Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / নির্বাচনে অংশ নিন, আর ভুল করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে অংশ নিন, আর ভুল করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়া উচিত। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে তারা যে ভুল করেছিল, তার পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশি কমিউনিটির দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

সিটি কনফারেন্স সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তাঁকে (বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া) এবং তাঁর দলকে সুস্থ রাজনীতির সঠিক পথে আসার আহ্বান জানাতে চাই। হত্যা, লুটপাট ও দুর্নীতির রাজনীতি বাদ দিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নিন। ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাঁরা যে ভুল করেছিলেন, এর পুনরাবৃত্তি করা তাঁদের উচিত নয়। জনগণ যাদের পছন্দ করবে তাদেরই ভোট দেবে।

প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ, তাঁর (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ হারানোর পর হিলারি ক্লিনটনকে প্ররোচিত করে তাঁকে (শেখ হাসিনা) ফোন করানো এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে তিনবার তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে হুমকি দেওয়া নিয়ে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘ভূমিকা’র কঠোর সমালোচনা করেন।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সমালোচনা অব্যাহত রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া মেট্রিক পাস করতে পারেননি। জিয়াউর রহমান কোনোভাবে তা পাস করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, তাঁদের ছেলেরা কোন শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে, সে বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না, আপনারা তা ভালো করেই জানেন এবং এটাই তাঁদের মান।

শেখ হাসিনা বলেন, একটা জিনিস তারা (বিএনপি) খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে, তা হলো কীভাবে অর্থ বানানো যায়, কমিশন নেওয়া যায় এবং “হাওয়া ভবনের” নামে সম্পদ জমানো যায়। তাই দেশের জনগণ ভালো থাকলে খালেদা জিয়া ভালো বোধ করেন না। খালেদা জিয়া ভালো বোধ করবেন যদি তিনি আবার লুটপাট, হত্যা ও জনগণের সম্পদ ধ্বংস করার সুযোগ পান।

তিনি (খালেদা) আজ (বৃহস্পতিবার) এক বক্তব্যে বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন খুব খারাপ অবস্থায় আছে। তিনি এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন, কিন্তু উচ্চ আদালতে ১৫০ বার রিট পিটিশন করে এবং ১৪০ বার সময়ের সুযোগ চেয়ে হেরে এখন বিচারের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছেন। এখন খারাপ সময় তাঁদের জন্য, বাংলাদেশের জন্য নয়।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষ যখন ভালো থাকে বিএনপি নেতা তখন স্বস্তি অনুভব করেন না। তারা স্বস্তি অনুভব করেন যখন তারা লোকদের হত্যা করেন এবং দেশের সম্পদ ধ্বংস করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন হাওয়া ভবন খুলে জনসাধারণের অর্থ লুট করেছে এবং অবাধে দুর্নীতি করেছে। খালেদা জিয়া শুধু লুট ও কমিশন নেয়া জানে এবং তারা কেবলমাত্র জানে কিভাবে সম্পদ ধ্বংস করতে হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পুনরায় জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, বিএনপি নেতারা ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালানের সঙ্গে যুক্ত।

তিনি বলেন, তারা আমার জীবননাশের কয়েকবার চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমি রাজনীতি, দেশ এবং জনগণের স্বার্থে এই ঘটনাগুলো ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।

প্রধানমন্ত্রী ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি হত্যা ছাড়া অন্য কিছুই বোঝে না এবং ধ্বংসের বাইরে কোনো কিছুই জানে না। দেশবাসীর ওপর বিএনপি যে নির্যাতন চালিয়েছে, জনগণ তা ভুলবে না।

শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি জনগণের সামনে বিএনপি’র সন্ত্রাসী কার্যক্রম তুলে ধরার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, জনগণকে অবহিত করতে হবে যে বিএনপি একটি জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠন এবং তারা মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। জনগণের সামনে তাদের চরিত্রকে উন্মোচিত করতে হবে।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরোধী সরকারের প্রচার কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদীরা দেশের কোথাও স্থান পাবে না।

তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং এই ধর্ম কখনো নিরীহ মানুষ হত্যার সমর্থন দেয় না। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে আমরা ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছি।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, অভিযানে যখন কোন জঙ্গি নিহত হয় বিএনপি চেয়ারপারসন মায়া কান্না করেন।

সুইডেনের রাজা ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। সাধারণ মানুষের হাতে হাতে এখন মুঠোফোন ও ল্যাপটপ রয়েছে। দেশজুড়ে মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াতের অপশাসনের সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল কম। তারা জনগণকে বিদ্যুতের খাম্বা দিয়েছে। বিদ্যুত দিতে পারেনি।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত সাহায্য তহবিল লুট করেছে, তারা জনগণকে দরিদ্র রাখতে চেয়েছে এবং তারা দেশকে দুর্দশাগ্রস্ত ও মানুষের মৃতদেহ দেখিয়ে আরো বিদেশী সাহায্য নিয়ে আসতে চেয়েছে।

তিনি বলেন, অপরদিকে আওয়ামী লীগের নীতি হলো দেশকে নিজের পায়ে দাঁড় করানো, অন্যের কাছ থেকে ভিক্ষা গ্রহণ নয়। আমরা মর্যাদার সঙ্গে বাস করবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আর তাঁর দল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় জড়িত। বারবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু আমি রাজনীতি, জনগণের স্বার্থ এবং গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে তা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।

বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি তৎপরতার স্থান না দেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, কোনো নির্দোষ মানুষকে হত্যা ইসলাম সমর্থন করে না। যেকোনো মূল্যে সন্ত্রাস ও জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমরা বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। বিএনপিকে তিনি ‘সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী সংগঠন’ বলে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...