Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / মার্চে অনুষ্ঠেয় বাণিজ্য মেলায় করোনা ছড়িয়ে সর্বনাশের আশঙ্কা
বাণিজ্য মেলা

মার্চে অনুষ্ঠেয় বাণিজ্য মেলায় করোনা ছড়িয়ে সর্বনাশের আশঙ্কা

এমএনএ শিল্প ও বাণিজ্য ডেস্কঃ এবার বাণিজ্য মেলায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ভয় ও সর্বনাশের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেছেন, করোনা নিয়ন্ত্রণ না করে মেলার আয়োজন করা ঠিক হবে না। স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। বাড়বে ঝুঁকি। জানা গেছে, রাজধানীর অদূরে পূর্বাচলে নবনির্মিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ছোট পরিসরে ২৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বা ডিআইটিএফ-২০২১ শুরু হবে। আগামী ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জম্মদিন বা ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে এ মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পরিবর্তে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণখালীর বাগরাইয়াটে (পূর্বাচলে) বাংলাদেশ-চায়না

ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মেলা হবে। চীনের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার বুঝে পাবে সরকার। এরপরই মেলার কর্মযজ্ঞ শুরু করবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবি।

ইপিবি সূত্র জানায়, গত ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ইপিবি বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, করোনা পরিস্থিতি অনূকূলে থাকলে এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির ভিত্তিতে আগামী ১৭ মার্চ বা ২৬ মার্চ বাণিজ্য মেলা এবং বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তবে এবারের মেলায় সবাই অংশ নিতে পারছেন না। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ২ হাজার দর্শনার্থী মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। এ জন্য দর্শনার্থীদের প্রবেশ টিকিট ও আমন্ত্রণপত্র অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে সংগ্রহ করতে হবে। বিকাশে পেমেন্ট দিয়ে মিলবে টিকিট। এ প্রসঙ্গে ইপিবি সচিব মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমাদের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হলো, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেলে মার্চে পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন হবে।

পূর্বাচলে মেলার প্রস্তুতি সম্পর্কে ইপিবির প্রকল্প পরিচালক রেজাউল করিম গতকাল বলেন, পূর্বাচলে মেলার যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ না। বাস নিয়মিতই চলে। মেলা চলাকালীন আলাদা বাসের ব্যবস্থা থাকবে।

তবে দেশের প্রাচীন বাণিজ্য সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-ডিসিসিআই সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান গতকাল বলেন, বাণিজ্য মেলায় বিদেশি অংশ গ্রহণকারীরা আসেন। আগামী তিন মাসে করোনা কোন দিকে যাবে সেটা বড় বিষয়। মার্চে মেলা হলে দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। ভালোর চেয়ে খারাপ যেন না হয়। সামাজিক দূরত্ব না হলে ভয় ও সর্বনাশের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। উন্নত বিশ্বে নিয়মিত মেলাগুলো এখন হচ্ছে না। সে বিবেচনায় মেলা পিছিয়ে দেওয়া উচিত। অনলাইনেও মেলা করা যেতে পারে। ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ গতকাল বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলা করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে।

ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন-এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মুনতাকিম আশরাফ গতকাল বলেন, বাণিজ্য মেলা করা উচিত। তবে করোনা প্রেক্ষাপটে অনেক চ্যালেঞ্জিং ও ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে ছোট পরিসরে মেলা হতে পারে।

নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন উইমেন এন্টারপ্রেনিয়ার অব বাংলাদেশ-ওয়েব সভাপতি নাসরিন আউয়াল মিন্টু গতকাল বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে বিশাল জনসমাগমের বাণিজ্য মেলা হলে বড় ধরনের সর্বনাশ হয়ে যাবে। বড় ধরনের অভিঘাত আসবে। বিষয়টি মেলার আয়োজক, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান, বিক্রেতা ও ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য হবে বিশাল চ্যালেঞ্জিং। তবে করোনা চলে গেলে বা টিকার নিশ্চয়তা পাওয়ার পর মেলা আয়োজনের তাগিদ দিয়েছেন এ নারী উদ্যোক্তা।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ বছর ধরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অস্থায়ী জায়গায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছর জানুয়ারির ১ তারিখ প্রধানমন্ত্রী এ মেলা উদ্বোধন করেন। এবার পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে বসবে এ মেলা। ২০ একর জমিতে এ প্রদর্শনী সেন্টার করেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিএসসিইসি)। এটি বাংলাদেশ ও চীনের একটি যৌথ প্রকল্প। ৭৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের ৬২৫ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে দিয়েছে চায়না এইড।

x

Check Also

আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ...