এমএনএ জাতীয় ডেস্কঃ রাজধানীতে আবারও বাসে আগুন সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীতে মোট সাতটি স্থানে বাসে আগুন লাগানো হয়। তবে এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন প্রাণহানী ঘটেনি।
এই ঘটনায় দুর্বৃত্তরা চিহ্নিত বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
বৃহস্পতিবার দুপুরের বিভিন্ন সময়ে জধানীর শাহবাগ, প্রেস ক্লাব, গুলিস্তান, মতিঝিল, নয়াবাজার ও শাহজাহানপুর এলাকায় এসব বাসে আগুন লাগে। পরে বিকেল সোয়া চারটার দিকে ভাটারার কোকাকোলা মোড়ের কাছে আরও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর আগে ২০১৪ সালে দীর্ঘ কয়েক মাস আন্দোলনের নামে বাসে অগ্নিসন্ত্রাস ঘটেছিল।
আজ দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা দেড়টার মধ্যে রাজধানীর ছয়টি স্থানে একটি করে মোট ছয়টি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম ঘটনা ঘটে শাহজাহানপুরে। এরপর কাঁটাবন, মতিঝিলের মধুমিতা সিনেমা হলের কাছে, গুলিস্তানে গোলাপ শাহ মাজার এলাকা, বংশালের নয়াবাজার ও প্রেসক্লাবের কাছে বাসে আগুন দেওয়া হয়। প্রতিটি ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর কাজ করেছে। এর মধ্যে কাঁটাবনে বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
পুলিশ ধারণা করছে যাত্রীবেশে কেউ বাসগুলোতে আগুন লাগিয়ে নেমে গেছে। তবে কে বা কারা লাগিয়েছে, কেন লাগিয়েছে, তার কারণ জানা যায়নি।
পল্টন থানার (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘গুলিস্তানে রমনা ভবনের সামনে পল্টন থেকে সদরঘাটগামী ভিক্টর ক্লাসিক গাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে কেউ আগুন লাগিয়ে দিতে পারে। বাসটি যাত্রী বোঝাই ছিল।’
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মামুন অর রশিদ বলেন, ‘আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রেস ক্লাবের সামনে ঘাটারচর টু চিটাগাং রোডে চলাচলকারী রজনীগন্ধা পরিবহনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সেখানেও হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।’
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. ওয়ালিদ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে বাসে আগুন দিয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন স্থানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, ঢাকা-১৮ আসনে চলমান উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
