Don't Miss
Home / আইন আদালত / বিচারপতি জয়নুলকে নিয়ে রুলের রায় আগামীকাল

বিচারপতি জয়নুলকে নিয়ে রুলের রায় আগামীকাল

এমএনএ রিপোর্ট : আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোঃ জয়নুল আবেদীনের দুর্নীতি অনুসন্ধান বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সুপ্রিম কোর্র্ট প্রশাসনের দেওয়া চিঠির বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।
আজ সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।
গত ৩১ অক্টোবর এ বিষয়ে জারি করা রুলের শুনানি শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
ওই দিন আদালতে শুনানি করেন হাইকোর্ট নিযুক্ত অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন এবং বিচারপতি জয়নুলের পক্ষে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন।
দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ খুরশীদ আলম খান। এর আগে শুনানি করেন অপর দুই অ্যামিকাস কিউরি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও এএম আমিন উদ্দিন।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের দুর্নীতির অনুসন্ধান বন্ধে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের দেওয়া চিঠি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই চিঠির বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধানের কথা উল্লেখ করে তার চাকরির মেয়াদসংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও বেতনভাতা, অবসর সুবিধা খাতে গৃহীত অর্থের বিবরণী চেয়ে ২ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর চিঠি দেয় দুদক।
এর জবাবে ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুনাভ চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দুদকে পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
ওই চিঠিতে বলা হয়, উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে- বিচারপতি জয়নুল আবেদীন দীর্ঘকাল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অনেক মামলার রায় দেন। অনেক ফৌজদারি মামলায় তার প্রদত্ত রায়ে বহু আসামির ফাঁসিও কার্যকর করা হয়েছে। সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচারপতি প্রদত্ত রায় সবার ওপর বাধ্য করে। এহেন পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ আদালতের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তার প্রদত্ত রায়গুলো প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং জনমনে বিভ্রান্তির উদ্রেক ঘটবে। ফলে জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনোরকম ব্যবস্থা গ্রহণ সমীচীন হবে না মর্মে সুপ্রিম কোর্ট মনে করে।
৯ অক্টোবর ওই চিঠি এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনীজীবি বদিউজ্জামান তফাদার।
এতে সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের দুর্নীতির অনুসন্ধান বন্ধে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের চিঠি কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
উল্লেখ্য, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১০ সালের ১৮ জুলাই সম্পদের হিসাব চেয়ে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে নোটিশ দেয় দুদক।
ওই নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে তিনি ওই বছরের ২৫ জুলাই হাইকোর্টে রিট আবেদন করলেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ হয়ে যায়।
পরে ওই বছরের ২৫ অক্টোবর দুদক আবার সম্পদের হিসাব দাখিল করতে নোটিশ দিলেও বিষয়টি থেমে ছিল।
গত জানুয়ারিতে আবার তাকে নোটিশ দিয়ে আগের সম্পদের হিসাব স্পষ্ট করতে দুদকে হাজির হতে বলা হয়। পাশাপাশি তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে ২ মার্চ সুপ্রিম কোর্টকে চিঠি দেয়। এ নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে। গত ১০ জুলাই হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেন অবসরপ্রাপ্ত এই বিচারপতি।
x

Check Also

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড; বললেন, ফরমায়েশী

আদালত প্রতিবেদক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় ...