প্রধানমন্ত্রী আজ চট্টগ্রাম যাচ্ছেন
Posted by: News Desk
March 21, 2018
এমএনএ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এক দিনের সফরে আজ বন্দরনগর চট্টগ্রামে আসছেন। তাকে স্বাগত জানাতে চট্টগ্রাম নগরী থেকে পটিয়া পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে নানা রঙের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। অসংখ্য তোরণ তৈরি করা হয়েছে। তার আগমনকে ঘিরে চট্টগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
এ সফরে প্রধানমন্ত্রী দুটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সকালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঈসা খাঁ প্যারেড গ্রাউন্ডে যাবেন তিনি। সেখানে নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডকে তিনি ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করবেন। বিকালে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পটিয়া আদর্শ স্কুল মাঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। ভাষণের আগে জনসভাস্থল থেকে ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার এসব প্রকল্প চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায়। পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দলীয় প্রধানের জনসভাকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
নৌকার আদলে তৈরি করা জনসভা মঞ্চটি আড়াইহাজার ফুটের। ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩২ ফুট প্রস্থের বিশাল এই মঞ্চে দুই শতাধিক নেতার বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাবেশ স্থলে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ ভিআইপি, সিআইপি, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদাভাবে আসন করা হয়েছে।
১৭ বছর পর শেখ হাসিনা পটিয়া আসছেন। সর্বশেষ ২০০১ সালে তিনি ওই বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় এসেছিলেন। আর ২০১০ সালের শেষ দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে কর্ণফুলী এলাকায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০১২ সালে নগরের পলোগ্রাউন্ড এবং ২০১৩ সালে ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেন দলীয় প্রধান।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পটিয়ায় কয়েক দিন থেকে সাজসাজ রব। সেখানে দুটি হেলিপ্যাডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরেও ব্যাপকভাবে সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে। নৌবাহিনীর অনুষ্ঠানে আসা-যাওয়ার পাশাপাশি পটিয়ায় সড়কপথে তাঁর গাড়িবহর যেতে পারে। এ কারণে নগরের বিভিন্ন সড়ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজ বুধবার চট্টগ্রাম সফরকালে পটিয়ার জনসভাস্থলে চট্টগ্রামের ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এর মধ্যে ১৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন হবে। অন্য উন্নয়ন প্রকল্পগুলো প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তরের পর নির্মাণকাজ শুরু হবে। তিনি চট্টগ্রাম থেকে হেলিকপ্টারে পটিয়া যাবেন।
উদ্বোধন করা হবে এমন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে : সিডিএ’র মুরাদপুর ২নং গেট ও জিইসি মোড় জংশন পর্যন্ত নির্মিত আক্তারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার, চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স, ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ কালুরঘাট-মনসারটেক জাতীয় মহাসড়ক, ৮১ দশমিক ৯৮ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু (মিলিটারি সেতু) এবং পটিয়া-চন্দনাইশ বৈলতলী সড়কের খোদারহাট সেতুর উদ্বোধন করা হবে।
এছাড়া বাংলাদেশ মহিলা সমিতি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজের আইসিটি সুবিধাসহ ৫তলা একাডেমিক ভবন উদ্বোধন করা হবে।
পটিয়া উপজেলার খলিল মীর ডিগ্রি কলেজ, বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম বাঁশখালী উপকূলীয় ডিগ্রি কলেজ, ফটিকছড়ি উপজেলার হোয়াকো বনানী কলেজ, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাঙ্গুনিয়া মহিলা কলেজ, মিরসরাইয়ের প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের আইসিটি সুবিধাসহ ৪ তলা একাডেমিক ভবন উদ্বোধন করা হবে। পাশাপাশি নাজিরহাট (মাইজভাণ্ডার সড়ক) শেখ রাসেল ভাস্কর্য এবং পটিয়া উপজেলার দক্ষিণ ভূর্ষি শেখ রাসেল মঞ্চের উদ্বোধন করা হবে।
যেসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে : চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মিতব্য এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী নদীর তীরে কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ, চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প।
এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার সাঙ্গু ও ডলু নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প, চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য বৃদ্ধি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।
এ ছাড়া ৮টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র বা ৩৩/১১ কেভি বিশিষ্ট নতুন জিআইএস উপকেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। নগরীর অনন্যা আবাসিক এলাকা, মইজ্যারটেক, রহমতগঞ্জ, কালুরঘাট, অক্সিজেন, কাট্টলী, মনসুরাবাদ, এফআইডিসি ও কল্পলোক আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হবে।
এছাড়া বিভিন্ন উপজেলার চারটি সড়ক-মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এগুলো কেরানীহাট-সাতকানিয়া গুণাগরী মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প, পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প, মিরসরাই উপজেলায় বড়তাকিয়া (আবু তোরাব) থেকে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংযোগ সড়ক নির্মাণ, বারৈয়ারহাট (চট্টগ্রাম জোন)-হোঁয়াকো-নারায়ণহাট-ফটিকছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প। দুইটি গার্ডার ব্রিজ ও একটি সেতু নির্মাণ প্রকল্পেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।
পটিয়া চট্টগ্রামের নিকটবর্তী উপজেলা। একসময় মহকুমা হিসেবে প্রশাসনিক মর্যাদা পেয়েছিল পটিয়া। পরে দেশের প্রায় সব মহকুমাকে জেলায় রূপান্তরিত করা হলেও বাদ যায় পটিয়া। তাই আজকের জনসভায় পটিয়াকে পৃথক জেলা ঘোষণার দাবি উঠতে পারে বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করার আহ্বান প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর : প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নৌকা আকৃতিতে ২ হাজার ৫৬০ ফুটের জনসভা মঞ্চ তৈরির কাজ পরিদর্শনকালে এক পথসভায় মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
সভায় মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকার জনবান্ধব বলেই দেশ আজ উন্নতির চরম শিখরে উপনীত হয়েছে। দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামীতেও আওয়ামী লীগ সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে।
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ওপর চট্টগ্রামবাসীর যে আস্থা রয়েছে, তার প্রমাণ দেখাতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় অংশ নিয়ে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে।’ এ সময় চট্টগ্রাম নগর ও পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পটিয়ায় জনসভায় তিন লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে। আমরা আশা করছি, দুপুর ১২টার আগেই জনসভাস্থলে জায়গা থাকবে না। সে কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা আরো লাখো মানুষ যাতে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনতে পারে সে জন্য আশপাশের পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় প্রজেক্টরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনসভা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি।’
আজ চট্টগ্রাম প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন 2018-03-21