Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / জিম্বাবুয়েকে ফের বড় ব্যবধানে হারাল বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়েকে ফের বড় ব্যবধানে হারাল বাংলাদেশ

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রাখলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে এবং নিজেদের ৩য় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৯১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে মাশরাফি বাহিনী। বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ২১৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৩৬.৩ ওভারে ১২৫ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।
জিম্বাবুয়ের পক্ষে সিকান্দার রাজা সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন। এছাড়া গ্রায়েম ক্রেমার ২৩, পিমার মুর ১৪, ক্রেইগ আরভিন ১১ ও কাইল জার্ভিস ১০ রান করেন। এই পাঁচ ব্যাটসম্যান ছাড়া জিম্বাবুয়ের আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অংকের ঘরে যেতে পারেননি।
বাংলাদেশের পক্ষে সাকিব আল হাসান ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া মাশরাফি বিন মুর্তজা, সানজামুল ইসলাম ও মোস্তাফজুর রহমান দুইটি করে এবং রুবেল হোসেন একটি উইকেট নেন।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি জিম্বাবুয়ের। তিন ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ১২ রান তুলে ফেললেও চতুর্থ ওভারে বোলিং এসে হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে তুলে নিয়ে প্রথম আঘাত হানেন টাইগার দলপতি মাশরাফি। স্লিপে সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে মাসাকাদজা করেন ৫ রান।
ইনিংসের সপ্তম ওভারে বল করতে এসে জোড়া আঘাত হানেন সাকিব। তার করা ওই ওভারের পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে সলোমন মিরে ও ব্রেন্ডন টেইলরকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান বাঁহাতি এই স্পিনার। এদের মধ্যে ৭ রান করা সলোমন মিরে ফেরেন সরাসরি বোল্ড আউট হয়ে। আর এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরার আগে কোনো রানই করতে পারেননি টেইলর।
দশম ওভারে বোলিংয়ে এসে আবারও আঘাত হানেন টাইগার দলপতি মাশরাফি। এবার তার শিকার ক্রেইগ আরভিন। মাসাকাদজার মতো অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে স্লিপে সাব্বির রহমানের হাতে ধরা পড়ে সাজঘরে ফেরা আরভিন করেন ১১ রান।
আরভিনের বিদায়ের পর পিটার মুরকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেট জুটিতে দলীয় সংগ্রহে ৩৪ রান যোগ করেন সিকান্দার রাজা। ২৩তম ওভারে বোলিংয়ে এসে পিটার মুরকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন তরুণ স্পিনার সানজামুল। মুর করেন ১৪ রান।
মুর সাজঘরে ফেরার পর ব্যাট করতে নামেন ম্যালকম ওয়ালার। তবে সানজামুলের পরের বলেই এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে জিম্বাবুয়ের ষষ্ঠ উইকেটের পতন হয়। তাদের দলীয় সংগ্রহ তখন ৬৮ রান।
ওয়ালারের বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার। তাকে নিয়ে সপ্তম উইকেট জুটিতে ২৭ রানের আরেকটি জুটি গড়েন সিকান্দার রাজা।
ইনিংসের ৩০তম ওভারে বোলিংয়ে এসে ক্রেমারকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে জুটি ভাঙেন পেসার রুবেল। এর মধ্য দিয়ে দলীয় ৯৫ রানে জিম্বাবুয়ের সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে।
ক্রেমারের বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামেন কাইল জার্ভিস। তাকে নিয়েও প্রতিরোধের লড়াই চালানোর চেষ্টা করেন সিকান্দার রাজা। তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তার সেই প্রচেষ্টা।
ইনিংসের ৩৩তম ওভারে বোলিংয়ে এসে সিকান্দার রাজার প্রতিরোধ ভাঙেন মোস্তাফিজ। সরাসরি বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে রাজা করেন ৩৯ রান।
৩৬তম ওভারে বোলিংয়ে এসে আবারও আঘাত হানেন সাকিব। এবার তার শিকার টেন্ডাই চাতারা। সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তিনি করেন ৮ রান। চাতারার বিদায়ের মধ্য দিয়ে জিম্বাবুয়ের নবম উইকেটের পতন হয়।
৩৭তম ওভারে বোলিংয়ে এসে কাইল জার্ভিসকে আউট করে জিম্বাবুয়ের ইনিংস গুটিয়ে দেন মোস্তাফিজ। মাহমুদুল্লাহ হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরা জার্ভিস করেন ১০ রান।
মঙ্গলবার বেলা ১২টায় ঢাকার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২১৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিকরা।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন ওপেনার তামিম ইকবাল। এছাড়া সাকিব আল হাসান করেন ৫১ রান। সানজামুল ১৯, মুশফিক ১৮ ও মোস্তাফিজ ১৮ রান করেন।
জিম্বাবুয়ের পক্ষে গ্রায়েম ক্রেমার ৪টি, কাইল জার্ভিস ৩টি এবং টেন্ডাই চাতারা ও সিকান্দার রাজা একটি করে উইকেট নেন।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় মাত্র ৬ রানেই প্রথম উইকেট হারায় তারা। তবে দ্বিতীয় উইকেট তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের জোড়া অর্ধশতকে সে ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে টাইগাররা। এই দুই ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর আবারো ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এক পর্যায়ে ১৭০ রান তুলতেই আট উইকেট হারিয়ে দুইশ’ রানের নিচেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ শিবির।
তবে শেষ দিকে সানজামুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেনের দৃঢ়তায় ২১৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয় টাইগাররা।
সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ জেতায় এরই মধ্যে ফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের। অন্যদিকে ফাইনালে উঠতে এই ম্যাচ জয় পেতে হবে জিম্বাবুয়েকে।
এই ম্যাচে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনকে বসিয়ে দলে জায়গা দেওয়া হয়েছে স্পিনার সানজামুল ইসলামকে। অর্থাৎ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের একাদশই খেলাচ্ছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট।
মুস্তাফিজের জন্য উইকেট ছিল আদর্শ। তাকে জিম্বাবুয়ে খেলেছে ভীষণ সাবধানে। প্রথম তিন ওভারই নিয়েছেন মেডেন। শেষ পর্যন্ত তিনিও ঝুলিতে ভরেছেন দুটি উইকেট। পরের স্পেলে ফিরে আরেকটি উইকেট নিয়েছেন সাকিব।
বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক জয়। সাকিবও হতে পারতেন হ্যাটট্রিক ম্যাচ সেরা। ব্যাটে-বলে আবারও ছিলেন দুর্দান্ত। তবে টানা দুই ম্যাচ সাকিব পেয়েছেন বলেই কিনা, এদিন ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠল তামিমের হাতে।
দলের নিশ্চয়ই সেটা নিয়ে ভাবনা নেই। লাগাম যার হাতেই থাকুক, জয়ের রথ তো ছুটছে দূরন্ত গতিতে!
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ : ৫০ ওভারে ২১৬/৯ (তামিম ৭৬, এনামুল ১, সাকিব ৫১, মুশফিক ১৮, মাহমুদউল্লাহ ২, সাব্বির ৬, নাসির ২, মাশরাফি ০, সানজামুল ১৯, মুস্তাফিজ ১৮*, রুবেল ৮*; জার্ভিস ৩/৪২, চাতারা ১/৩৩, মুজারাবানি ০/৩৬, রাজা ১/৩৯, ক্রিমার ৪/৩২, ওয়ালার ০/৩২)
জিম্বাবুয়ে : ৩৬.৩ ওভারে ১২৫ (মাসাকাদজা ৫, মিরে ৭, আরভিন ১১, টেইলর ০, রাজা ৩৯, মুর ১৪, ওয়ালার ০, ক্রিমার ২৩, জার্ভিস ১০, চাতারা ৮, মুজারাবানি ০*; সাকিব ৩/৩৪, মাশরাফি ২/২৯, সানজামুল ২/২৮, মুস্তাফিজ ১/১৬, রুবেল ১/১৮)।
ম্যাচের ফলাফল : বাংলাদেশ ৯১ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : তামিম ইকবাল
x

Check Also

টানা ৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো যাবে না, সতর্ক করল বিআরটিএ

এমএনএ প্রতিবেদক একটানা দীর্ঘ সময় গণপরিবহণ চালানোর ফলে চালকদের ক্লান্তি, ঝিমুনি ও ঘুমের প্রবণতা বাড়ছে, ...