্তানে ১ জন, অস্ট্রেলিয়ায় ২২ জন, বাহরাইনে ২ জন, বেলজিয়ামে ১ জন, কম্বোডিয়ায় ১ জন, কানাডায় ১১ জন, মিশরে ১ জন, ফিনল্যান্ডে ১ জন ফ্রান্সে ১২ জন, জার্মানি ১৬ জন, হংকং য়ে ৮১ জন, ভারতে ৩ জন, ইরাকে ১ জন, ইসরাইলে ২ জন, জাপানে ৮৪০ জন, কুয়েতে ৮ জন, লেবাননে ১ জন, ম্যাকাও য়ে ১০ জন, মালয়েশিয়ায় ২২ জন, নেপালে ১ জন, ওমানে ২ জন, ফিলিপাইনে ৩ জন, মৃত ১, রাশিয়ায় ২ জন, সিঙ্গাপুরে ৯০ জন, স্পেনে ২ জন, শ্রী লঙ্কায় ১ জন, সুইডেনে ১ জন, তাইওয়ানে ৩০ জন, মৃত ১, থাইল্যান্ডে ৩৭ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৯ জন, যুক্তরাজ্যে ১৩ জন , আমেরিকায় ৫৩ জন, ভিয়েতনামে ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে শনাক্ত হওয়ার পর মাত্র তিন মাসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। সংক্রামক ভাইরাসটি এরইমধ্যে দুই হাজার ছয়শ নিরানব্বই জন মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছেন আরো অন্তত ৮০ হাজার মানুষ।

তবে শনাক্তস্থল চীনেই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু ও আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভয়াবহ আকারে রূপ নেওয়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৭ হাজার ৬৫৮ জন। এছাড়া নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৮ জন। এর বাইরে যে ৩৫টি দেশে কোভিড-১৯ রোগটি ছড়িয়েছে তাতে আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার চারশ জন। আর ওইসব দেশে ভাইরাসটিতে মারা গেছেন ৩৭ জন।

একনজরে দেখে নেওয়া যাক সে পরিসংখ্যান

আফগানিস্তান: আক্রান্ত রোগী একজন; অস্ট্রেলিয়া: ২২ জন আক্রান্ত হয়েছেন; বাহরাইন: দুইজন আক্রান্ত হয়েছেন; বেলজিয়াম: একজন আক্রান্ত হয়েছেন; কম্বোডিয়া: একজন আক্রান্ত হয়েছেন; কানাডা: ১১ জন আক্রান্ত হয়েছেন; মিশর: একজন আক্রান্ত হয়েছেন; ফিনল্যান্ড: একজন আক্রান্ত হয়েছেন।

ফান্স: দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১২ জন আক্রান্ত হয়েছেন, আরা মারা গেছেন একজন; জার্মানি: ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন; হংকং: ৮১ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন দুইজন; ভারত: তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন; ইরান: ৬১ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ১৫ জন; ইরাক: একজন আক্রান্ত হয়েছেন; ইসরায়েল: দুইজন আক্রান্ত হয়েছেন।

ইতালি: দেশটিতে দুইশ ২৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন সাতজন; জাপান: আক্রান্তের সংখ্যা আটশ ৪০ জন, মারা যাওয়ার সংখ্যা চারজন (ছয়শ ৩৯ জন ডায়মন্ড প্রিন্সের জাহাজে কোয়ারেন্টাইনে); কুয়েত: আক্রান্তের সংখ্যা আটজন: লেবানন: আক্রান্ত হয়েছেন একজন: ম্যাকাও: ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন; মালয়েশিয়া: ২২ জন আক্রান্ত হয়েছেন; নেপাল: একজন আক্রান্ত হয়েছেন; ওমান: দুই নারী আক্রান্ত হয়েছেন; ফিলিপাইন: তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন একজন; রাশিয়া: দুইজন আক্রান্ত হয়েছেন; সিঙ্গাপুর: ৯০ জন আক্রান্ত।

দক্ষিণ কোরিয়া: চীনের বাইরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নয়শ ৭৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারাও গেছেন নয়জন; স্পেন: দুইজন আক্রান্ত হয়েছেন; শ্রীলঙ্কা: একজন আক্রান্ত হয়েছেন: সুইডেন: একজন আক্রান্ত হয়েছেন; তাইওয়ান: ৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন একজন; থাইল্যান্ড: ৩৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন; সংযুক্ত আবর আমিরাত: নয়জন আক্রান্ত হয়েছেন; যুক্তরাজ্য: ১৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন; যুক্তরাষ্ট্র: ৫২ জন আক্রান্ত হয়েছেন; ভিয়েতনাম: ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে ভাইরাসের বিস্তার বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে দেশটিতে প্রতি মুহূর্তে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাতে বেশ হিশসিম খেতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে সোমবার বলা হয়েছে, ‘কোভিড-১৯ দিনে দিনে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। কিছু রোগীর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, তাদের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে।’

করোনা ভাইরাস শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সংক্রমণ। এই রোগের কোনো প্রতিষেধক এবং ভ্যাকসিন নেই। মৃতদের অধিকাংশই বয়স্ক যাদের আগে থেকেই শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতা ছিল।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এটি মোড় নিতে পারে নিউমোনিয়া, রেসপিরেটরি ফেইলিউর বা কিডনি অকার্যকারিতার দিকে। পরিণতিতে ঘটতে পারে মৃত্যু।

এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। কারও ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও দেখা দিতে পারে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। সাধারণ ফ্লুর মতোই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এ রোগের ভাইরাস।

x

Check Also

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ফাইল অনুমোদন নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, অনিয়ম প্রমাণে চ্যালেঞ্জ আসিফ মাহমুদের

এমএনএ প্রতিবেদক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কোনো ফাইলে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ ও প্রমাণ ...