উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যদি নিম্নগুরুত্বসম্পন্ন বিষয় নিয়ে যত্রতত্র কথা বলতে হয়, তবে তা খুব বিব্রতকর। দুঃখজনকভাবে সুপ্রিম কোর্টের একজন সদস্য অবসরে যাওয়া বিচারক প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্ত ও অভিমতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে প্রকাশ্যে কথাবার্তা বলে এই বিব্রতকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন করেছেন দেশবাসীকে। এমনটি কেউ আশা করেনি। তাই ভবিষ্যতে যাতে বিচার বিভাগের মর্যাদা সমুন্নত থাকে সে বিষয়ে সবারই সতর্কতা অত্যাবশক।
এটা খুবই দুঃখজনক কেবল নয়, সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদার হানি ঘটায় বলে রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর। মর্যাদাপূর্ণ পদে উপযুক্ত লোক নিযুক্ত না হলে এবং পদমর্যাদা অনুযায়ী আচরণ না করতে পারলে এমনটা ঘটে। এর আগে বেঞ্চ গঠনের মতো সুপ্রিম কোর্টের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক এবং প্রধান বিচারপতির এখতিয়ারাধীন বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। উক্ত বিচারকের অভিযোগ জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে লেখা চিঠি তৎক্ষণাৎ গণমাধ্যমে পৌঁছে গিয়ে বিপত্তি সৃষ্টি করেছে। এ রকম চিঠি গণমাধ্যমের হাতে দেওয়া গুরুতর অসদাচরণ।
বিচারকগণের অবসরে যাওয়ার পরে রায় লেখার বিষয়ে আমরা মনে করি, গণবিতর্ক না তুলে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় নিষ্পত্তি কাঙ্ক্ষিত ছিল। শপথের সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে চাওয়া অবশ্যই সঙ্গত নয়। সবকিছু সংবিধান বা আইনে লেখা থাকেও না। নতুন নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। বিচার বিভাগ সিদ্ধান্ত দ্বারাই দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, যা আইনের মর্যাদা পায়। সংবিধান সংশোধনযোগ্য হলেও অমান্যযোগ্য নয়। যেভাবেই হোক, এক-দেড় বছর পরে রায় লেখা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আর বিনা অনুমতিতে সুপ্রিম কোর্ট ভবনে সংবাদ সম্মেলন করা এবং বিচারকদের একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন চিন্তারও অতীত- অথচ এটাই ঘটেছে।
গতকাল সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় একজন আইনজীবী ‘আমতলা গাছতলায়’ দাঁড়িয়ে প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্যের জন্য উক্ত অবসরপ্রাপ্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। আমরা আশা করব, বিচারক ও আইনজীবীসহ বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা নিজ যোগ্যতায় বিচার বিভাগের মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষা করবেন। নইলে আমাদের নাগরিকদের যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না।
সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের প্রতীক। সাম্প্রতিক সময়ে বিচার বিভাগের পৃথক্করণ, সংবিধানের পঞ্চম-সপ্তম সংশোধনী বাতিল ও সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ট্রাইব্যুনালের রায়গুলোর আপিল নিষ্পত্তি প্রভৃতি মাইলফলক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আমাদের সুপ্রিম কোর্ট আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এর প্রতিটিই জাতি গঠনের ভালো উপাদান। সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা সমুন্নত থাক।
-সম্পাদক।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক


